পোল্ট্রি উপখাতের সমস্যা ও সম্ভাবনা

বাংলাদেশের একটি সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক খাত পোল্ট্রি শিল্প। এটি কৃষি অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপখাত। সম্প্রতি এর প্রবৃদ্ধিতে ভাটা পড়েছে। এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা বা বার্ডফ্লুসহ বিভিন্ন রোগের প্রকোপে এবং উচ্চ খাদ্যমূল্য ও ওষুধের মূল্যবৃদ্ধির অভিঘাতে বিপর্যয়ের মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়েছে পোল্ট্রি খামারগুলো। ইতোমধ্যেই বন্ধ হয়ে গেছে ছোট ও মাঝারি ধরনের অসংখ্য খামার। তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে খামারের মালিকগণ। কর্মচ্যুত হয়েছে অনেক শ্রমিক। বাজারে দাম বেড়েছে জীবন্ত মুরগির। দাম বেড়েছে বাচ্চার। খামার পরিচালনার খরচ বেড়েছে। হ্রাস পেয়েছে মুনাফা। ইতোমধ্যেই অনুপ্রবেশ ঘটেছে বিদেশি পুঁজির। তাতে এক অসম প্রতিযোগিতার মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়েছে দেশি পুঁজিতে গড়ে উঠা সীমিত আয়ের খামারগুলো।

 

বাংলাদেশে হাঁস-মুরগির খামারগুলো ছিল সনাতন। তা প্রতিপালন হতো পারিবারিক পর্যায়ে। ব্যবসায়িক ভিত্তিতে পোল্ট্রি খামারের উত্থান ঘটে আশির দশক থেকে। তাতে লাগে নতুন প্রযুক্তি ও আধুনিকতার ছোঁয়া। অনেক ব্যবসায়ী তাতে বিনিয়োগ করেছে বিপুল অঙ্কের টাকা। গড়ে উঠেছে বড় ধরনের খামার। অনেক কর্মহীন যুবক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে গড়ে তুলেছে ছোট ও মাঝারি গোছের পোল্ট্রি খামার। তাতে দ্রুত সম্প্রসারণ ঘটেছে পোল্ট্রি শিল্পের। বিগত ৮০ এবং ৯০-এর দশকে হাঁস-মুরগির সংখ্যা বেড়েছে বার্ষিক গড়ে ৪ শতাংশের উপরে। বর্তমান শতাব্দির প্রথম দশকে তা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পায়। এর কারণ দুটো। প্রথমত দেশব্যাপী এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রকোপ। দ্বিতীয়ত পোল্ট্রি খাদ্যের উপকরণ সয়াবিন ও ভুট্টার মূল্যবৃদ্ধি। দেশে এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রকোপ শুরু হয় ২০০৭ সালে। ওই বছর সাভারস্থ বিমান পোল্ট্রি কমপ্লেক্সে এই রোগটি প্রথমে শনাক্ত করা হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে তা ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। তারপর থেকে প্রতি বছরই এ রোগটির প্রকোপ কমবেশি লক্ষ্য করা গেছে। কিন্তু যে হারে রোগের প্রাদুর্ভাব হয়েছে সে তুলনায় সরকারি সহায়তা ছিল অপ্রতুল। রোগাক্রান্ত খামারে মুরগি ধ্বংসের পর সময়মতো ক্ষতিপূরণের টাকা পাওয়া যায়নি। তদুপরি ঋণপ্রাপ্তির অনিশ্চয়তা ও ঋণের চড়া সুদ ক্ষতিগ্রস্ত খামারগুলোর পুনর্বাসনে ও নতুন খামার স্থাপনে অনীহা সৃষ্টি করেছে। এরই মধ্যে বিরূপ আবহাওয়ার কারণে আমেরিকাসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সয়াবিন ও ভুট্টার উত্পাদন হ্রাস পেয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে হ্রাস পেয়েছে এসব পণ্যের সরবরাহ। বৃদ্ধি পেয়েছে দাম। এসব পণ্য পোল্ট্রি খাদ্যের অন্যতম উপকরণ এবং আমরা এগুলোর জন্য আমদানি-নির্ভর বিধায় অভ্যন্তরীণ বাজারেও এগুলোর দাম বিপুল পরিমাণে বেড়েছে। তাতে বৃদ্ধি পেয়েছে খামারের উত্পাদন খরচ। ফলে অনেক খামার উত্পাদনে আর ফিরে আসতে পারেনি। বিলুপ্ত হয়েছে অনেক ছোট ও মাঝারি খামার। এ শতাব্দির গোড়ার দিকে দেশে পোল্ট্রি খামারের সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার। বর্তমানে তা নেমে এসেছে প্রায় ৬০ হাজারে। এটা পোল্ট্রি শিল্পের এক বড় সংকটকাল। এ নিয়ে দেশের খামারিরা চিন্তিত, উদ্বিগ্ন।

