আন্তর্জাতিক জরিপ ॥ গবেষণায় পঞ্চম স্থানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়

দেশের একমাত্র মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়’ আজ রোগীদের আশা-ভরসার কেন্দ্রস্থল। জাতির জনকের নামে প্রতিষ্ঠিত এ বিশ্ববিদ্যালয়টি আজ উচ্চতর চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা ও চিকিৎসা সেবায় পঞ্চম শ্রেষ্ঠ। প্রায় দু’হাজার শয্যাবিশিষ্ট এ বিশ্ববিদ্যালয়ের হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন ৫ হাজারের বেশি রোগী সেবা গ্রহণ করেন। গবেষণায় সাফল্যের কারণে এই বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রতি স্পেনের সিমাগো রিসার্চ গ্রুপ ও যুক্তরাষ্ট্রের স্কপাস প্রকাশিত জরিপে বাংলাদেশের ১১ নেতৃস্থানীয় বিজ্ঞান গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫ম স্থান অধিকার করে নিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় আজ দেশী ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি উচ্চতর চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণাও আজ এক অন্যন্য নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়। ৯০টিরও বেশি উচ্চতর মেডিক্যাল শিক্ষা বিষয়ক কোর্স এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিচালিত হচ্ছে। অধিভুক্ত কলেজের সংখ্যা ৪২টি। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে ৭টি অনুষদ ও ৫৩টি বিভাগ। জাপানের নাগোয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ভারতের এইমসসহ বিশ্ববিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়, চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও বিশ্ববিদ্যালয়টির রয়েছে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে বিশ্বের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় ও সংস্থার অংশিদারী গবেষণার চুক্তি রয়েছে। তার মধ্যে নাগোয়া বিশ্ববিদ্যালয়, এইমস ছাড়াও রয়েছে জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়, মাহিদোল বিশ্ববিদ্যালয়, রক ফেলার ফাউন্ডেশন, ইউনিসেফ, আইসিডিডিআর’বি, ইএসএইড, সেভ দি চিলড্রেন ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো ইউনিভার্সিটির সঙ্গে উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ায় অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নততর চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা। এ সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের ফলে অসংক্রামক রোগ বিষয়ক গবেষণাসহ নানা কার্যক্রম পেয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ।

গবেষণায় সাফল্যে বিএসএমএমইউর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ॥ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) রয়েছে একটি নিজস্ব রিসার্চ এ্যাডমিনিস্ট্রেশন এ্যান্ড প্রোমোশন সেল। ২০১৬ সালের ২৫ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো ‘বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা দিবস’ বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডাঃ মিলন হলে অনুষ্ঠিত হয়। ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, এমপি। অনুষ্ঠানে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে এ পর্যন্ত সম্পাদিত গবেষণাসমূহ প্রকাশ করা হয় এবং গবেষণার জন্য ৩ গবেষককে বিশ্ববিদ্যালয় পদক প্রদান করা হয়। ওই দিন ‘মেডিক্যাল গবেষণা ॥ বাংলাদেশ প্রেক্ষিত‘ নামক মুক্ত আলোচনায় বাংলাদেশে মেডিক্যাল গবেষণার অর্জন, প্রতিকূলতা এবং ভবিষ্যত নিয়ে মতবিনিময়ে জন ডি. ক্লেমেনস্, এক্সিকিউটিভ পরিচালক, আইসিডিডিআরবিসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষাবিদ, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা অংশ নেন। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে অদ্যাবধি ১৪৪৭টি গবেষণা কর্ম সম্পন্ন করা হয়েছে। ২০১৬ সালে ৭০ শিক্ষক ও ২০০ শিক্ষার্থীকে গবেষণার জন্য অনুদান দেয়া হয়েছে। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করার লক্ষ্যে নানামুখী কর্মকা-ের কারণে সম্প্রতি স্পেনের সিমাগো রিসার্চ গ্রুপ ও যুক্তরাষ্ট্রের স্কপাস প্রকাশিত জরিপে বাংলাদেশের ১১টি নেতৃস্থানীয় বিজ্ঞান গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫ম স্থান অধিকার করে নিয়েছে বিএসএমএমইউ। প্রতিষ্ঠানগুলোর গবেষণা, উদ্ভাবন ও সমাজে এর প্রভাব বিবেচনায় প্রতিবছরই শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করে আসছে সিমাগো রিসার্চ গ্রুপ ও স্কপাস। স্পেনের কয়েকটি শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে পরিচালিত হয় সিমাগো রিসার্চ গ্রুপ এবং একাডেমিক জার্নালের ডাটাবেজ হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রের স্কপাস।

সিমাগো রিসার্চ গ্রুপ ও স্কপাসের জরিপে দেশের পঞ্চম স্থান অর্জনের বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডাঃ কামরুল হাসান খান বলেন, চিকিৎসাসেবার গুণগত মানোন্নয়নে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ধরনের গবেষণা প্রকল্প পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষকদের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদেরও পাঁচ বছরের মধ্যে দুই বছর বাধ্যতামূলক গবেষণা করতে হয়। বিশ্বের উন্নত অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা, প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন ধরনের সম্পর্ক এবং গবেষণা কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।