শেরপুরের মধু যাচ্ছে বিদেশে

দৃঢ় সংকল্প থাকলে মৌমাছি পালনের মাধ্যমে মধু চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব। এমনটাই প্রমাণ করেছেন শেরপুরের নকলা উপজেলার মোহাম্মদ ফয়েজুর রহমান। তার দেখাদেখি ওই এলাকার নজরুল, মনির, রাজবাহার, মাহমুদ, হালিম ও জহুরুল মৌমাছি পালনের মাধ্যমে মধু সংগ্রহ করছেন। তারা হয়েছেন আত্মনির্ভরশীল, সংসারে এসেছে সচ্ছলতা। তাদের উৎপাদিত মধু প্রক্রিয়াজাত করে এখন রফতানি হচ্ছে ভারত, নেপাল, ভুটানসহ বিভিন্ন দেশে। আর তাদের দেখে ওই এলাকার আরো অনেকেই মৌমাছি পালনে আগ্রহী হয়েছেন। শেরপুরের পাঁচ উপজেলাতেই কম-বেশি মৌমাছি পালনের মাধ্যমে মধু উৎপাদন করা হয়। তবে এর মধ্যে নকলায় সবচেয়ে বেশি মধু উৎপাদন হয় বলে জানায় স্থানীয় কৃষি অধিদফতর।
ফয়েজুর রহমান বলেন, দরিদ্র ঘরে জš§ নেয়ায় এইচএসসি পাসের পর থেকেই চাকরি খুঁজতে শুরু করি। কিন্তু চাকরি না পেয়ে ২০০০ সালে স্নাতকে অধ্যয়নরত অবস্থায় শেরপুর শহরের খোয়ারেরপাড়ে অবস্থিত বাংলাদেশ কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশীয় প্রজাতির সিরেনা মৌমাছি পালন শুরু করি। বিসিক থেকে প্রাপ্ত ২টি মৌ-বক্স ও প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞানকে পুঁজি করে মৌমাছি পালনের যাত্রা শুরু। তারপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। বর্তমানে আমার ১২০টি মৌ-বক্স রয়েছে। ওইসব বক্স তৈরিসহ মধু উৎপাদন পর্যন্ত লাখ টাকা ব্যয় হলেও এখন বছরে দেড় থেকে ২ লাখ টাকা আয় হচ্ছে। নকলায় যথেষ্ট বনায়ন না থাকায় বছরের কয়েক মাস মৌবক্সগুলো টাঙ্গাইলের মধুপুর গড়ে রাখা হয়। শুধুু সরিষা ও মৌসুমি ফলের সময় এলাকাতে আনা হয়। প্রতি বক্স থেকে বছরে গড়ে ৩৫ থেকে ৪০ কেজি মধু সংগ্রহ করা যায়। তাছাড়া তাকে অনুসরণ করে নকলার নজরুল ৬২টি, মনির ৬৮টি, রাজবাহার ৩৭টি, মাহমুদ ২৯টি, হালিম ৮৫টি, জহুরুল ১৪৮টি মৌ-বক্স তৈরি করে মধু সংগ্রহ করছেন।
রাজবাহার জানান, মধু উৎপাদন করা পর্যন্ত প্রতিটি বক্স তৈরিতে এক থেকে দেড় হাজার টাকা ব্যয় হয়। মৌসুমভিত্তিক পাইকারি প্রতি মণ সরিষার মধু ১২ হাজার টাকা, লিচু, আম ও কুলের মধু ১৪ হাজার টাকা, কালোজিরার মধুু ১৭ হাজার টাকায় বিক্রি হয়।
হালিম জানান, সরিষার মৌসুমে ৮৫টি বক্স থেকে প্রায় ২৪ মণ মধু সংগ্রহ করা হয়েছে, যার পাইকারি বাজারমূল্য আড়াই লাখ টাকা। আর খুচরা প্রতিকেজি চারশ’ টাকা করে বিক্রি করলে তিন লাখ ৫২ হাজার টাকা পাওয়ার কথা, কিন্তু স্থানীয়ভাবে এত মধু বিক্রি করা সম্ভব হয় না। তাই বাংলাদেশ মৌচাষি সমিতির মহাসচিব সাতক্ষীরার আফজাল হোসেনের মাধ্যমে কম মূল্যে ভারত, নেপাল, ভুটানসহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি দেশে রফতানি করা হচ্ছে। মৌচাষি জহুরুল বলেন, সহজশর্তে ব্যাংক ঋণ দিলে আমরা মৌমাছি পালন করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে নজির সৃষ্টি করতে পারব।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আশরাফ উদ্দিন বলেন, মৌচাষিদের প্রশিক্ষণ এবং মধু উৎপাদন আরো বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রশিক্ষণসহ সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে। যেসব এলাকায় মৌমাছি পালন করা হয় সে এলাকায় সরিষাসহ যে কোনো শস্যের ফলন ১৫ থেকে ২০ ভাগ বাড়ে। এতে শুধু মৌচাষিরাই নন, কৃষকরাও বাড়তি লাভ পাচ্ছেন।