৬ মাসে রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি ৪.৪৪%

চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) রপ্তানি আয় বেড়েছে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ। এ সময়ে রপ্তানি আয় হয়েছে এক হাজার ৬৭৯ কোটি ৮১ লাখ মার্কিন ডলার। তবে রপ্তানি আয় লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কিছুটা পিছিয়ে আছে।

অন্যদিকে, একক মাস হিসেবে সর্বশেষ ডিসেম্বর মাসে রপ্তানি আয় আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ৩ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ কমেছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক হাজার ৭৩৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার। এর বিপরীতে আয় হয়েছে এক হাজার ৬৭৯ কোটি ৮১ লাখ ডলার। আর গতবছরের একই সময়ে আয় হয়েছিল এক হাজার ৬০৮ কোটি ৩৯ লাখ ডলার।

অন্যদিকে, ডিসেম্বরে আয় হয়েছে ৩১০ কোটি ৭১ লাখ ডলার। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৩৫ কোটি ডলার। গত বছর ডিসেম্বরে আয়ের পরিমাণ ছিল ৩২০ কোটি ৪০ লাখ ডলার।

প্রধান রপ্তানি পণ্য পোশাক খাতের আয় ধারাবাহিকভাবে ভাল হওয়ায় রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

এ প্রসঙ্গে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা বাংলাদেশ সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি খাত মূলত পোশাক নির্ভর। রপ্তানিতে পোশাক খাতের অবদান দিন দিন বাড়ছেই। এ কারণেই রপ্তানি আয়ে উল্লেখ করার মতো প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হচ্ছে।

তিনি রপ্তানি আয় আরো বাড়াতে প্রচলিত বাজার ছাড়াও নতুন বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পোশাকের পাশাপাশি অন্য পণ্যে মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন।

বাংলাদেশ রপ্তানিকারক সমিতির (ইএবি) সভাপতি আব্দুস সালাম মূর্শেদী বলেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কারণে পোশাক খাত দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কেউ কেউ বাংলাদেশের পোশাক খাত ধ্বংস করার যড়যন্ত্র করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

ইপিবির হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, পোশাক খাতের নিট পণ্য (সোয়েটার, টি-শার্ট জাতীয় পোশাক) প্রবৃদ্ধি ও লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আয় দুই-ই বেড়েছে। ৬৬৫ কোটি ৬ হাজার ডলারের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৬৮১ কোটি ৩৫ লাখ ডলার। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশমিক ৯৩ শতাংশ।

আলোচ্য সময়ে ওভেন পণ্যেও (শার্ট, প্যান্ট জাতীয় পোশাক) রফতানি আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে। এক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২ দশমিক ৮৭ শতাংশ। ৭৬০ কোটি ৮৬ লাখ ডলারের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ওভেন পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৬৮৯ কোটি ৬১ লাখ ডারের।

জুলাই-অক্টোবর সময়ে বড় পণ্যের মধ্যে পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি আয় বেড়েছে। এই খাতে রপ্তানি আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৭ কোটি ২৫ লাখ ডলার, যার প্রবৃদ্ধি ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ।

চামড়া ও চামড়জাত পণ্যের প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ। এ সময়ে ৬২ কোটি ৭৮ লাখ ডলারের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে।

এছাড়া মাছ রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে উল্লেখ করার মতো। এসময়ে ২৯ কোটি ১৫ লাখ ডলারের মাছ রপ্তানি হয়েছে। এতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২ দশমিক ০৩ শতাংশ।

পাশাপাশি আসবাবপত্র, হস্তশিল্প এবং রাসায়নিক পণ্য ও শুকনো খাবারের রপ্তানি বেড়েছে। তবে প্লাস্টিকসহ বেশ কয়েকটি পণ্য রপ্তানি গতবছরের তুলনায় কমেছে। সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা।