উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে রয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আজ আমরা উন্নয়ন মেলা করছি। এর মাধ্যমে উন্নয়নের পথে দেশ সফলভাবে এগিয়ে চলেছে। এর আগে আমরা যত পঞ্চবার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছি, তাতে সফল হয়েছি। এরপর নতুন করে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। দেশের উন্নয়ন যাতে স্থায়ী হয় এবং এর সুফল যেন দেশের মানুষ পায়, সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।’ গতকাল সোমবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে উন্নয়ন মেলার উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন। খবর :বাসস ও বাংলানিউজের।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশকে পিছিয়ে দেওয়ার দিন শেষ হয়েছে। হত্যা-ক্যুর রাজনীতি বিদায় নিয়েছে। আমাদের দেশ এখন বিশ্বসভায় উন্নয়নের রোল মডেল। আমরা সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পর এখন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও কাজ করছি। বাংলাদেশকে এখন আর কেউ দরিদ্র বা দুর্যোগের দেশ বলে অবহেলা করতে পারে না; বরং আমাদের উন্নয়ন আজকে তাদের কাছে দৃশ্যমান। একটি পরিকল্পিত নীতিমালার ভিত্তিতে তার সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নিয়েছে বলেই আজকে দেশের উন্নয়ন সমগ্র জাতি ও বিশ্ববাসীর কাছে দৃশ্যমান হচ্ছে।

তিনি বলেন, জাতির পিতা ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে দেশে ফিরেই ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বক্তৃতায় বলেছিলেন, তার দেশের মানুষ যেন অন্ন, বস্ত্র ও উন্নত জীবন পায়। দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো এবং বাংলাদেশকে বিশ্বসভায় একটি মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করা- বঙ্গবন্ধুর সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণের লক্ষ্য নিয়েই আমরা এগিয়ে চলেছি।

শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সরকার প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নেও ব্যাপকভাবে কাজ করছে। আমরা ডিজিটাল সেন্টার করে দিয়েছি, জনগণ সেখান থেকে সেবা পাচ্ছে। প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ফলেই আজ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই উন্নয়ন মেলার উদ্বোধন করছি।

দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে সচেতন নাগরিক, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ৬৪ জেলা এবং ৪৯০টি উপজেলায় উন্নয়ন মেলা করছি। বিভিন্ন দেশে আমাদের যেসব দূতাবাস রয়েছে, তারাও সুবিধামতো সময়ে এই মেলার আয়োজন করছে, যেন বিদেশিরাও জানতে পারে আমরা উন্নয়নের জন্য কী কী কাজ করছি। মেলায় আমরা সরকারি সেবাসমূহের তথ্যচিত্র প্রদর্শন করছি। এভাবে মানুষ তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হবে। মুখে হয়তো আমরা এমডিজি, এসডিজি বলি, কিন্তু এ থেকে দেশের মানুষ কী কী সুবিধা পাবে, তা এই মেলার

মধ্য দিয়ে জানা যাবে।

তিনি বলেন, আমরা ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলব। কোন অঞ্চলে কী উৎপাদন হয় তার ভিত্তিতে কীভাবে শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা যায়, তা নিয়ে ভাবছি। এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলে যেন আরও বিনিয়োগ আসে, সে পদক্ষেপ নিয়েছি। আরও কী কী হলে ভালো হয়, সে মতামত নিচ্ছি। কেউ সমস্যায় পড়লে সমাধান করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. আবদুল মালেক প্রমুখ।