জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছে বনওয়ারীনগর সিবিপি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়

প্রায় ১০৪ বছর ধরে জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছে ফরিদপুরের বনওয়ারীনগর করনেশন বনমালী পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়। ১৯১২ সালের ২ জানুয়ারি পাবনা জেলার বিখ্যাত তাড়াশ জমিদার রাজর্ষী রায় বনমালী রায় বাহাদুর ৪.১৭ একর জমির উপর টিনের চালা ও বাঁশের বেড়ার প্রায় দু’শ’ হাত লম্বা বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। শুরুতে তৃতীয় থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ১৩ জন হিন্দু মেয়েসহ ১৫৭ জন হিন্দু ও ১৫৬ জন মুসলমান ছাত্র-ছাত্রী এবং দু’জন মুসলমানসহ ১১ জন শিক্ষক ও তিনজন কর্মচারী নিয়ে কেবলমাত্র মানবিক শাখায় বিদ্যালয়টির যাত্রা শুরু হয়। প্রধান শিক্ষক অনুকুল চন্দ্র ভট্টাচার্যকে মাসিক ৬০ টাকা এবং অন্য শিক্ষকদের ১৫ টাকা থেকে ৫৫ টাকা করে বেতন দেয়া হতো। বিদ্যালয়টি ১৯১৪ সালের ৩১ জানুয়ারি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতি পায়। ১৯১৫ সালে প্রথম এ বিদ্যালয় থেকে ছয়জন এন্ট্রান্স পরীক্ষা দিয়ে দু’জন প্রথম, দু’জন দ্বিতীয় ও একজন তৃতীয় বিভাগে পাস করে। ওই বছর জমিদার একশ’ শিক্ষার্থী বসার মতো একটি বিল্ডিং করে দেন। ১৯৬০ সালের ১ জানুয়ারি তত্কালীন প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমানের প্রচেষ্টায় তদানীন্তন শিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞান শাখা স্বীকৃতি লাভ করে। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকে সরকারি অনুদান না পাওয়া পর্যন্ত তাড়াশ জমিদার পরিবার থেকে বার্ষিক ২৪শ’ টাকা অনুদান পেতো। ১৯৫২ সালে জমিদারি প্রথা উচ্ছেদের পর প্রতিষ্ঠানটি সরকারি অনুদান ও শিক্ষার্থীদের বেতনের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। ১৯৮৫ সালে বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হয়।

বর্তমানে বিজ্ঞান, মানবিক, বাণিজ্য ও ভোকেশনাল শাখা মিলে দুই হাজার ১৮৫ জন ছাত্র-ছাত্রী লেখাপড়া করছে। শিক্ষক রয়েছেন ২৯ জন এবং কর্মচারী নয়জন। বিদ্যালয়টি গতবছরের ১৩ জুলাই সরকারিকরণের ঘোষণায় তালিকাভুক্ত হয়েছে। ১৯৯৪ সালে বিদ্যালয়ের ছাত্র গাউস হাসান মাসুম রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডে ১৬তম স্থান লাভ করে। বিদ্যালয় থেকে ২০১৪ সালে ১৬৫ জন এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে ২৪ জন জিপিএ-৫সহ শতভাগ পাস করে। জরাজীর্ণ হওয়ায় পুরাতন ভবনের অর্ধেক ভেঙে নতুন দোতলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। স্থান সংকুলান না হওয়ায় জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকি নিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাস করতে হচ্ছে। বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক মো. আবু বক্কার সিদ্দিক বলেন, বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষকের স্বল্পতা রয়েছে। বর্তমানে দুই শিফেট ক্লাস করতে হচ্ছে। প্রতি শাখায় শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। পুরাতন জরাজীর্ণ ভবন যেকোনো সময় ভেঙে পড়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। বিদ্যালয়ে প্রায় চারহাজার দেশি-বিদেশি বইসমৃদ্ধ লাইব্রেরী থাকলেও ছাত্র-ছাত্রীরা লাইব্রেরিমুখি নয়। বিজ্ঞানাগারও রয়েছে।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ফরিদপুর পৌর মেয়র খ.ম কামরুজ্জামান মাজেদ বলেন, বিদ্যালয়টি এলাকায় আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করছে।

প্রধান শিক্ষক যে সমস্যাগুলোর কথা বলেছেন তার পাশাপাশি আরো সমস্যা হলো বিদ্যালয়টি কলেজে উন্নীত করার জন্য শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েও আগের কমিটি নিয়োগ দিতে পারেনি। আমরা চেষ্টা করছি। সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের কাছে এ ব্যাপারে সহানুভূতিশীল সহযোগিতা কামনা করছি। বিদ্যালয়ের কৃতী শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছেন সংবাদ সংস্থা রয়টারের ব্যুরো প্রধান আতিকুল আলম, ভারতের গীতিকার গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার, চট্টগাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. আব্দুল আজিজ খান, যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মজিবুর রহমান, আমেরিকা প্রবাসী বিজ্ঞানী ড. মজিবুর রহমান, কবি আবুল হাশেম, সচিব(অব.) ড. আনিছুজ্জামান, চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব দারাশিকো, অতিরিক্ত সচিব ড. মোহাম্মদ আলী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল টুটুল, গ্রুপ ক্যাপ্টেন(অব.) শফিউর রহমান, গ্রুপ ক্যাপ্টেন(অব.) সাইফুল আযম, কর্নেল নজমুল আলম, সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান ফখরুল আযম, বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান সরকার প্রমুখ।