২৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ১৮ মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে

এক সময়ের অবহেলিত বাগেরহাট জেলায় এখন প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ১৮ মেগা প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। এসব প্রকল্পের কাজ ২০১৯ সালের মধ্যে শেষ হবে। ফলে গোটা দক্ষিণাঞ্চলের জীবন-জীবিকার মান উন্নয়নের পাশাপাশি জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে আরও সমৃদ্ধি আসবে। বাগেরহাট হবে দক্ষিণাঞ্চলে উন্নয়নের কেন্দ্র। সরকার গৃহীত বহুমুখী এ সব উন্নয়ন কার্যক্রম জনগণের কাছে তুলে ধরতে আজ সোমবার থেকে তিন দিনব্যাপী ‘উন্নয়ন মেলা’ শুরু হচ্ছে। বাগেরহাট স্বাধীনতা উদ্যান প্রাঙ্গণে উন্নয়ন মেলার আয়োজন করেছে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসন। মেলায় ৫০টি স্টলে জেলা পর্যায়ের সকল সরকারী, আধাসরকারী দফতর, বিভাগ ও প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করছে। এসব স্টলে বর্তমান সরকারের আমলে গত ৯ বছরের নিজ নিজ দফতর গৃহীত ও বাস্তবায়িত উন্নয়নমূলক কর্মকা-ের ভিডিও এবং স্থিরচিত্র প্রদর্শন করা হবে। মেলা চলাকালে রচনা প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পপ গান এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্পের প্রামাণ্যচিত্র এবং স্থিরচিত্র প্রদর্শন করা হবে। এ মেলা সফল করতে সর্বাত্মক প্রস্তুতির পাশাপাশি মেলায় আমন্ত্রণ জানাতে এবার ডিজিটাল প্রচার চালাচ্ছে জেলা প্রশাসন। মেলাকে ঘিরে সর্বত্র ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে।

ডিজিটাল প্রচারের অংশ হিসেবে ‘শেখ হাসিনার দর্শন সব মানুষের উন্নয়ন’ শীর্ষক ৪ মিনিটের ভিডিওতে বাগেরহাটে নির্মাণাধীন খানজাহান আলী বিমানবন্দর, রামপাল বিদ্যুত কেন্দ্র, খননের মাধ্যমে প্রাণ ফিরে পাওয়া মংলা-ঘষিয়াখালি আন্তর্জাতিক নৌপথ, নির্মাণাধীন খুলনা-মংলা রেললাইন, মংলা বন্দরের উন্নয়ন, মংলা খাদ্য গুদাম, মান্টিমিডিয়া ক্লাস রুম, শরণখোলা-মংলা-রামপাল বেড়িবাঁধ, বেজপা ও ইপিজেডসহ বাগেরহাটের উন্নয়নে সরকার গৃহীত বিভিন্ন প্রকল্প তুলে ধরা হয়েছে। একদা অবহেলিত এ জেলায় বর্তমানে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ১৮ মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এগুলো বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলের মানুষের জীবন জীবিকার মান উন্নয়নের পাশাপাশি বাগেরহাট জেলা দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রাণকেন্দ্র হবে বলে জেলা প্রশাসক আশাবাদী।

উন্নয়ন মেলা-২০১৭ সম্পর্কে জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ্বাস বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রচার চালানোর ফলে জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি জানান, মেলায় জেলা প্রশাসনের স্টলে বাগেরহাট জেলায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত মোট ১৮টি প্রকল্পের মধ্যে এ যাবৎ বাস্তবায়িত সাইলো, মংলা বন্দরের পশুর নদী ড্রেজিং ও মেরিন টেকনোলজি ইনস্টিটিউটসহ ৫টি বৃহৎ প্রকল্প এবং বাস্তবায়নাধীন খুলনা-মংলা রেলপথ, খানজাহান আলী বিমানবন্দর, রামপাল তাপবিদ্যুত উৎপাদন কেন্দ্র, বেড়িবাঁধসহ ৫টি মেগা প্রকল্পের অগ্রগতি প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হবে। জেলার পাশাপাশি প্রতিটি উপজেলাতেও ‘উন্নয়ন মেলা’র আয়োজন করা হচ্ছে। এসব মেলায় ব্যানার, ফেস্টুনের মাধ্যমে সরকারের গৃহীত উন্নয়নমূলক কর্মকা-ের চিত্র প্রদর্শন করা হবে।