সাড়ে ৫ লাখ লোকের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা

ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলায় ৮৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে সাগর থেকে জেগে উঠা ২০ হাজার একর ভূমিতে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ শুরু হয়েছে। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এখানে স্থাপিত ২০০ শিল্পকারখানায় সাড়ে ৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে জানা গেছে।
ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলা একটি সমুদ্র উপকূলীয় উপজেলা। উপজেলার দক্ষিণ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে ছোট ফেনী নদী, বড় ফেনী নদী ও বঙ্গোপসাগর। নদী ও সাগর থেকে প্রতিদিন জোয়ারের সাথে পলি ও বালু এসে ইতোমধ্যে জেগে উঠেছে সোনাগাজী উপজেলার আয়তনের মত আরেকটি চর এলাকা। বিশেষ করে ৬৬ কোটি টাকা ব্যয়ে বড় ফেনী নদীর বাঁকা অংশ সোজা করার কারণে কয়েক হাজার একর ভূমি সোনাগাজী উপজেলার সাথে সংযুক্ত হয়ে বর্তমানে উপজেলা এলাকা আগের চেয়ে দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর সরকারিভাবে জেগে উঠা চরের ২০ হাজার একর ভূমিতে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয় এবং পরিকল্পনামতে ২০১৬ সালের ৭ আগস্ট থেকে ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু করা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রথম দফায় আমিরাবাদ ইউনিয়ন ও সোনাগাজী সদর ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে ৭ হাজার একর এলাকায় শিল্পকারখানা স্থাপিত হবে এবং ইতোমধ্যে সাড়ে ৫শ’ একর ভূমি শিল্পকারখানা স্থাপনের প্রায় উপযোগী করা হয়ে গেছে। সোনাগাজীতে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে স্থাপিত হবে বিমানবন্দর, মিনি নৌবন্দর, বায়ু ও সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র, জাহাজ নির্মাণ কারখানা, অটোমোবাইলসহ ২শ’ শতাধিক ভারি শিল্পকারখানা। প্রাথমিকভাবে প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৬ হাজার কোটি টাকা। জানা যায়, ইতোমধ্যে একাধিক মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন অনেক কর্মকর্তা প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে গেছেন। সোনাগাজীতে প্রস্তাবিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এখানে সাড়ে ৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে জানা গেছে। ফেনী জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দফায় যে সাড়ে ৭ হাজার একরের মতো ভূমি নির্বাচন করা হয়েছে সেগুলো হচ্ছে, সোনাগাজী উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়ন ও সোনাগাজী সদর ইউনিয়নের ৬৯ নম্বর থাক খোয়াজের লামছি মৌজার ১ হাজার ৫৪৩ একর, ৭০ নম্বর চরখোয়াজের লামছি মৌজার ১৮৮ দশমিক ৮৮ একর, ৯৪ নম্বর খোন্দকার মৌজার ১ হাজার ৯৬১ দশমিক ৯২ একর, ৯৪/১০৩ নম্বর দক্ষিণ চরখোন্দকার মৌজার ১ হাজার ৫৭৯ একর, ৯৩ নম্বর বহিরচর মৌজার ৬২৮ দশমিক ৯৯ একর ও ২৩২ নম্বর চর রামনারায়ণ মৌজার ১ হাজার ৩১৮ একর ভূমি। তবে সাড়ে ৫শ’ একর ভূমি শিল্পকারখানা স্থাপনের প্রায় উপযোগী হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। এদিকে সোনাগাজীতে স্থাপিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের সাথে সারাদেশের উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার সুবিধার্থে ফেনী-সোনাগাজী আঞ্চলিক সড়কে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকার পরও নোয়াখালী জেলার সোনাপুর থেকে বসুরহাট ও ফেনীর সোনাগাজী হয়ে চট্টগ্রাম জেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জোরারগঞ্জ পর্যন্ত একটি সড়ক নির্মাণে গত অর্থবছর একনেক সভায় একটি প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে এবং এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ২৪৫ কোটি টাকা ব্যয় বরাদ্দ ধরা হয়েছে বলে জানা গেছে।