সাইবার ক্রাইম ঠেকাতে জাহিনের ‘জাস্টিস ফর উইমেন’

ইফরীত জাহিন কুঞ্জ। জাস্টিস ফর উইম্যানের চেয়ারম্যান। অসহায় মানুষকে আইনি সহায়তা দিতেই তিনি গড়ে তুলেছেন এই সংগঠন। তবে সাইবার ক্রাইম ঠেকাতেই বেশি কাজ করছেন তিনি। ময়মনসিংহের কমিউনিটি বেজড মেডিক্যাল কলেজে তৃতীয় বর্ষে পড়ছেন।

কথা প্রসঙ্গে ইফরীত জাহিন বলেন, ছোট থেকেই অপ্রীতিকর ঘটনা মেনে নিতে পারতাম না। অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে না পারলে মানসিকভাবে ভেঙে পড়তাম। শেষমেশ পরিকল্পনা করি নিজেকে শেষ করে দেব। তবে না, নিজেকে শেষ করিনি আমি। রুখে দাঁড়িয়েছি অন্যায়ের বিরুদ্ধে।

চারপাশের অসংগতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে সোশ্যাল মিডিয়াতে মানুষজনদের আইনি সহায়তা দেয়া শুরু করলেন। কয়েকজন পুলিশ অফিসার ও আইনজীবী বন্ধুর সহায়তার প্রতিষ্ঠা করলেন জাস্টিস ফর উইম্যান। ইফরীত জানান, ফেসবুকে আমাদের কাজের পোস্ট-শেয়ার দেখে অনেকেই এগিয়ে আসেন।

জানালেন, নিজেই একবার সাইবার হ্যারেসমেন্টের শিকার হয়েছিলেন। প্রতিকার করতে গিয়ে দেখেন কোনো সমাধান নেই। পরে ২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি গড়ে তোলেন জাস্টিস ফর উইম্যান। শুরুতে অনেকেই টিটকারি দিত, হাসাহাসি করত। তবে এখন সবাই উত্সাহ দেয়, সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসে।

ইফরীত জানান, “প্রথম কেসটা ছিলো রাজধানী ঢাকায় বাড্ডার ইভটিজিং নিয়ে। এক মেয়ে সুইসাইড অ্যাটেম্পট নেয়। মেয়ের পরিবার কেস করতে ইচ্ছুক ছিল না। তারা যথেষ্ট প্রমাণসহ আমাদের কাছে আসেন।” এই কেস কিভাবে সমাধান করা যায় এটা নিয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা বলেন ইফরীত। পুলিশ অভিযান চালিয়ে মাদকসহ সেই ইভটিজারকে আটক করে। মেয়েটা এখন নিরাপদে সেখানে চলাফেরা করতে পারছেন।

এরপর এরকম নানা ধরনের কেস আসে। তবে লক্ষ্য ছিল ‘সাইবার ক্রাইম’ নিয়েই কাজ করার। ধীরে ধীরে সাইবার ক্রাইমের কেসের সংখ্যা বাড়তে থাকে। একটা পর্যায়ে এদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ওরা তথ্য দিয়ে পুলিশকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতো। আর পুলিশও তাদের সব কেস গুরুত্ব দিয়ে সমাধানে এগিয়ে আসে।

ইফরীতের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫টি সমস্যা তাদের কাছে জমা হয়। গত দুই বছরে কয়েক হাজার কাজ তারা করেছেন বলে তার দাবি। কিছুদিন আগে ফেসবুকে বিশিষ্টজন ও কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের আপত্তিকর ছবি এবং ভিডিওচিত্র ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে ‘ডেসপারেটলি সিকিং আনসেন্সরড (ডিএসইউ)’ নামে একটি ফেসবুক গ্রুপকে ধরা হয়। এমন অনেক কাজের পেছনে তারা ভূমিকা রাখছেন।

ফেসবুকে জাস্টিস ফর উইম্যানের ওপেন পেজের মাধ্যমে নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে শুরু করে রেজিস্টার্ড সাড়ে ছয় হাজারের ওপরে ভলান্টিয়ার এবং আনরেজিস্টার্ড আরো অসংখ্য ভলান্টিয়ার যুক্ত হয়েছেন। বর্তমানে পেজটির ফলোয়ার ৩০ হাজারের ওপরে, সদস্য ১ লাখ ৪০ হাজারের বেশি। সেবা নিয়েছেন সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ে থাকা ভিকটিমরা।

এখানে নানা সেবা দেয়া হয়। সাইবার ক্রাইম মামলায় আইনজীবী ও পুলিশ দিয়ে সহায়তা করা হয়। গৃহস্থালি নির্যাতনে আইনি সর্বোচ্চ সহায়তা দেয়া হয়। সক্ষম বাঙালি প্রবাসীর সহায়তা নিয়ে অসহায় প্রবাসী বাঙালিকে সাহায্য করা হয়। সামাজিক অসংগতির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হয়। নির্যাতিত ছেলেদের জন্যও আছে ‘জাস্টিস ফর ম্যান’। মূলত ধনী ভিকটিমের কাছ থেকে টাকা নিয়ে গরীব ও অসহায় ভিকটিমকে সহায়তা করা হয়।

আপনি জাস্টিস ফর উইম্যানের কাছে হেল্প চান? আপনার সামাজিক পরিচিতি ও সম্মানকে পুঁজি করে অনেকেই হয়তো আপনাকে বিপদে ফেলতে চাইছে। আইনের আশ্রয়ও নিতে পারছেন না। এই অবস্থায় জাস্টিস ফর উইম্যানের হেল্প নিতে পারেন। Justice For Women, Bangladesh – JFWBD ফেসবুক পেজে গিয়ে যে কেউ সাহায্যের আবেদন করতে পারেন। সাহায্য পেতে ইনবক্স করা, গ্রুপে পোস্ট দেয়া বা পেজে দেয়া নম্বরে কল করেও সমস্যা জানাতে পারেন।

ইফরীত জাহিন কুঞ্জ ২০১৬ সালে ডেইলি স্টারের ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সেলিব্রেটিং লাইফ সম্মাননা, বিজয় দিবসে যমুনা টিভির ‘দূরন্ত বাংলাদেশ’ এ শীর্ষ দশ তরুণ আইকনের একজন হয়েছেন।