‘বীর নিবাস’ পেয়ে আবেগাপ্লুত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদের

আনন্দ ও হাসির মধ্যে চোখের কোনে জল ও আবেগ যেন বার বার স্মরণ করিয়ে দিচ্ছিল ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সেই ভয়াবহ দিনগুলোর কথা। মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর সৈনিক মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদের আবেগাপ্লু­ত হয়ে বললেন, লাখো বাঙালির রক্ত ও ইজ্জতের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার ৪৫ বছর পর আজ মুক্তিযোদ্ধাদের মূল্যায়ন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানান দিলেন- এদেশের স্বাধীনতা অর্জনে মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান ভোলার নয়। এতোদিন আমাদের মান মর্যাদা কিছুই ছিল না। সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের অর্জিত স্বাধীনতার সৈনিক হিসেবে মর্যাদা দিচ্ছেন।

গত রবিবার জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক বরাদ্দকৃত ভূমিহীন ও অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের নামে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার ‘বীর নিবাস’ নামক বাসভবনের দলিলাদি মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদেরকে হস্তান্তর করেন।

জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি এ সময়ে বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর মুক্তিযোদ্ধারা মর্যাদা ও সম্মান পায়নি। অভাব, অনটন ও আকাশের নীচে দিনযাপন করে সংসার চালিয়েছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের উপর চালানো হয়েছে নির্যাতন। স্বাধীনতার স্বপক্ষের তথা মুক্তিযুদ্ধের সরকার ক্ষমতায় আসার পর অস্বচ্ছল ও ভূমিহীন মুক্তিযোদ্ধাদের বাসভবন নিশ্চিত করতে শেখ হাসিনার নির্দেশেই মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

দিনাজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুর রহমান জানান, সদরের ১০টি ইউনিয়নে একজন করে মুক্তিযোদ্ধাকে আট লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি করে ‘বীর নিবাস’ ভবন দেওয়া হচ্ছে। সদর উপজেলার ৫নং শশরা ইউনিয়নের মহতুল­াপুর গ্রামে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদেরকে বাড়ির দলিলাদি হস্তান্তর করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার ‘বীর নিবাস’ বাসভবন হস্তান্তরের কার্যক্রম শুরু হলো। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইমদাদ সরকার, সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিত্ ঘোষ কাঞ্চন, উপজেলা প্রকৌশলী ফারুক হাসান, সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার লোকমান হাকিম, ডেপুটি কমান্ডার আব্দুল জলিল, রাজারামপুর মিলন ক্লাবের সভাপতি মহসিন আলী, ফুলতলা সমাজ উন্নয়ন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রহমত আলী প্রমুখ।