রেশমি সুতায় দারিদ্র্য জয়

রেশমি সুতা উৎপাদন করে পাবনার ৫ শতাধিক ভূমিহীন নারী দারিদ্র্র্য জয় করেছেন। তারা এখন স্বাবলম্বী। স্বপ্ন দেখছেন অনেক বড় হওয়ার।
পাবনা রেশম সম্প্রসারণ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে জেলায় ৪৮৬ জন তুঁত চাষি রয়েছেন; পলু পোকা পালনকারী ৬৯ জন। পোকার খাদ্যের জন্য উৎপাদনশীল গাছ রয়েছে ৫ হাজার ৮১৫টি। মোট গাছের সংখ্যা প্রায় ২৪ হাজার। প্রতি বছর ডিম পাওয়া যায় প্রায় ১৭ হাজার। গুটি বা সুতা পাওয়া যায় প্রায় ৬ হাজার ৮০০ কেজি। প্রতি কেজি সুতার বাজার দর ৩৫০ টাকা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পাবনার ঈশ্বরদীর রেশম বীজাগার ও রেশম সম্প্রসারণ কার্যালয় থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে জেলার সাঁথিয়া, দুলাই, গয়েশপুর, আটঘড়িয়া, চাটমোহর, হরিপুরসহ বিভিন্ন গ্রামের ৫ শতাধিক ভূমিহীন নারী পলু পালন শুরু করেন। পলু পোকার মূল খাদ্য হলো তুঁত গাছের পাতা। এ কারণে রেশম বোর্ড থেকে তুঁত চাষের জন্য বিনামূল্যে চারা বিতরণ করা হয়। এ গাছ তারা সরকারি সড়কের দুই পাশে তুঁত গাছ রোপণ করে পলু পোকার খাদ্য উৎপাদন করেন।
রেশমি সুতা উৎপাদনকারী গয়েশপুর গ্রামের লতিফা খাতুন জানান, একটি পলু পোকা ২৫০ থেকে ৩০০টি ডিম দিয়ে থাকে। ডিম থেকে বাচ্চা হতে একদিন সময় লাগে। ১০০ পোকার ডিমকে তারা এক ধরা হিসেবে গণনা করে থাকেন। ২৫ দিনের মাথায় পলুর ডিম থেকে সুতার গুটি পাওয়া যায়। ১০০টি পোকার গুটি থেকে সুতা উৎপাদন হয় ২০ কেজিরও বেশি। এসব সুতার বাজার মূল্য প্রতি কেজি ৩৫০ টাকা। তিনি জানান, পলু পোকা চাষ করতে পরিশ্রমের পাশাপাশি কিছু অর্থও ব্যয় করতে হয়। ফলে এ চাষ করার জন্য ভূমিহীন মহিলাদের মাঝে কৃষি ব্যাংক থেকে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা ঋণ দেয়া হয়ে থাকে। এ অর্থ দিয়ে তারা পোকা পালন, তুঁত গাছ রক্ষণাবেক্ষণ, গুটি ও সুতা উৎপাদনের জন্য চন্দ্রকী, ডালা, পোকার ঘর তৈরি, জালসহ বিভিন্ন উপকরণ খরিদ করেন।
হরিপুর গ্রামের ভূমিহীন ময়না খাতুন, মেরী বেগম ও আসমা খাতুন জানান, ডিমের ভেতর পোকা অবস্থানের সময়কে এক-একটি নামে অভিহিত করা হয়। এগুলো হলো এক কলপ, দোকলপ, তেকলপ, রোজ কলপ, শোধ কলপ। শোধ কলপ পর্যন্ত ডিমে অবস্থানের পর পোকার মুখ থেকে পাঁচ-সাত দিন পর লালা বের হতে থাকে। এ লালা থেকেই উৎপাদন করে রেশম গুটি। এ গুটির ভেতর ওই পোকা দুই সপ্তাহ অবস্থানের পর গুটি কেটে সুতা বের করতে হয়। কোনো ক্ষেত্রে পোকা বের না করলে তারা সুতা কেটে বের হয়ে আসে। এ কারণে পোকা স্বেচ্ছায় বের হওয়ার আগেই হিটারে হিট দিয়ে পোকা বের করে সুতাকে অক্ষত রাখতে হয়। রেশম সুতা উৎপাদনকারী ময়না খাতুন আরও জানান, রেশমি কাপড় আমাদের সবার কাছেই পরিচিত ও পছন্দনীয়। এ কাপড় তৈরির মূল উপকরণ হচ্ছে রেশমের সুতা। এ সুতা তৈরি হয় পলু নামক একটি পোকার ডিম থেকে। এ পোকা রেশম বীজাগারে পালন করতে হয়। বাজারে রেশমি সুতার প্রচুর চাহিদা রয়েছে। উৎপাদন কম হওয়ার কারণে দাম যথেষ্ট ভালো পাওয়া যায়।