চা উৎপাদনে রেকর্ড

চলতি মৌসুমে চা উৎপাদনে রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে বাম্পার উৎপাদনে দেশের চাহিদা মিটিয়ে চা রফতানি হচ্ছে। কিন্তু ভারত থেকে নিম্নমানের চা আমদানির ফলে আতঙ্কে আছেন সংশ্লিষ্টরা। চা শিল্পের মালিকদের দাবি, চা আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি না করা হলে এই শিল্প বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। গত শনিবার পাতা তোলার মধ্য দিয়ে চলতি চা মৌসুম শেষ হয়। মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এই ৯ মাস চা উৎপাদনের মৌসুম। চলতি মৌসুমে চা উৎপন্নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৭ কোটি কেজি। ইতোমধ্যে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২০ ভাগ বেশি অর্জিত হয়েছে। গত মৌসুমে উৎপাদন হয়েছিল ৬ কোটি ৭০ লাখ কেজি। মৌসুম জুড়ে বৃষ্টিপাতে চা উৎপাদনে এই সুফল বয়ে এনেছে।

সিলেট লাক্কাতুরা চা বাগানের ব্যবস্থাপক সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন, একবারে বেশি বৃষ্টি হলে চা ভাল হবে না। আবার বৃষ্টি না হলেও সমস্যা হবে। তবে ২০১৬ সালে আবহাওয়া ভাল ছিল। ফলে চা ভাল হয়েছে। জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে আবহাওয়ার তারতম্য ঘটলেও চা শিল্পের তেমন ক্ষতি হচ্ছে না, প্রতিবছর চায়ের উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে পাশর্^বর্তী দেশ থেকে নিম্নমানের চা আমদানির ফলে এ দেশের চা শিল্প আজ হুমকির মুখে। বাংলাদেশ টি এস্টেট স্টাফ এ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহসভাপতি আকতার হোসেন ভুইয়া বলেন, ভারত থেকে ৩ কোটি নিম্নমানের চা আমদানি করা হয়েছে। তাহলে দেশের চা যাবে কোথায়। চা বিক্রি না হলে শ্রমিকদের বেতন কিভাবে দেয়া হবে। এদিকে একশ ৬৮ বছরের এই শিল্পকে বাঁচাতে চায়ের আমদানি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন চা বাগানের মালিকরা। তারা বলেন, গত কয়েক বছর চা এর দাম ভাল রয়েছে। বাগানে চায়ের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। যার ফলে চায়ের উৎপাদন বেড়েছে। দেশে চা বাগানের সংখ্যা একশ’ ৬৬টি। গত বছর দেশের চাহিদা মিটিয়ে ১০ লাখ কেজি চা রফতানি করা হয়।

Views: 78