‘উন্নয়নের জন্য গণতন্ত্র শেখ হাসিনার মূলমন্ত্র’ উন্নয়ন মেলার থিম

মাত্র দশ বছরে মাথাপিছু জাতীয় আয় প্রায় তিনগুণ বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৪৬৫ মার্কিন ডলার। দারিদ্র্যের হার কমে ২৩ শতাংশে নেমে এসেছে। এই সময়ে রফতানি বেড়েছে সাড়ে তিনগুণ এবং সোয়া তিনগুণ বেড়েছে প্রবাস আয়। প্রায় ৯ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩০ বিলিয়ন ডলারে। দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের এই অর্জন দেশের প্রতিটি মানুষকে জানাতে তিনদিনব্যাপী শুরু হয়েছে উন্নয়ন মেলা। সারাদেশের মতো ঢাকা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতেও উন্নয়ন মেলা চলছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পাশাপাশি ভিশন-২০২১ ও ভিশন-২০৪১ অর্জনে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের সফলগাথা জনগণের সামনে তুলে ধরাই এই মেলার মূল লক্ষ্য।

এবারের উন্নয়ন মেলার থিম হচ্ছে- ‘উন্নয়নের জন্য গণতন্ত্র, শেখ হাসিনার মূলমন্ত্র’। সকল সরকারী, আধাসরকারী ও বেসরকারী সংস্থার পক্ষ থেকে মেলায় আগত লোকদের সামনে তাদের নিজ নিজ সংস্থার সফলগাঁথা তুলে ধরা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১০টি বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণের ঘোষণার মাধ্যমে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এই ১০টি বিশেষ উদ্যোগ হচ্ছেÑ একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প, আশ্রয়ণ প্রকল্প, ডিজিটাল বাংলাদেশ, শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচী, নারীর ক্ষমতায়ন কর্মসূচী, সকলের জন্য বিদ্যুত, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচী, কমিউনিটি ক্লিনিক ও মানসিক স্বাস্থ্য, বিনিয়োগ উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণ। মেলায় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ৮০টি স্টল রাখা হয়েছে।

ঢাকা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন জানিয়েছেন, উন্নত বাংলাদেশ গঠনে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম জনসাধারণের সামনে এ মেলায় উপস্থাপন করা হবে। মেলায় দেশের সব মন্ত্রণালয়, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ, আনসার, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পৃথক পৃথক স্টল থাকবে শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে। সব সরকারী, আধাসরকারী ও বেসরকারী সংস্থার পক্ষ থেকে মেলায় আগত লোকদের সামনে তাদের নিজ নিজ সংস্থার উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরবে। এতে গত এক দশকের অগ্রগতি ও উন্নয়ন তুলে ধরা হবে।

এদিকে এবার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে ‘উন্নয়ন মেলা-২০১৭’ উদযাপন করা হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি পাকিস্তানের বন্দীদশা থেকে মুক্তি পেয়ে রক্তস্নাত স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে পা রেখেছিলেন। প্রতিবছর এই দিনটি সভা-সেমিনার ও র‌্যালি আয়োজনের মাধ্যমে পালিত হয়ে আসলেও এবারই প্রথম বারের মতো জনসভার পাশাপাশি বড় পরিসরে মেলার মাধ্যমে পালনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ‘সোনার বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে দেশ কতটুকু এগিয়েছে সেসব বিষয় উন্নয়ন মেলার মাধ্যমে তুলে ধরা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, জাতির পিতার স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে সরকার কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সেসব বিষয় তুলে ধরতে বিদেশী উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের উন্নয়ন মেলায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছেÑ আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও সম্পূর্ণরূপে দারিদ্র্য বিমোচন। এই লক্ষ্য সামনে রেখে চলতি বাজেটে প্রবৃদ্ধি, উন্নয়ন এবং সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার দিকে সবচেয়ে বেশি নজর দেয়া হয়েছে। বঙ্গবন্ধুও দেশের দায়িত্ব গ্রহণের পর দারিদ্র্য বিমোচনসহ অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচী গ্রহণ করেছিলেন। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হওয়ার পর দেশের অর্থনীতি আর স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারেনি। তার অসমাপ্ত কাজ শেষ হতে পারেনি। তবে ২০০৯ সালে দ্বিতীয়বারের মতো দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার রূপকল্প-২১ বাস্তবায়নের কৌশলগত দলিল হিসেবে প্রেক্ষিত পরিকল্পনা (২০১০-২১) প্রণয়ন করে। প্রেক্ষিত পরিকল্পনায় গৃহীত কর্মকৌশল ও কার্যক্রম বাস্তবায়নের প্রথম ধাপ ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মেয়াদ ২০১০-১৫ মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।

