ডিজিটাল নির্বাচন

কেউ সম্ভবত এটি ভালো করে লক্ষ্য করেননি যে, আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির কাছে ডিজিটাল নির্বাচনের দাবি পেশ করা হয়েছে। কেউ বোধহয় এটিও মনে রাখেননি যে, আজকের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাই ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়নের দাবি তুলেছিলেন যা তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাস্তবায়িত করেছিল। এই প্রসঙ্গেই আমি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের দিকে একটু তাকাতে পারি। না, আমি সেলিনা হায়াৎ আইভীর ঐতিহাসিক বিজয় নিয়ে আলোচনা করব না, আলোচনার বিষয় হবে নারায়ণগঞ্জের ১১ সালের নির্বাচনে ব্যবহৃত ইভিএম। একদম শুরুতেই ডিজিটাল নির্বাচন বিষয়ে একটি মন্তব্য উদ্ধৃত করছি; Charles Stewart of the Massachusetts Institute of Technology estimates that 1 million more ballots were counted in the 2004 USA presidential election than in 2000 because electronic voting machines detected votes that paper-based machines would have missed.[24] https://en.wikipedia.org/wiki/Electronic_voting)
ওরা তো কাগজের ব্যালট গণনার মেশিনের কথা বলেছে। আমরা ট্রেডবডির নির্বাচনে এখন কাগজের ব্যালট মেশিন দিয়ে গুনি। সেদিনই আমি জাতীয় প্রেসক্লাবের নির্বাচনে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করেছি। তবে আমরা তো জাতীয় নির্বাচনে সেই স্তরেও উঠতে পারিনি। বরং এখনো হাতে গুণে গুণে ভোটের হিসাব করি।
নারায়ণগঞ্জের সিটি কর্পোরেশন দুটি ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটিয়েছে। প্রথমটি ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন ব্যবহার করে, অন্যটি সেলিনা হায়াৎ আইভীর ধারাবাহিক ঐতিহাসিক বিজয়ের মধ্য দিয়ে সাধারণ মানুষের বিজয়ের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। প্রথম নির্বাচনের কথাই স্মরণ করা যায়। আমি সেই নির্বাচনের ফলাফলের প্রেক্ষিতে তিনটি বিজয় লক্ষ্য করেছিলাম। এসব বিজয়ের প্রতি পাঠক-পাঠিকাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায়। আমি মনে করি, খুব সহজভাবেই এই নির্বাচনে প্রথমত জনগণ জিতেছিল। নির্বাচনে সরাসরি বিজয় হলো ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর। তবে আমি মনে করি, এসব খুব সাধারণ ঘটনা ছিল। নির্বাচন নিরপেক্ষ হলে জনগণই জেতে। জনগণ যদি স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারে তবে জনগণের প্রিয় মানুষেরাই জয়ী হয়। ফলে জনতা ও সেলিনার বিজয় হচ্ছে একটি স্বাভাবিক বিজয়। কিন্তু নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনে তৃতীয়পক্ষের বিজয় হয়েছিল। সেই তৃতীয়পক্ষের বিজয় হয়েছিল ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের। সেবারই প্রথম ইভিএম ব্যাপক আলোচনায় আসে। এর পক্ষে-বিপক্ষে প্রচুর বাদানুবাদ হয়। তারপরও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত ইভিএম জনগণের কাছ থেকে অভিনন্দিত হয়।