 

বর্তমানে দেশের পোল্ট্রি শিল্পে বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা। তাতে নিয়োজিত রয়েছে প্রায় ৬০ লাখ মানুষ। আমাদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাণিজ আমিষের যোগানের ৪০ শতাংশ আসে পশু-পাখি থেকে। বাকি ৬০ শতাংশ আসে মত্স্য সম্পদ থেকে। পশু-পাখি থেকে আসা মোট প্রাণিজ আমিষের এক-তৃতীয়াংশ আসে পোল্ট্রি থেকে। দেশে বর্তমানে পোল্ট্রির সংখ্যা প্রায় ৩১ কোটি। তার ৪০ শতাংশ গ্রামীণ চড়ে খাওয়া পাখি। বাকি ৬০ শতাংশই নিবিড় ও আধা নিবিড় পদ্ধতিতে প্রতিপালিত খামারের পাখি। আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী সবার জন্য পুষ্টির সরবরাহ নিশ্চিত করতে হলে পোল্ট্রি খামারগুলোকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। তাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। তার লক্ষ্যমাত্রা হতে হবে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা। পোল্ট্রি শিল্পের বর্তমান সংকট নিরসন করা সম্ভব না হলে এতো বিনিয়োগ বৃদ্ধি সম্ভব হবে না।

 

ইতোমধ্যেই আমাদের পোল্ট্রি শিল্পে বিদেশি পুঁজি আনতে শুরু করেছে। বর্তমানে এখানে নিয়োজিত আছে ৭টি বিদেশি কোম্পানি। এর মধ্যে ৫টি ভারতের, ১টি থাইল্যান্ডের এবং ১টি চীনের। ভারতীয় কোম্পানিগুলোর মধ্যে আছে ভিএইচ গ্রুপ, গোদরাজ, সগুনা, টাটা এবং অমৃত গ্রুপ। তাছাড়া আছে থাইল্যান্ডের সিপি এবং চীনের নিউহোপ। এগুলো দেশের পোল্ট্রি শিল্পের শতকরা প্রায় ৩০ ভাগ পুঁজি নিয়ন্ত্রণ করছে। এদের সঙ্গে এক অসম প্রতিযোগিতা গড়ে উঠেছে দেশি খামারগুলোর। বিদেশি অর্থপুষ্ট খামারগুলো ঋণ নিয়ে আসছে ৩ থেকে ৪ শতাংশ সুদে। আমাদের দেশি খামারগুলোকে ঋণ সংগ্রহ করতে হচ্ছে ১০ থেকে ১২ শতাংশ সুদে। তাই বিদেশি খামারগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে স্থানীয় বড় খামারগুলোকেও অনেক হিমশিম খেতে হচ্ছে। ঝরে পড়ছে ছোট খামারগুলো। বর্তমানে ফসল কৃষিখাতে মসলা ফসল চাষের জন্য ৪ শতাংশ সুদে প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ দেওয়া হচ্ছে। দুগ্ধ খামার গড়ে তোলার জন্য পশু ক্রয়ে ঋণ দেওয়া হচ্ছে ৫ শতাংশ হারে। এমতাবস্থায় আমাদের পোল্ট্রি শিল্পকে টিকিয়ে রাখার জন্য ৪ থেকে ৫ শতাংশ সুদে প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

 

