২৭ লাখ লোকের কর্মসংস্থান হবে

* জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৫ শতাংশের প্রত্যাশা
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
চলতি বছর (২০১৭) বাংলাদেশে ২৭ লাখ লোকের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৫ শতাংশ প্রাক্কলন করার কথা জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি গত অর্থবছরের চেয়ে ছাড়িয়ে যাবে। অর্থবছরের প্রথম ৬ মাস দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে ২০১৭ সালের অর্থনীতি ২০১৬ সালের অর্থনীতির চেয়েও শক্তিশালী অবস্থানে থাকবে। কৃষি, সেবা ও শিল্প খাতের ওপর ভিত্তি করেই প্রধানত জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়ে। তবে এক্ষেত্রে শ্রমিকের অভাবে কৃষিতে প্রবৃদ্ধি সামান্য কমেছে। কিন্তু আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি কৃষি খাত যান্ত্রিকীকরণ করার। গতকাল রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী তার মন্ত্রণালয়ের চলতি বছরের পরিকল্পনা, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি), রেমিটেন্স, প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস ইত্যাদি বিষয়ে কথা বলেন। এ সময় পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য শামসুল আলম এই মিট দ্য প্রেসে উপস্থিত ছিলেন। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ২০১৭ সালে আমাদের পরিকল্পনা হলো, একনেক সভায় যে প্রকল্পগুলো পাস হয় তা বাস্তবায়ন হয় কিনা- তা মনিটরিং করব। আগে মনিটর করার ব্যবস্থা রাখা হতো না। ফলে এডিপি বাস্তবায়ন কম হতো। অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের সামষ্টিক অর্থনীতি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে বছর শেষে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। অথচ বিশ্বব্যাংক চলতি অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি হবে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের দেয়া পূর্বাভাসের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাংক সব সময় রক্ষণশীল পদ্ধতিতে প্রবৃদ্ধির হিসাব করে থাকে। এ কারণে বিশ্বব্যাংকের প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলনের সঙ্গে বিবিএসের হিসাবের পার্থক্য থাকে। এটা স্বাভাবিক ঘটনা। তবে এতে লুকোচুরির কিছু নেই। আইএমইডি যেমন সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প তদারক করে থাকে, বিশ্বব্যাংকও বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হিসাব তৈরির কাজটি তদারক করে। গত কয়েক বছরের বিবেচনায় চলতি অর্থবছরে বিশ্বব্যাংকের প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাস অনেক বেশি, যেটিকে ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেছেন মন্ত্রী।
এত কর্মসংস্থান কীভাবে হবে-জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতি বছর দেশে ২০ লাখ মানুষ চাকরির বাজারে আসে। চলতি বছর এর চেয়ে বেশি চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হবে। এই বছর বিদেশে ছয় থেকে সাত লাখ আর দেশের ভেতর ২০ থেকে ২১ লাখ চাকরির সুযোগ তৈরি হবে। বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করতে যদি প্রণোদনা দিতে হয় তা দেব। তাছাড়া স্থিতিশীল পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করে বড় বড় কোম্পানিগুলো ব্যবসা বাড়াবে। ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এছাড়া জ্বালানি খাতে দুর্বলতা আছে। এটা অল্প সময়ে সমাধান হয় না। এর জন্য দুই থেকে পাঁচ বছর সময় প্রয়োজন।
এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশে এখন ২৭ ট্রিলিয়ন গ্যাস মজুত আছে। যার মধ্যে ১৪ ট্রিলিয়ন ব্যবহার হয়েছে। বাকি যা আছে তা দিয়ে আরও ১২ থেকে ১৩ বছর চলা যাবে। এই অবস্থায় জ্বালানি সমস্যা সমাধানে সরকার এলএনজি টার্মিনাল করছে। দুই থেকে তিনটি টার্মিনাল হলে আমাদের চাহিদা মেটানো সম্ভব। এলপিজি গ্যাস দিয়ে গৃহস্থালী ও শিল্প কারখানা চলতে পারে। তবে এর জন্য এক বছর কষ্ট করতে হতে পারে।
চলতি বছর মন্ত্রণালয়ের অধীন চারটি প্রতিষ্ঠানকে ঢেলে সাজানোর লক্ষ্যের কথা জানান পরিকল্পনামন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রতিবছর সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের পরিধি ও আকার বাড়ছে। এজন্য বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি), বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস), বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) এবং জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমি (এনএপিডি) শক্তিশালী করা হবে। তিনি বলেন, প্রশিক্ষিত জনবলের মাধ্যমে প্রকল্প কাজ তদারকে গতি আনতে আইএমইডিকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। পরিকল্পিত উন্নয়নের জন্য সঠিক সময়ে যথাযথ পরিসংখ্যান দরকার। কিন্তু বিদ্যমান কাঠামোতে বিবিএস এই কাজটি এখনও যথাযথভাবে করতে পারছে না। অনেক ক্ষেত্রেই পুরাতন ফিগার ব্যবহার করতে হচ্ছে। একারণে বিবিএসকেও শক্তিশালী করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, বিআইডিএস বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান। কিন্তু নানা কারণে এটিকে যথাযথভাবে ব্যবহার করা যায়নি। সরকার এখন বিআইডিএসকে সেন্টার অফ একসিলেন্স হিসেবে গড়ে তোলার জন্য এ সংক্রান্ত আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিচ্ছে। এটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে পুনর্গঠন করা হবে। দেশের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় ইস্যুতে গবেষণার পাশাপাশি এখানে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাও দেয়া হবে। একই উদ্দেশ্যে এনএপিডিকেও শক্তিশালী করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।
রেমিটেন্স বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, হুন্ডিসহ অন্যান্য অপ্রচলিত মাধ্যমে রেমিটেন্সের অর্থ দেশে ঢুকছে। এজন্য রেমিটেন্সের প্রবাহ কম মনে হচ্ছে। যা রেকর্ড হচ্ছে না। আবার অনেকে ক্যাশ টাকা না এনে স্বর্ণ আনছেন। যা পার্শ্ববর্তী দেশে পাচার করছে। ফলে এগুলো রেকর্ড না হওয়ায় মনে হচ্ছে রেমিটেন্স কমেছে। সরকার অপ্রচলিত পদ্ধতিগুলো বন্ধের উপায় খুঁজছে। প্রচলিত মাধ্যমে রেমিটেন্সের প্রবাহ বাড়াতে পরিকল্পনামন্ত্রী এ খাতে প্রণোদনা দেয়ার বিষয়টি বিবেচনার জন্য অর্থমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান। আমরা ইতোমধ্যেই অবৈধ চ্যানেলগুলো শনাক্ত করেছি। কিন্তু কিছু কারণে সেগুলো প্রকাশ করা হবে না। জিডিপির হিসাবে রেমিট্যান্স ধরা হয় না, তাই এ খাতে প্রবাহ কমলেও প্রবৃদ্ধিতে তা কোন প্রভাব ফেলবে না বলেও মন্ত্রী মনে করেন।