বলা যায়, নবগঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচনে ৯টি ওয়ার্ডে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন ব্যবহারের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে ডিজিটাল পদ্ধতির নির্বাচনের প্রাথমিক সূচনা হয়েছে। যদিও এর আগে চট্টগ্রামে ইভিএম মেশিন আরো সীমিতভাবে ব্যবহৃত হয়েছে তথাপি নারায়ণগঞ্জের প্রয়োগটি ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দেশে তৈরি ভোটিং মেশিনের ব্যবহার নারায়ণগঞ্জে পরীক্ষামূলক হলেও এর ফলাফলের ওপর নির্ভর করছিল যে আগামীতে এর সম্প্রসারণ হবে কিনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৭ সালের আগেও বেশ কয়েকবার ইলেকট্রনিক ভোটিং ব্যবস্থা প্রবর্তনের কথা বলেছেন। ফলে নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল। তবে এখনো সংকট হচ্ছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এই ব্যবস্থা প্রবর্তনের বিরোধিতা করে আসছে। নারায়ণগঞ্জের নির্বাচন নিয়ে প্রথম দিকে ইভিএমের বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করলেও পরে বিএনপি প্রার্থী ইভিএমের বিরোধিতা করেন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী শামিম ওসমান ইভিএম নিয়ে নির্বাচনের আগে পক্ষে কথা বলেছেন। নির্বাচনে হেরে গিয়ে ইভিএমের কারচুপির প্রসঙ্গ তুলে পরে সেইসব আবার দলীয় চাপে (সম্ভবত) প্রত্যাহার করেন। নারায়ণগঞ্জের বিজয়ী প্রার্থী সেলিনা বরাবরই ইভিএমের পক্ষে ছিলেন। সুখের বিষয় হলো- নির্বাচনে জনগণ স্বতঃস্ফ‚র্তভাবে এই যন্ত্রটিকে বিপুলভাবে সমর্থন করেছেন। সার্বিকভাবে বাংলাদেশ একটি ডিজিটাল নির্বাচন ব্যবস্থার দিকে ধাবিত হচ্ছিল।
স্মরণ করা ভালো, নির্বাচন ব্যবস্থা ডিজিটাল করার জন্য সবচেয়ে জরুরি একটি কাজ যাকে আমরা ছবিসহ ভোটার তালিকা বলছি সেটি আগেই সম্পন্ন হয়েছে। এখন কেবল ভোটিং মেশিনটা চালু হলেই আমাদের নির্বাচন ব্যবস্থার ডিজিটাল যাত্রা শুরু হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে নারায়ণগঞ্জের পথের রেখা বনে-বাদাড়ে হারিয়ে গেছে। দেশের নির্বাচন কমিশন নারায়ণগঞ্জের সফলতাকে সামনে নিয়ে যায়নি।
প্রসঙ্গ ফখরুদ্দিন : তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ফকরুদ্দিন আহমেদ গত ১২ এপ্রিল ২০০৭ সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেয়া তার ভাষণে ২০০৮ সাল শেষ হওয়ার আগেই (সর্বশেষ দিন ৩১ ডিসেম্বর ২০০৮) জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রতিশ্রæতি দিয়েছিলেন। এর আগে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ভোটার তালিকা ও পরিচয়পত্র তৈরির সময়সীমা আঠারো মাস হবে বলে জানানো হয়েছিল। যদিও সরকারের বিশেষজ্ঞ কমিটি এই কাজ করার জন্য এক বছর (প্রস্তুতির চারমাস এবং কাজের জন্য আট মাস) সময় লাগবে বলে রিপোর্ট দিয়েছিল, তবুও নির্বাচন কমিশন সম্ভবত সময়ের জন্য ব্যর্থতার রিস্ক এড়াতে ছয় মাস বাড়তি সময় হাতে রেখেই সময় ঘোষণা করেছিল। এটি এক দিক থেকে প্রশংসনীয় ছিল। কারণ নির্ধারিত সময়ের মাঝে কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হওয়ার চেয়ে একটু বেশি সময় নেয়া উত্তম। অবশেষে ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রস্তুত করে ২৯ ডিসেম্বর ২০০৮ জাতীয় নির্বাচন ও পরে উপজেলা নির্বাচন করে ফখরুদ্দিন সরকার বিদায় নিয়েছে। তবে তিনি তাতে ডিজিটাল ভোটিং পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেননি। তার আমলে যেভাবে নির্বাচন