পোল্ট্রি উত্পাদনে যে খরচ হয় তার ৬৮ শতাংশ খাদ্য খরচ, ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ বাচ্চা ক্রয়ের খরচ, ৫ শতাংশ ওষুধের খরচ, ৪ শতাংশ শ্রমিকের মজুরি এবং বাকি অন্যান্য খরচ। বর্তমানে পোল্ট্রি খাদ্যের খরচ, বাচ্চার দাম, ওষুধ ও শ্রমিকের মজুরি অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষভাবে বেড়েছে খাদ্যের দাম। পোল্ট্রি খাদ্যের অন্যতম উপকরণ ভুট্টার উত্পাদন হ্রাস পেয়েছে সারা বিশ্বে। ফলে মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের প্রয়োজনীয় ভুট্টার ৬০ শতাংশ দেশে উত্পাদিত হয়। বাকি ৪০ শতাংশ আমদানিকৃত। এর উপর বসানো হয়েছে ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর। তাছাড়া  পোল্ট্রি  ফিডের কাঁচামাল সয়াবিন মিল এবং অয়েল কেক এর উপর যথাক্রমে ১০ ও ৫ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। ফলে পোল্ট্রি খাদ্যের দাম ইদানিং বেড়ে গেছে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ। সরকার কৃষির অন্য উপখাতে বিশেষ করে ফসল কৃষিখাতে ভর্তুকি দিচ্ছে। এর মধ্যে বড় ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে শস্য উত্পাদনের অন্যতম উপকরণ রাসায়নিক সারের উপর। তেমনি ভাবে পোল্ট্রির উত্পাদনে ব্যবহূত উপকরণ খাদ্যের উপর ভর্তুকি দেওয়া যেতে পারে। তাতে পোল্ট্রি খাদ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে থাকবে। তাছাড়া পোল্ট্রির ওষুধ ক্রয়ের ক্ষেত্রেও খামারিদের জন্য ভর্তুকি প্রযোজ্য হতে পারে। তাতে ওষুধের ব্যবহার উত্সাহিত হবে এবং উত্পাদন খরচ হ্রাস পাবে।

 

পোল্ট্রি উত্পাদনে বাচ্চার ক্রয় খরচ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাজারে মুরগির বাচ্চার দাম ইদানিং অনেক বেড়ে গেছে। ব্রয়লারের একদিনের বাচ্চার দাম ৬০ থেকে ৭০ টাকা। লেয়ারের বাচ্চা কিনতে হয় ১২০ থেকে ১৩০ টাকা মূল্যে। মুরগির বাচ্চার এত বেশি দাম যুক্তিপূর্ণ মনে হয় না। এক হিসেব থেকে দেখা যায়, ব্রয়লারের একদিনের বাচ্চার উত্পাদন খরচ ৩০/৩৫ টাকা। লেয়ারের বাচ্চার উত্পাদন খরচও ৩৫ টাকার কাছাকাছি। অথচ তা বাজারে বিক্রি হচ্ছে প্রায় দুই থেকে তিনগুণ দামে। এটাকে নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। এর জন্য সমীক্ষা করে উত্পাদন খরচের ভিত্তিতে মুরগির বাচ্চার দাম বেঁধে দেওয়া উচিত। সেই সঙ্গে নির্ধারিত মূল্যে যাতে বাচ্চা বিক্রি হয় তা নিশ্চিত করা উচিত।

 

পোল্ট্রি শিল্পে যে খাদ্য সরবরাহ করা হয় তাতে ক্ষেত্রবিশেষে ক্ষতিকর ক্রোমিয়াম থাকে। মত্স্য ও পোল্ট্রি খাদ্যে প্রোটিনের উত্স হিসেবে টেনারি বর্জ্যের ব্যবহার এর প্রধান কারণ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক পরীক্ষায় প্রতি কেজি মুরগির মাংসে ২৪৯ মাইক্রোগ্রাম থেকে ৪৫৬১ মাইক্রোগ্রাম পর্যন্ত ক্রোমিয়ামের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এই ক্ষতিকর বস্তু মাংস ও ডিমের মাধ্যমে মানব দেহে প্রবেশ করে ক্যান্সারসহ নানাবিধ স্বাস্থ্য সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। সে কারণে পোল্ট্রি খাদ্য আইনে টেনারি বর্জ্যের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা আছে। কিন্তু তাতেও থামছে বলে মনে হয় না খাদ্য প্রস্তুতকারী কোম্পানিগুলো। এ কারণে কিছুদিন আগে একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পোল্ট্রি খাদ্যে টেনারি বর্জ্য ব্যবহারকারী চারটি কোম্পানির কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে। তাছাড়া ৩০০ টন প্রস্তুতকৃত খাদ্য ধ্বংস করে দিয়েছে। এ বিষয়ে সবার সচেতনতা দরকার।

 

