পড়ার আসরে পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী …

একটি বিশাল মাঠ। চারদিকে শিক্ষামূলক নানা স্লোগানের ব্যানার, ডিজিটাল বোর্ড। মাঠের চারদিকে দাঁড়িয়ে অভিভাবক, শিক্ষক ও উত্সুক জনতা। আর মাঠের মধ্যে মগ্ন হয়ে বই পড়ছে প্রায় পাঁচ হাজার স্কুল শিক্ষার্থী। তারা সবাই পড়ছে নিজেদের পাঠ্যপুস্তকে থাকা মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দেলনবিষয়ক লেখা।

গতকাল শনিবার কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর পৌর শহরের ভাগলপুর নাজিম ভূঁইয়াবাড়ির ঈদগাহ মাঠের দৃশ্য ছিল এমনই। নতুন প্রজন্মকে ফেসবুকসহ ইন্টারনেটের নানা নেতিবাচক প্রভাব থেকে বই পড়ায় আগ্রহী করে তুলতে এক ঘণ্টার এই ‘বইপড়া উৎসব’ আয়োজন করে বাজিতপুর উপজেলা প্রশাসন। সেখানে দাবি তোলা হয়, বছরের একটি দিন যেন ‘বইপড়া উৎসব’ ঘোষণা করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার হেলালুদ্দীন আহমদ। বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে উদ্বোধনী ঘোষণার পর ঠিক সকাল ১১টা ২০ মিনিটে শুরু হয় বইপড়া।

সপ্তম শ্রেণির পাঠ্য ‘সপ্তবর্ণা’ বইয়ে থাকা আবুবকর সিদ্দিকের ভাষা দিবসের গল্প ‘লখার একুশে’ পড়ছিল আফতাবউদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র আলী আল আবরার রিজভী। সে জানায়, বাক্প্রতিবন্ধী লখার একুশের গান গাইতে না পারার মনোবেদনা নিয়ে গল্পটি লেখা।

হাফেজ আ. রাজ্জাক পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র পরাগ হোসেন প্রান্ত জানায়, এ উৎসব বই পড়ায় তাকে ভীষণ আগ্রহী করে তুলেছে।

নাজিরুল ইসলাম কলেজিয়েট স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী মাইমুনা খান মাটি বলে, ‘সরকারের কাছে আমার দাবি, যেন ২১ জানুয়ারিকে বইপড়া উৎসব ঘোষণা করা হয়। ’

পড়া শেষ হওয়ার পর বাজিতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ভাস্কর দেবনাথ বাপ্পি শিক্ষার্থীদের কাছে জানতে চান, ‘তোমরা এখন থেকে প্রতিবছর এমন বইপড়া উৎসবে মিলিত হতে চাও?’ তাঁর কথা শুনে পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী একসঙ্গে চিত্কার দিয়ে বলে ওঠে, ‘বইপড়া উৎসব’ চাই।

বইপড়া শেষে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা হয় কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. আজিমউদ্দিন বিশ্বাসের সভাপতিত্বে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তসলিমা নূর হোসেন ও যুব উন্নয়ন অফিসার আব্দুল কাদির ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার হেলালুদ্দীন আহমদ, বাজিতপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছারওয়ার আলম, ইউএনও ভাস্কর দেবনাথ বাপ্পি, পৌরসভার মেয়র আনোয়ার হোসেন আশরাফ প্রমুখ।

বইপড়া উৎসব উপলক্ষে গতকাল সন্ধ্যায় আফতাবউদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ মিলনায়তনে পরিবেশিত হয় গীতিনাট্য ‘ইতিহাস কথা কয়’।

বই পড়ার অভ্যাস বাড়াতে সরকার প্রতিবছর ১ জানুয়ারি ‘বই বিতরণ উৎসব’ পালন করে। এরই ধারাবাহিকতায় সরকারিভাবে বছরে একটা দিন ‘বইপড়া উৎসব’ ঘোষণা করা হবে বলে প্রত্যাশা আয়োজকদের।