করা হয়েছে তাকে আরো উন্নত ও ডিজিটাল করা যেত কিনা সেটি নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। কিন্তু বাস্তবতা হলো ছবিসহ ভোটার তালিকার বাইরে পা রাখার মতো সাহস সেই সরকারের ছিল না। তবে তারা যে নির্বাচন ব্যবস্থার কিছু অংশকে ডিজিটাল করতে চেয়েছিলেন সেই বিষয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই। তারা বুঝতে পেরেছিলেন যে, আজ হোক আর কাল হোক নির্বাচন ব্যবস্থা যে ডিজিটাল হবেই তাতে কোনো সন্দেহ রাখার সুযোগ নেই।
আমরা পেছনের দিকে তাকিয়ে ডিজিটাল নির্বাচন ব্যবস্থা গড়ে ওঠার ইতিহাসটা একটু দেখে নিতে পারি।
ই-ভোটিং ও তার প্রেক্ষিত : ১৯৬০ সালে পাঞ্চ কার্ড (কম্পিউটারে ডাটা সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত এক ধরনের পদ্ধতি) প্রস্তুত হওয়া শুরু হলেই ইলেকট্রনিক ভোটিং পদ্ধতির ধারণার জন্ম হয়। তবে জাতীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে পাঞ্চ কার্ড ভোটিং পদ্ধতি তেমন জনপ্রিয়তা পায়নি। এরপর প্রচলিত হয় ডিআরই (ডাইরেক্ট রেকর্ডিং ইলেকট্রনিক) পদ্ধতি। এটি বেশ জনপ্রিয়। দুনিয়ার অনেক দেশ এখন এটি ব্যবহার করে। ই-ভোটিংয়ের আরেকটি ধরন হলো কাগজভিত্তিক। একে ডকুমেন্ট-ব্যালট ভোটিং সিস্টেমও বলা হয়। এখন পর্যন্ত যেসব ক্ষেত্রে জাতীয় নির্বাচনে ই-ভোটিং পদ্ধতি চালু করা হয়েছে এবং অব্যাহত রয়েছে তাতে ডিআরই পদ্ধতিই ব্যবহার করা হয়েছে। এই ডিআরই (ডাইরেক্ট রেকর্ডিং ইলেকট্রনিক) পদ্ধতিতে ভোটদান এরই মাঝে কিছু কিছু দেশে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ব্রাজিলে এই পদ্ধতিটি সর্বাধিক প্রচলিত। ওখানকার সবাই জাতীয় নির্বাচনে এই পদ্ধতিতে ভোট দেয়। আমাদের পাশের দেশ ভারতে এই পদ্ধতি ১৯৯৮ সাল থেকেই চালু আছে। ২০০৪ সালেও ভারত এই পদ্ধতিতে নির্বাচন করেছে। বড় দেশ বলে তারা পুরো দেশটাতে এখনো এই পদ্ধতিতে নির্বাচন চালু করতে পারেনি। ভারত ছাড়াও নেদারল্যান্ড, ভেনেজুয়েলা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও ই-ভোটিং চালু আছে। ডিআরই পদ্ধতি ছাড়াও এস্তোনিয়া এবং সুইজারল্যান্ডে ইন্টারনেট ভোটিং চালু আছে। সম্ভবত ইন্টারনেট ভোটিংই হবে এক সময়ে ভোট দেয়ার সবচেয়ে কার্যকর পন্থা। তবে তার আগে দূর করতে হবে আরো অনেক সমস্যা। ইলেকট্রনিক ভোটিং নিয়ে ব্যাপকভাবে কাজ হয়েছে ব্রাজিলে। সেই দেশটিতে ১৯৯৬ সালে ৫০টি পৌরসভায় এই যন্ত্র পরীক্ষা করা হয়। ২০০০ সাল থেকেই তারা এটি ব্যবহার করে আসছে। ২০১০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সাড়ে ১৩ কোটি ভোটার ছিল। সেই নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করতে মাত্র ৭৫ মিনিট সময় লেগেছে।
ভারতের অভিজ্ঞতা : ভারতের দুটি সরকারি প্রতিষ্ঠান বাঙ্গালোরের ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড এবং হায়দরাবাদের ইলেকট্রনিক্স কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়ার মাধ্যমে ইভিএম (ইলেকট্রনিক ভোটিংয়ের মেশিন) মাধ্যমে ১৯৮৯-৯০ সালে উৎপাদিত ইভিএম দিয়ে মধ্যপ্রদেশ (৫টি আসন), রাজস্থান (৫টি আসন) ও দিল্লির (৬টি আসন) মোট ১৬টি আসনে ভোট গ্রহণ করে ১৯৯৮ সালে। ২০০৪ সালে এই ভোট গ্রহণের আওতা আরো বাড়ানো হয়।