এ সময়ে আর্থ-সামাজিক খাতে প্রভূত উন্নতি সাধিত হয়েছে। কর্মসংস্থান, মজুরি, খাদ্যশস্য উৎপাদন, মূল্যস্ফীতি, আমদানি-রফতানিসহ সকল অর্থনৈতিক সূচকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির পাশাপাশি বজায় রয়েছে সামষ্টিক অর্থনৈতিক ভারসাম্য ও স্থিতিশীলতা। সরকারের দারিদ্র্যবান্ধব কর্মসূচী এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ফলে দারিদ্র্যের হার কমার পাশাপাশি বৈষম্যও হ্রাস পেয়েছে। দারিদ্র্যের হার ২০১০ সালের ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে হ্রাস পেয়ে ২০১৫ সালে ২৪ দশমিক ৮ শতাংশে একই সময়ে অতি দারিদ্র্যের হার ১৭ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে কমে ১২ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে এসেছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, রূপকল্প-২১ বাস্তবায়নের অন্য লক্ষ্যসমূহ সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা মেয়াদে ২০১৬-২০ অর্জন করা সম্ভব হবে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদ জনকণ্ঠকে বলেন, বর্তমান সরকারের সাফল্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন এখন দৃশ্যমান। সরকারের এসব সাফল্য তুলে ধরা এবং আগামী দিনে দেশকে কিভাবে এগিয়ে নেয়া হবে তা উন্নয়ন মেলার মাধ্যমে জনগণকে জানানো হচ্ছে। এই মেলায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়-বিভাগ নিজস্ব অর্জন ও উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরবে। গত এক দশকে দেশের অর্থনৈতিক ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে কি করা হয়েছে তাও তুলে ধরা হবে। তিনি বলেন, একই সঙ্গে আগামী দিনগুলোতে নতুন যেসব কর্মসূচী আসবে তারও একটি ধারণা দেয়া হবে উন্নয়ন মেলার মাধ্যমে। তিনি বলেন, ২০৪১ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর যে টার্গেট রয়েছে, তা পূরণ করতে হলে জনগণের সহযোগিতা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। আর সরকারের উন্নয়নের কর্মকা- জানতে পারলে জনগণ নিজ থেকে সরকারকে সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসবে।

জানা গেছে, জঙ্গীবাদ-বিএনপি-জামায়াতের অপরাজনীতি এবং নানা প্রতিবন্ধকতার মুখেও বর্তমান সরকার উন্নয়নের পথে হাঁটছে। আগামী ২০২১ সালে এ উন্নয়ন কর্মকা-ের প্রাথমিক ধাপ শেষ হবে। কিন্তু ২৬ বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। লক্ষ্যসমূহ অর্জনের জন্য মধ্যমেয়াদে যেসব বিষয়ে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে তা হলো বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রবৃদ্ধি সঞ্চালক বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প গ্রহণ, মানব সম্পদ উন্নয়ন, কর্মসৃজন, দক্ষ উৎপদানশীলতা, সামাজিক নিরাপত্তার আওতা বৃদ্ধি, পরিকল্পিত নগরায়ন এবং টেকসই পরিবেশবান্ধব নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ। এসব বিষয় উন্নয়ন মেলার মাধ্যমে জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে।