গজনার বিলে পিয়াজরাজ্য

অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন পরিস্থিতি ভালো। জমির সর্বোত্তম ব্যবহারে মনোনিবেশ করেছে কৃষক। একেকটি চরাঞ্চল ভরে যাচ্ছে মৌসুমি ফল ফসলে। নদীর পানি শুকিয়ে গেলে এখন ফাঁকা চর চোখে পড়ে না। সব চরই এখন ফসলি জমি। বিলের পানি নেমে গেলে বিল পরিণত হয় উত্কৃষ্ট আবাদি খেতে। আগে বিলের নামাজমি ছিল কৃষকের এক ফসলি আবাদের ক্ষেত্র। সেখানে একবার মাত্র পাওয়া যেত সামান্য ধান। বর্ষায় বিল ভরে গেলে জাল ফেলে পাওয়া যেত প্রাকৃতিক মাছ। এতেই ছিল কৃষকের সুখ আর সমৃদ্ধি। বিলের জমিকে কৃষক কখনো গুরুত্বপূর্ণ জমি মনে করেনি। বিল থেকে বছরে যা আসত তা-ই ছিল কৃষকের কাছে বেশি। এখন জনসংখ্যা বাড়ছে। আবাদি জমি কমছে। এসেছে ফসলের বৈচিত্র্য। কৃষক এখন জমির সর্বোত্তম ব্যবহারে অনেক বেশি উদ্যোগী। কোন জমিতে কোন ফসলের আবাদ ভালো হবে, তা কৃষক নিজেই এখন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে বুঝে গেছে। কোথাও কোথাও কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অল্পবিস্তর সহযোগিতা আছে। তারও বেশির ভাগ প্রকল্পনির্ভর। প্রকল্প আছে তো তাদের সহযোগিতা আছে। প্রকল্প নেই তো তেমন কাজ নেই।

গেল বছরের শেষ দিনগুলোতে আমি ছিলাম পাবনা অঞ্চলে। বহুদিন ধরে এক তরুণ কৃষক ফোন করত পিয়াজ রোপণের ওপর চিত্র ধারণের জন্য। সে নানাভাবে আমাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছে, বিশাল বিলে বহু কৃষক একসঙ্গে পিয়াজ রোপণ করবে। আবার একই সঙ্গে নতুন পিয়াজও উঠবে। তার মানে একদিকে খেত থেকে পিয়াজ উঠবে, আরেকদিকে পিয়াজের চারা রোপণ করা হবে। কিন্তু এর বিশালতা হতে পারে কতখানি? শুনেছিলাম ভোর সাড়ে ৬টায় মাঠে গেলে পাওয়া যাবে পিয়াজ সব দৃশ্যপট।