দীর্ঘদিন যাবত্ পোল্ট্রি শিল্পের আয় করমুক্ত ছিল। ২০১৫-১৬ অর্থবছর থেকে এ শিল্পের কর অব্যহতি সুবিধা তুলে নিয়ে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ কর আরোপ করা হয়। চলতি অর্থ বছরেও তা অব্যাহত আছে। পোল্ট্রি শিল্পে যারা ভালো আয় করছে তারা সরকারকে কর দেবে, সেটা অযৌক্তিক কিছু নয়। কিন্তু বাস্তব অবস্থা হচ্ছে, এ শিল্পের মুনাফা এখন খুবই কম। খামার পর্যায়ের বিভিন্ন সমীক্ষা থেকে দেখা যাচ্ছে, খামারের আকারভেদে মাত্র ১০ থেকে সর্বোচ্চ? ৩০ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা অর্জন করছে পোল্ট্রি খামারগুলো। মাঝে মাঝে রোগ ও প্রাকৃতিক বৈপরীত্বের কারণে অনেক খামারই লোকসান গোনে। ফলে ছোট ও মাঝারি খামারগুলো উত্পাদনে টিকে থাকতে পারে না। এমতাবস্থায়, পোল্ট্রি খামারগুলো কর অব্যাহতির কাল বৃদ্ধি করে এদের উত্পাদনে ও নতুন খামার স্থাপনে উত্সাহিত করা উচিত।

 

ইতিমধ্যেই পোল্ট্রি শিল্পের দুরাবস্থার প্রতিকার চেয়ে রাস্তায় নেমেছে অনেক খামারি। বাচ্চা ও খাদ্যের দাম কমানো, এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা রোগে আক্রান্ত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত খামারগুলোর উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং বিদেশি পুঁজির আগ্রাসন থেকে দেশের পোল্ট্রি শিল্পকে রক্ষা করতে আন্দোলনে নেমেছেন কিশোরগঞ্জের খামারিরা। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভৈরবে রাস্তার উপর হাজার হাজার ডিম ঢেলে দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন তারা। এছাড়া চট্টগ্রাম, টাঙ্গাইল, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, রংপুরসহ দেশের অন্যান্য এলাকা থেকেও খামারিদের প্রতিবাদমুখর বিভিন্ন তত্পরতার খবর ছাপা হয়েছে একটি প্রতিবেদনে। তারা মানববন্ধন করছেন, বিক্ষোভ করছেন ও স্মারকলিপি দিচ্ছেন। এগুলো আমলে নিয়ে ধৈর্য ও সহানুভূতির সংগে পোল্ট্রি শিল্পের সমস্যাগুলো সমাধানে ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।

 

সারা বিশ্বের মতো আমাদের দেশেও খাদ্য হিসেবে পোল্ট্রির কদর দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কারণ, মানুষ এখন সাদা মাংস চায়। গরু, ছাগল থেকে আসে লাল মাংস। তাতে ক্যালরি ও চর্বির মাত্রা বেশি। দামও বেশি। কিন্তু পোল্ট্রিতে ক্যালরি ও চর্বির পরিমাণ অপেক্ষাকৃত কম। এর দামও কম। প্রতি ১০০ গ্রাম গরুর মাংসে ক্যালরির পরিমাণ ২৭৫ এবং ভেড়ার মাংসে ৩৯৮। চর্বির পরিমাণ যথাক্রমে ২০ ও ৩০ গ্রাম। মুরগিতে ক্যালরির পরিমাণ গড়ে ১৪০ এবং চর্বির পরিমাণ ১২ গ্রাম। মাছেও অনেক ক্ষেত্রে ক্যালরি ও চর্বি কম। কিন্তু দাম বেশি। সে কারণে মানুষ অপেক্ষাকৃত কম দামে কম চর্বিযুক্ত সাদা মাংস হিসেবে বেছে নিচ্ছে পোল্ট্রি। আমাদের জনজীবনে প্রোটিন বা আমিষের উত্স হিসেবে হাঁস-মুরগির মাংস ও ডিমের জুড়ি নেই। মানুষের আয় বৃদ্ধি ও জীবনমানের উন্নয়নের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আগামীতে পোল্ট্রির চাহিদা অনেক বৃদ্ধি পাবে। সেই চাহিদা মেটানোর জন্য পোল্ট্রি উত্পাদনে উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন করা দরকার। এর জন্য দরকার পোল্ট্রি শিল্পের সমস্যাগুলোর আশু সমাধান। দরকার পোল্ট্রি শিল্পের দ্রুত বিকাশ। সে লক্ষ্যে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা থাকা দরকার। তবে পোল্ট্রি শিল্পের মালিক ও শ্রমিকদের উচিত হবে দক্ষতার সঙ্গে উত্পাদন পরিচালনা করা। তাতে উত্পাদন খরচ কমবে, বাজার সম্প্রসারিত হবে, মুনাফা বৃদ্ধি পাবে। নতুবা অদক্ষতার মাশুল গুনতে হবে। দেশের গরিব ভোক্তাদের ও ছোট খামারিদের।