বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে চমক তুলছে পাটখড়ি

অবশেষে ফেলনা পাটখড়িরও আকাশচুম্বী কদর তৈরি হতে চলেছে। এ পাটখড়ি সোনার দামের অবস্থানে চলে গেলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। ওয়াকিবহালদের মতে, পাট যেমন সোনালি আঁশের পরিচিতি এনে দিয়েছিল, এবার তার খড়িও চমক সৃষ্টি করতে চলেছে। জানা গেছে, বিশেষ চুল্লিতে পাটখড়ি পুড়িয়ে উৎপাদন করা হচ্ছে কার্বন বা চারকোল। এই কার্বন বিদেশে রপ্তানি করা হচ্ছে। কার্বন পাউডার বা চারকোল কিনে নিচ্ছে চীনসহ কয়েকটি দেশ। তারা কার্বন থেকে কার্বন পেপার, কম্পিউটার ও ফটোকপিয়ারের কালি, আতশবাজি, ফেসওয়াশের উপকরণ, মোবাইলের ব্যাটারি, প্রসাধনপণ্য, দাঁত পরিষ্কারের ওষুধ ও খেতের সারসহ বিভিন্ন পণ্য তৈরি করছে। শুধু চীন নয়, পাটখড়ির কার্বনের চাহিদা তৈরি হয়েছে মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপান, ব্রাজিল, তাইওয়ান, তুরস্ক, দক্ষিণ কোরিয়া, জার্মানিসহ ইউরোপের দেশগুলোতে। ইউরোপে ওয়াটার পিউরিফিকেশন প্লান্টেও রয়েছে এর ব্যাপক চাহিদা। এই প্রেক্ষাপটে দেশে পাটখড়ি থেকে কার্বন তৈরির কারখানার সংখ্যা বেড়ে চলেছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ২৫টির মতো কারখানা গড়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, পাটখড়ির কার্বন দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত তৈরি করছে। যা দেশের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ারও খুলে দিচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিভিন্ন এলাকা থেকে এজেন্টের মাধ্যমে পাটখড়ি কিনে আনা হয় কারখানায়। পরে সেগুলো বিশেষ চুল্লিতে লোড করে আগুনে জ্বালানো হয়। এভাবে ১০-১২ ঘণ্টা জ্বালানোর পর চুল্লিটি মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়, যাতে কোনোভাবে অক্সিজেন প্রবেশ করতে না পারে। এভাবে চার দিন রাখার পর সেখান থেকে বের করে ক্র্যাশিং করে কার্বন প্যাক করা হয়। পাটখড়ি বা পাটকাঠির ছাই চারকোল নামেও পরিচিত। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো সূত্রে জানা গেছে, পাটখড়ির কার্বন বা চারকোল রপ্তানি করে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৫৪ কোটি টাকা আয় হয়েছে। বাংলাদেশ চারকোল উৎপাদক ও রপ্তানিকারক সমিতি বলছে, বাস্তবে এ খাত থেকে বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রা আয় হচ্ছে ১৫০ কোটি টাকা। শিগগিরই তা ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় উঠে যাবে।

পাট অধিদফতর সূত্র মতে, দেশে বছরে পাটখড়ি উৎপাদন হয় ৩০ লাখ টন। এর ৫০ শতাংশকেও যদি কার্বন করা যায় তাহলে দেশে বছরে উৎপাদন দাঁড়াবে ২ লাখ ৫০ হাজার টন। এ খাত থেকে বছরে রপ্তানি আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে ৩২ কোটি ২৫ লাখ ডলার।

আর সরকার এ খাত থেকে বছরে রাজস্ব পাবে ৪০ কোটি টাকা। এ ছাড়া প্রত্যক্ষভাবে ২০ হাজার ও পরোক্ষভাবে ২০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানও তৈরি হবে। পাটখড়ি থেকে কার্বন উৎপাদনকারী এস জে জে কারখানার ম্যানেজার ওয়াহেদুজ্জামান জানান, চুল্লিতে পাটখড়ি পুড়িয়ে

গত ছয় মাসে ১১০ টন কার্বন রপ্তানি করা হয়েছে। এ কারখানায় বর্তমানে ৫০ থেকে ৬০ জন শ্রমিক কাজ করছেন। ভবিষ্যতে কারখানা বৃহৎ পরিসরে করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তার মতে, ছাই ছাড়াও পাটখড়ি থেকে কয়লা বা অ্যাকটিভেটেড চারকোল উৎপাদন করতে পারলে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে যাবে।