পাবনা শহরে আমাদের বন্ধু রবিউল ইসলামের বাসায় ছিলাম। ডিসেম্বরের ২৯ তারিখ। ভোর সাড়ে ৫টায় ঘুম থেকে উঠে রওনা হলাম সুজানগর উপজেলার পথে। কাশিনাথপুর বাজার পেরিয়ে বোয়ালিয়া। গাড়ি নিয়ে সোজা এক কৃষকের বাড়ির আঙিনা। সেখান থেকে কয়েক গজ দূরেই বিশাল এক বিলের শুরু। সকাল তখন সাড়ে ৬টা। শীত সকালের কুয়াশায় জড়োসড়ো বিলাঞ্চল। এ এক অন্য বাংলাদেশ। কুয়াশায় ঢাকা বিস্তীর্ণ মাঠ। সুজানগরের গজনার বিল, দীঘের বিল, বড় বিল, বিলগণ্ডহস্তি একই সঙ্গে। টানা ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এক বিল অঞ্চল। চারদিক কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকায় কিছু দেখা যায় না। পলিজমা উর্বর মাটি, এক বিস্তীর্ণ সমতল ভূমি। মাটি দেখেই বোঝা যায়, এখানে বীজ বা চারা পুঁতলেই তরতরিয়ে বেড়ে ওঠে ফসল। এই বিলের সোনাফসল পিয়াজ। চাদর জড়িয়ে কয়েকজন এসে মাঠের এক কোনায় বসে শুরু করেছে পিয়াজের চারা তোলা। ধানের চারার মতো চারা তুলছে খেত থেকে। তারা বলছিল, দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় পিয়াজ আবাদি এলাকা এটি। আমি আগে থেকেই জানি, দেশের সিংহভাগ পিয়াজ আবাদ হয় পাবনা জেলায়। তবে পাবনার সবচেয়ে বড় পিয়াজের মাঠটি কখনো দেখা হয়নি। এই প্রথমবারের মতো আসা। কখন থেকে রোপণের কাজ পুরোদমে শুরু হবে— খোঁজখবর নিচ্ছিলাম। এর মধ্যে বেশ তাগড়া দেহের এক ভদ্রলোক এসে পরিচয় দিলেন, নাম মঞ্জুরুল হক। যে কৃষক রাসেল আমাকে ফোন করেছিল তিনি তার ভাই। মঞ্জুরুল ইসলাম বেশ চোখ-কান খোলা এক অভিজ্ঞ কৃষক। তিনি বললেন, এত বিশাল পিয়াজ আবাদি এলাকা দেশে আর নেই। এখন যে চারা তুলে রোপণ করা হবে, তার ফলন পাওয়া যাবে আড়াই থেকে তিন মাসে। এই অল্প সময়ে এটি দারুণ লাভজনক এক ফসল। যদিও গতবার পিয়াজের বাজার ভালো ছিল না। বিলের অধিকাংশ কৃষকেরই লোকসান হয়েছে। তাহেরপুরি জাতের পিয়াজের বীজ বোনার পর চারা হয়, সেই চারা এখন রোপণ করা হচ্ছে। পিয়াজের চাষ ব্যবস্থাটিও বেশ শ্রমসাপেক্ষ। তবে তাহেরপুরি জাতের যে পিয়াজটির চারা এখন রোপণ করা হচ্ছে, এই জাতটি বেশ বৈশিষ্ট্যপূর্ণ। এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এই জাতটি কৃষক দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করতে পারে। ঘরে রেখে সুবিধামতো সময়ে বিক্রি করতে পারে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, চৈত্র-বৈশাখে এই পিয়াজের ভরা মৌসুমে ব্যবসায়ী ও মজুদদাররা এই পিয়াজ মজুদ করে দাম বাড়লে বিক্রি করে। বাঁধাই মাল হিসেবে এই পিয়াজের বেশ গুরুত্ব রয়েছে। এখন রোপণের মৌসুম। ফলন তোলার মৌসুমে এবার লাভালাভের হিসাব নিতে এই বিলে আবার যাব আশা রাখি।

কুয়াশা কাটতে দেরি হওয়ায় রোপণের চিত্র ধারণটি পিছিয়ে গেল। এ সুযোগে কৃষক মঞ্জুরুল হকের সঙ্গে কথা হলো নানা বিষয় নিয়ে। তিনি বেশ সচেতন ও প্রগতিশীল কৃষক। বলছিলেন, কৃষক এখন নিজের চেষ্টায় যতখানি এগিয়ে গেছে এর সঙ্গে একটু প্রযুক্তিগত সহায়তা দিলে সে অনেক এগিয়ে যেতে পারত। মাঠে এখন বিপুল হারে কীটনাশক ব্যবহার হয়। কীটনাশক ব্যবসায়ী ও তাদের প্রতিনিধিরা মাঠে চলে আসে। তারাই কৃষককে প্রলুব্ধ করে নানা করমের কীটনাশক ব্যবহারে। আগে কৃষক মাঠে জৈব সার, ছাই এসব ব্যবহার করে মাটিকে উর্বর করত। এখন বিলের এই উর্বর মাটিতেও ঢুকে যাচ্ছে রাসায়নিক সার। গ্রামীণ কৃষক হিসেবে অনেক পরিকল্পনার কথাও জানালেন তিনি। বললেন, গরুর খামার গড়ার ক্ষেত্রে সরকারি ব্যাপক সহযোগিতা প্রয়োজন। তাহলে আরও গো-মাংস ও দুধে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে পারব। মাছ উৎপাদনে চতুর্থ স্থান অর্জন করেছি মাছ চাষিদের প্রচেষ্টায়। আমাদের সামনে আরও সুদিন আসবে। আরও ভালো করব। শুধু রাষ্ট্র যদি চিন্তাভাবনা ও নীতিনির্ধারণে কৃষককে সঙ্গে নেয়। ৬০ থেকে ৭০ ভাগ কৃষিজীবী মানুষকে উন্নয়নের বাইরে রেখে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। সরকারের উচিত দেশের উন্নয়নের জন্য কৃষির উন্নয়নকে পূর্বশর্ত হিসেবে গ্রহণ করা। কৃষক মঞ্জুরুল হক বলে যাচ্ছেন। আমি শুনে যাচ্ছি। একজন কৃষকের এ বিকশিত চিন্তা দেখে আমার ভালো লাগে, আশান্বিত হই।

