পদ্মাপাড়ে স্বপ্নের সিলিকন সিটি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন : কর্মসংস্থান হবে ১৪ হাজার

দেশের সম্ভাবনাময় খাত আইসিটি। সেই খাতে দক্ষ জনবল নিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে বেকার জনগোষ্ঠীর। উত্তরাঞ্চলের প্রাণকেন্দ্র ও শিক্ষানগরী খ্যাত রাজশাহীতে ৩১ দশমিক ৬৩ একর জায়গার ওপর সিলিকন সিটি নির্মাণে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে পদ্মাপাড়ে স্বপ্নের বঙ্গবন্ধু সিলিকন সিটি নির্মাণের কর্মযজ্ঞ শুরু করা হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় মহানগরীর নবীনগর এলাকায় বঙ্গবন্ধু সিলিকন সিটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। এ সিটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৮১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংক দেবে ৪৩ কোটি ১৯ লাখ টাকা। সিলিকন সিটি নির্মাণের ফলে ১৪ হাজার তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান হবে। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ঘটবে উত্তরাঞ্চলে।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী আশরাফ উদ্দিনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন রাজশাহীর সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন, রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ও হাইকেট পার্ক প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসনে আরা বেগম। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মাহফুজুল আলম লোটন, অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশা, সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল আলম বেন্টু প্রমুখ।
প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক জানান, দেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহরসহ সারা দেশে ২৮টি হাইটেক পার্ক নির্মাণ করা হবে, যার শুরু রাজশাহী থেকে। এ সিলিকন সিটি হবে যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালির আদলে। এখান থেকেই ফেসবুক ও গুগলের মতো প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে। তিনি আরও বলেন, রাজশাহীতে ৩১ দশমিক ৬৩ একর জায়গার ওপর এ সিলিকন সিটি নির্মাণ করা হচ্ছে। ব্যয় হবে ২৮১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। এ খাতে বিশ্বব্যাংক দেবে ৪৩ কোটি ১৯ লাখ টাকা। যেখানে ১৪ হাজার তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান হবে।
২০১১ সালে রাজশাহীতে এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে হাইটেক পার্ক নির্মাণের দাবি করেছিলেন তৎকালীন সিটি মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী রাজশাহীতে হাইটেক পার্ক স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন। প্রধানমন্ত্রীর সে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ শুরু হয়েছে জানিয়ে খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, রাজশাহীতে প্রায় এক লাখ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। কিন্তু তাদের কর্মস্থানের কোনো সুযোগ রাজশাহীতে নেই। বঙ্গবন্ধু সিলিকন সিটি স্থাপন হলে শিক্ষার্থীরা এখানে কাজের সুযোগ পাবে। তাদের কোনো বিনিয়োগ করতে হবে না। মেধা দিয়ে তারা স্বাবলম্বী হবে। এছাড়াও উত্তরাঞ্চলের লাখ লাখ ছেলেমেয়ে এখান থেকে উপকৃত হবে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ও হাইকেট পার্ক প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসনে আরা বেগম জানান, সিলিকন সিটিতে ১০ তলাবিশিষ্ট একটি এমটিবি ভবন নির্মাণ করা হবে। এছাড়াও ভূমি উন্নয়ন, অভ্যন্তরীণ রাস্তা, মানবসম্পদ উন্নয়ন সুবিধা সৃষ্টি করা হবে। আর বিশ্বব্যাংকের ঋণের ৪৩ কোটি ১৯ লাখ টাকায় অভ্যন্তরীণ রাস্তা ও ভূমি উন্নয়নসহ কিছু সহায়ক অবকাঠামো এবং ৬২ হাজার বর্গফুট আয়তনের পাঁচতলাবিশিষ্ট একটি আইটি ইনকিউবেটর কাম ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন করা হবে। ৩ বছরের মধ্যে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে বলে জানান তিনি। সিলিকন সিটিতে প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান দুইটাই দেয়া হবে।
উল্লেখ্য, গেল বছর ২৩ ডিসেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় রাজশাহীতে বঙ্গবন্ধু সিলিকন সিটির অনুমোদন দেয়া হয়। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ২৮১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা সম্ভাব্য ব্যয় ধরে তা অনুমোদন করা হয়।