যে যন্ত্রটি দিয়ে ভারত ই-ভোটিং করে তার প্রযুক্তি খুব সাধারণ। এর জন্য জাপান থেকে প্রসেসর আমদানি করা হয়। সেই প্রসেসরে নতুন কোনো তথ্য প্রবেশ করানো যায় না। মোট দুটি অংশে বিভক্ত থাকে এই যন্ত্রটি। একটি ব্যালট অংশ। এটির সহায়তায় ভোটার ভোট দেয়। অন্য অংশটিতে ভোটের তথ্য সংরক্ষণ করা হয়। এই যন্ত্রগুলো ব্যাটারিচালিত। প্রতিটি যন্ত্র মোট ৩৮৪০টি ভোট গ্রহণ করতে পারে। একটি যন্ত্রে ১৬ জন করে মোট ৬৪ জন প্রার্থীর ভোট দেয়র ব্যবস্থা করা যায়। এই যন্ত্রে কেউ একবার ভোট দিলে যন্ত্রটি লকড হয়ে যায় এবং যতই চেষ্টা করা হোক এতে দ্বিতীয় ভোট ততক্ষণ দেয়া যাবে না যতক্ষণ আবার ভোট দেয়ার জন্য সেটি আনলক করা হবে না। এই যন্ত্রগুলোর রেকর্ড অমোচনীয়। ফলে প্রয়োজনে পুনঃগণনা করা যায়।
ডিজিটাল ভোটিংয়ের ভালো-মন্দ : ডিআরই পদ্ধতির সমালোচকরা বলেন যে, এর ফলে জাল ভোট সম্পূর্ণ বন্ধ করা যায় না। বিশেষ করে ভোটার তার ভোট দেয়ার কোনো প্রমাণপত্র হাতে পায় না বলে সন্তুষ্টির প্রশ্ন থেকে যায়। আমেরিকায় এই পদ্ধতির সমালোচনা করতে গিয়ে বলা হয়, DRE machines must have a voter-verifiable paper audit trails. ভারতে এই পদ্ধতির সমালোচনা করতে গিয়ে বলা হয়েছে যে, এর ফলে কোনো এলাকার ভোটাররা কাকে কম বা কাকে বেশি ভোট দিয়েছে তা জানা যায়। তবে সারা দুনিয়ার যেখানেই ই-ভোটিং চালু হয়েছে সেখানেই এর সুফলগুলো খুব স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। সম্পূর্ণভাবে বন্ধ না হলেও ডিআরই পদ্ধতিতে জালভোট, ভোটকেন্দ্র দখল ইত্যাদি প্রায় অনেকটাই বন্ধ করা যায়। ভোটিং মেশিনে ভোটদানের সুবিধার মাঝে আছে খুব দ্রুত ভোট গণনা করতে পারার ব্যাপারটি। এটিকে সবার আগেই উল্লেখ করা যায়। এই ব্যবস্থায় আমাদের দেশের ভোট গণনার প্রচলিত নিয়ম অনুসারে ভোটকেন্দ্রে ভোট গণনা করতে কয়েক মিনিট সময় লাগবে মাত্র। এর মানে দাঁড়াবে যে, ভোট গ্রহণ শেষ করার সঙ্গে সঙ্গে ফলাফল দেয়া যাবে। কোন এলাকায় কে বেশি আর কে কম ভোট পেল সেটি আমাদের প্রচলিত পদ্ধতিতে জানা যায়। ফলে ভারতে যে কারণে ভোটিং মেশিন সমালোচিত, সেটি আমাদের জন্য প্রযোজ্য হবে না। অনেকেই মনে করেন, মেশিনে ভোট দেয়াটা আমাদের মতো ‘অশিক্ষিত’ মানুষের দেশে জটিলতা বাড়াবে। কিন্তু তারা হয়তো ভারতের কথা মাথায় রাখেননি। ভারতে প্রচলিত পদ্ধতির ভোটদানের চাইতে মেশিনে ভোট দেয়া অশিক্ষিত লোকদের জন্য সহজ বলে প্রমাণিত হয়েছে। মেশিনে বা তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ভোটদানে আরো যেসব সুবিধার কথা বলা হয়েছে তার মাঝে আছে ভোটের নিরাপত্তা, ভোটযন্ত্রের বহনযোগ্যতা এবং নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা। কেউ কেউ বলেন যে, এই পদ্ধতির ভোটদানের জন্য যন্ত্র বাবদ ব্যয় হবে অনেক টাকা। ভারতে শুরুতে একটি ভোটিং যন্ত্র তৈরি করতে খরচ পড়ত ৫ হাজার ৫০০ রুপী। এখন সেটি প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। আমি বাংলাদেশের টাকায় একে বর্তমান বাজার দরে পাঁচ হাজার টাকার বেশি দাম পড়বে বলে মনে করি না। কারণ প্রযুক্তির দাম কমেছে অনেক। এ ছাড়া এই ব্যবস্থায় ভোট গ্রহণের মোট ব্যয় কমে যাবে। কেননা এই ব্যবস্থায় ব্যালট পেপার ছাপা-পরিবহন, কালি, স্ট্যাম্প, স্টাফের খরচ কমবে। শুধু তাই নয়, সার্বিক সময়ও কমবে এতে।
মোস্তাফা জব্বার : তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, কলামিস্ট।