এরই মধ্যে মাঠে কেউ কেউ শুরু করেছে পিয়াজের চারা রোপণ। প্রাচীন পদ্ধতির আবাদ ব্যবস্থা। যান্ত্রিক কৃষির যুগে পিয়াজ রোপণের ক্ষেত্রে কোনো যন্ত্রের ব্যবহার নেই। একজন চিকন একটি লাঙলের ফলার মতো কৃষিযন্ত্র নিয়ে সারি টানছেন। পাশে একঝাঁক কৃষক দারুণ মনোযোগে পিয়াজ রোপণ করে চলেছেন। দারুণ এক দৃশ্য। প্রাচীনকাল থেকেই এই দৃশ্যগুলোর কোনো পরিবর্তন হয়নি। এ কাজগুলোর ভিতর খোঁজ পাওয়া যায় আবহমান বাংলার এক আদিরূপের।

দেশের এক-তৃতীয়াংশ পিয়াজ আবাদ হয় পাবনা জেলায়। তার মধ্যে এ বিলাঞ্চলই হচ্ছে সবচেয়ে বড় পিয়াজের খেত। গত বছর এ জেলায় চারা পিয়াজ আবাদ হয় ৩৯ হাজার ৮৪৫ হেক্টর জমিতে, মুড়িকাটা বা কন্দ পিয়াজ আবাদ হয় ৮ হাজার ৪৫ হেক্টরে। গতবার চারা পিয়াজের ফলন ছিল ৪ লাখ ৪৬ হাজার ৪২৬ মেট্রিক টন। এবার কৃষি বিভাগের হিসাবে চারা পিয়াজ রোপণ হচ্ছে ৪০ হাজার হেক্টরে, ফলনের আশা ৫ লাখ ৫৮ হাজার ৯৯৫ মেট্রিক টন। এর মধ্যে এই বিলেই পিয়াজ আবাদি এলাকা ১৮ হাজার হেক্টর।

এক দেড় বা দুই ঘণ্টার ভিতরেই সারা মাঠই মুখরিত হয়ে উঠল পিয়াজ রোপণের ব্যস্ততায়। সে এক দেখার মতো দৃশ্য। আরও কাজ করছি, এর মধ্যে কৃষক রাসেল মাঠে নিয়ে এসেছে আমাদের সকালের নাস্তা। গ্রামের মানুষের আতিথেয়তা বলে কথা। মধ্য মাঠে চলে এসেছে খাবার। আরও যারপরনাই মুগ্ধ।

