দিনাজপুরে সমতল ভূমিতে চা চাষে ব্যাপক সাড়া

দিনাজপুরে সমতল ভূমিতে চা চাষে ব্যাপক সাড়াগত বছরের আগস্টে ব্যক্তি উদ্যোগে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় শুরু হয়েছিল পরীক্ষামূলকভাবে চা চাষ। এরই মধ্যে সাফল্যও পান কৃষক। অর্থকরী ফসল চা চাষে লাভবান হওয়ায় স্থানীয় চাষিদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়ে। আবহাওয়া চা চাষের উপযোগী হওয়ায় দেখা দিয়েছে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও। এদিকে চাষিদের সাফল্যের খবরে নতুন নতুন বাগান তৈরির লক্ষ্যে সম্প্রতি মাটি পরীক্ষার কাজ শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। চা চাষ ভবিষ্যতে এ অঞ্চলের অর্থনীতির অন্যতম অংশ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় বিশেষজ্ঞরা।
দিনাজপুরের বীরগঞ্জের পলাশবাড়ী ইউনিয়নের ঝলঝলি গ্রামের প্রান্তিক কৃষক নজরুল ইসলাম সমতল এলাকায় চা চাষে সাফল্য পেয়েছেন। জেলায় তিনি প্রথম গত বছরের আগস্টে এক একর জমিতে চা চাষ শুরু করেন।
তিনি জানান, পঞ্চগড়ের সাকোয়ার এক নার্সারির চা চারা বিক্রেতা শরিফ প্রথম তাকে চা বাগান করার পরামর্শ দেন। পরে পলাশবাড়ী ঝলঝলি বহুমুখী সমবায় সমিতির সহযোগিতায় গত বছরের আগস্টে তিনি চারা রোপণ করেন। এরই মধ্যে চারবার তিনি চা পাতা সংগ্রহ করেন। এরপর তা পঞ্চগড় নর্থ বেঙ্গল চা কারখানায় বিক্রি করেন। ২৫/২৬ টাকা কেজি দরে এ পর্যন্ত তিনি প্রায় ২৪ হাজার টাকার চা পাতা বিক্রি করেছেন। গাছের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চা পাতার পরিমাণও বাড়তে থাকে। এখন তিনি প্রতি মাসেই চা পাতা বিক্রি করছেন। এরপরও আগে জমি প্রস্তুত করে চারা রোপণে তার খরচ হয়েছে ৬০ হাজার টাকা। চা চাষে পরিচর্যা ছাড়া তেমন কোনো খরচ নেই। এখানকার মাটি চা চাষের উপযোগী। তবে চা গাছের গোড়ায় যাতে পানি না জমে, সে জন্য পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হয়। প্রচণ্ড রোদে ছায়া দিতে বাগানের কয়েক হাত পর পর তিন নিমগাছ রোপণ করেছেন। প্রচণ্ড খরার সময় পাইপের সাহায্যে পানি ছিটিয়ে দিতে হয় গাছে। এ বাগানে বছরে দু’বার সার ব্যবহার করলেই চলে। তিনি জৈবসার বেশি ব্যবহার করেছেন। গাছের বয়স দুই বছর হলে প্রতি মাসে তিনি কমপক্ষে ২৫ হাজার টাকার চা পাতা বিক্রি করতে পারবেন।
তার দেখাদেখি আরো অনেকেই লাভজনক এ ফসলটি আবাদের আগ্রহ দেখিছেন। তাদের মধ্যে একই উপজেলার পাল্টাপুর আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকার মো. আজাদ আলী গত বছরের অক্টোবরে এক একর জমিতে চায়ের আবাদ করেছেন। তিনি এখনো ফলন না পেলেও বেশ আশাবাদী।
বীরগঞ্জ উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহজাহান আলী বলেন, দিনাজপুরের মাটি প্রাকৃৃতিকভাবে সমৃদ্ধ। তাই জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে আঙুর, মাল্টা ও কমলাসহ বিভিন্ন ফলদ ফসলের আবাদ ভালো হচ্ছে। এর বাইরে বীরগঞ্জের দুই কৃষক চায়ের আবাদ শুরু করেছেন। এখানে চা আবাদেরও উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। এ অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া অনুকূল থাকায় চা চাষের ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ জন্য নিবিড় পরিচর্যা, পরিমিত পানি সেচসহ সব বিষয়ে চাষিদের যতœবান হতে হবে।