কৃষকের মাঠে ঘুরলে অনেক অজানা-অচেনা বিষয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়। নতুন কিছু পেলে আমি ছুটে যাই সেদিকে। একঝাঁক কৃষক দারুণ মনোযোগে পিয়াজের চারা রোপণ করে চলেছে। এর মধ্যে একজন শ্রমজীবী কৃষক হঠাৎ উঠে এলেন আমার কাছে। তিনি কিছু একটা দেখাতে চান। আমি আগ্রহ নিয়ে তার দিকে ক্যামেরা ধরলাম। তিনি তুলে ধরলেন হাতে থাকা একটি নিড়ানি। স্থানীয় নাম ‘পাচন’। যার কাঠের হাতলটি ব্যবহারে ব্যবহারে গর্ত হয়ে গেছে। দীর্ঘকালের হাত স্পর্শে লোহাও ক্ষয়ে গেছে। এই কৃষি শ্রমিকের নাম তালেব আলী। স্থানীয় নাম ‘তালেবর’। যতদূর জানি উত্তরাঞ্চলে দারুণ প্রতাপশালী লোকদের ‘তালেবর’ বলে। কিন্তু তিনি হতদরিদ্র হাড় জিরজিরে এক কৃষক। বয়স সত্তর পেরিয়ে গেছে। জীবনের পুরো সময়টিই কেটে গেছে কৃষিশ্রমে। হাতের নিড়ানিটি ব্যবহার করছেন টানা ৪৫ বছর। তার বড় ইচ্ছা, তার সুদীর্ঘ শ্রমের প্রমাণ বা ইতিহাস হিসেবে এ নিড়ানিটি দেশের প্রধানমন্ত্রীকে দেখাবেন। জীবনের এ ইচ্ছাটির কথা আমাদের কাছে অকপটে তুলে ধরলেন তিনি। জানালেন, তার সন্তানেরা সব পৃথক হয়ে গেছে। এ বয়সে জীবনের বোঝা বইতে বড় কষ্ট হচ্ছে তার।

সারা মাঠে পিয়াজ রোপণের ব্যস্ততা। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই পুরো ১৮ হাজার হেক্টরের গাজনার বিল পরিণত হবে দেশের সবচেয়ে বড় পিয়াজ খেতে। বাতাসে দোল খাবে সবুজ পিয়াজ পাতা। এতক্ষণে সময় হলো তরুণ কৃষক রাসেলের সঙ্গে কথা বলার। রাসেল জানাল, গতবার ৩৯ বিঘা পিয়াজ আবাদ করে ৮ লাখ টাকার লোকসান গুনেছে সে। প্রধান অর্থকরী ফসল হলেও গতবার থেকে পিয়াজের প্রতি আস্থা কিছুটা কমে গেছে তার। ২০১২ সালে পিয়াজে এ বিলের সব কৃষক ব্যাপক লাভ পায়। ওই বছরেই রাসেল দুটি ট্রাক কিনেছে। রাসেল জানায়, পিয়াজ আমদানি হলে বাজারমূল্য কমে যায়। এ বাস্তবতা সবাই জানে, তারপরও আমদানিটা কয়েক দিন পিছিয়ে দেওয়ার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয় না। রাসেলের কাছেই জানা গেল, এক বিঘা জমিতে পিয়াজ আবাদের হিসাব। বীজ, রোপণ, সার, জমি চাষ, ৩/৪ বার সেচ, নিড়ানি, কীটনাশক, রোপণ, আবার সেচ, কীট ও ছত্রাকনাশক, পিয়াজ তোলা ও জমি লিজ সব মিলিয়ে এক বিঘা জমিতে পিয়াজ আবাদের খরচ ৩৫ হাজার টাকা। লিজ বাদ দিলে এ ব্যয় দাঁড়ায় ২০ হাজার টাকায়। কিন্তু ৩৫ হাজার টাকা ব্যয় করে বাজারমূল্য যদি ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা না পাওয়া যায় তাহলে কৃষকের এ শ্রম আর স্বপ্নের কোনোই মানে থাকে না। রাসেল বেশ সুন্দর করে কথাটি বলল, ‘আরও স্বপ্নের বীজ বুনি, এক বছর পূরণ হয়, এক বছর পূরণ হয় না’। রাসেল বেশ সচেতন ও প্রগতিশীল একজন কৃষক। এ কারণে সে ঝুঁকির মধ্যে না থেকে একটু একটু করে কৃষি আবাদে বৈচিত্র্য আনছে। বাড়ির পাশের কয়েক বিঘা জমিতে গড়ে তুলেছে কুল ও পেয়ারার বাগান, পুকুরে শুরু করেছে মাছ চাষ। এবার পরীক্ষামূলক নানারকম সবজিরও আবাদ করেছে। কৃষিকে লাভজনক করে তুলতে তার চেষ্টার কোনো কমতি নেই। স্বপ্ন তার ফলে ফসলে দারুণ সমৃদ্ধি অর্জন করার। সেই সঙ্গে এলাকার কৃষকদের নিয়ে সে একটি সমবায় সমিতিও গড়ে তুলেছে। গজনার বিলের পিয়াজ চাষিরা সব এক হয়ে যুক্ত রয়েছে তার সঙ্গে।

গাজনার বিল ও সংলগ্ন সবকটি বিল এখন পিয়াজ আবাদি এলাকা। বর্ষায় এটি হাওরের মতো বিস্তীর্ণ জলাশয়ে পরিণত হয়। স্থানীয় কৃষকদের বললাম, বর্ষা মৌসুমে এখানে খাঁচায় মাছ চাষ কিংবা প্লাবন ভূমিতে মাছ চাষের মতো সমবায়ভিত্তিক উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। চিন্তাটি সানন্দে গ্রহণ করলেন এলাকার অনেক কৃষক। জানা গেল, এ বিলে ১৯৮৪ সালে প্রথম বোরো মৌসুমের জন্য ব্রিধানের আবাদ শুরু করেন কৃষক ফখরুল আলম। তার আগে বোরো মৌসুমে স্থানীয় জাতের আবাদ হতো। বিঘায় পাওয়া যেত ৫ মণ। পরে উচ্চ ফলনশীল ধানের ফলন কমে যাওয়ায় সবাই চলে গেছেন পিয়াজ আবাদে। এ বিলের চাষ বৈচিত্র্য নিয়ে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যেও নানা চিন্তাভাবনা আছে। ৫০/৬০ বছর পিয়াজ আবাদের ইতিহাস রয়েছে এ বিলে। পিয়াজের মতো ফসলের সঙ্গে কৃষকের রয়েছে গভীর সম্পর্ক। তাই তারা চান, পিয়াজই হয়ে থাক এ বিলের প্রধান ফসল। সরকার নিশ্চিত করুক কৃষকের ন্যায্যমূল্য।

গাজনার বিল সংলগ্ন বোয়ালিয়া গ্রামের পাশেই কাশিনাথপুর হাট। মুড়িকাটা বা কন্দ জাতের পিয়াজের বিশাল হাট বসেছে সেখানে। হাজার হাজার মণ পিয়াজের সমারোহ। কিন্তু দাম নেই। কৃষক দাম পাচ্ছেন না। সব কৃষকের আর্তি, এবার তাদের উৎপাদন খরচের অর্ধেক টাকাও উঠছে না। এক কৃষক হিসাব দেখিয়ে বললেন, মুড়িকাটা পিয়াজ বিঘায় খরচ ২২ হাজার টাকা। বাজারমূল্য পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১২ হাজার টাকা। গত দুই বছর একই হারে লোকসান গুনছেন কৃষক। সবার অভিযোগ, ভরা মৌসুমে এলসির মাধ্যমে ব্যাপক হারে পিয়াজ আমদানি হচ্ছে ভারত থেকে। কৃষক বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না। হাটের বহু মানুষের সঙ্গেই কথা হলো। তারা বেশ ভেবেচিন্তেই বললেন, চাহিদাও পূরণ করতে হবে, কৃষকের স্বার্থও দেখতে হবে। কৃষকের লোকসান করে চাহিদা পূরণের নীতি সুষ্ঠু কোনো নীতি হতে পারে না। বিষয়টি সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ভেবে দেখবে আশা করি।

লেখক : মিডিয়া ব্যক্তিত্ব