বদলে যাচ্ছে যোগাযোগ অবকাঠামো

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২০২০ সালের মধ্যে ৮ শতাংশে নিতে হলে বিনিয়োগ ও সঞ্চয় বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে অবকাঠামো উন্নয়নে—এ মত বিশ্বের অন্যতম অর্থনীতিবিদ কৌশিক বসুর। অর্থনীতিবিদদের মতে, বিনিয়োগকারীরা কোনো দেশে বিনিয়োগের আগে সে দেশের যোগাযোগব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চান।

যোগাযোগব্যবস্থা, বিশেষ করে সড়ক ও রেল যোগাযোগ উন্নত হলে বিনিয়োগ বেড়ে যায়। আর বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে বাংলাদেশের যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে শুরু হয়েছে নীরব বিপ্লব। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই শুরু হয়েছে কর্মযজ্ঞ, বাড়ছে বিনিয়োগ। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের ২১ জেলার সঙ্গে ঢাকার সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনে দোতলা সড়ক, রেলপথসহ পদ্মা সেতুর স্প্যান বসছে চলতি মাসে। স্বপ্নের এ সেতু দিয়ে চলাচল করা যাবে ২০১৮ সাল নাগাদ। সবচেয়ে বড় এই দোতলা সেতু ছাড়াও চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর নিচে হচ্ছে টানেল। ঢাকায় মাথার ওপর দিয়ে ছুটে যাবে মেট্রো রেল, সড়কে থাকবে গতিশীল পরিবহন ব্যবস্থা—বিআরটি। নতুন চার লেনের মহাসড়ক করা হবে আলাদা সার্ভিস লেনসহ। ইতিমধ্যে ঢাকায় যোগ হয়েছে উড়াল সড়ক ও সেতুর মতো অবকাঠামো।
বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের তথ্যানুসারে, দেশে সড়ক ও রেল খাতের উন্নয়নে ২০১০ সালের জুন থেকে ২০১৫ সালের জুন পর্যন্ত পাঁচ বছরে তিন শতাধিক প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। ব্যয় হয়েছে ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি। ফোরামের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে, গুণগত মানের দিক থেকে বাংলাদেশের সড়কের অবস্থান ১৪০ দেশের মধ্যে ১১৩। স্কোর ৭-এর মধ্যে ২.৯। রেল অবকাঠামোর দিক দিয়ে ১৪০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ আছে ৭৫ নম্বরে, স্কোর ৭-এর মধ্যে ২.৫। উন্নত দেশের সঙ্গে তাল মেলাতে—বিশেষ করে সড়ক ও রেল অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ছে। ২০১০-১১ থেকে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সড়কের অবকাঠামো উন্নয়নে ১৭ হাজার ১৯ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। একই সময় রেল অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় হয়েছে ১৩ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এশীয় মহাসড়কে যুক্ত হতে বাংলাদেশ সরকার চুক্তিতে সই করেছিল ২০০৯ সালের ১০ আগস্ট। আন্তদেশীয় ও আঞ্চলিক যোগাযোগের জন্য দেশে এশীয় মহাসড়কের তিনটি রুটে এক হাজার ৭৬০ কিলোমিটার মহাসড়ক আছে। এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ৩২টি দেশের সঙ্গে সড়কপথে যোগাযোগের জন্য এখনো মহাসড়ক পুরোপুরি বিশ্বমানে উন্নীত হয়নি। বেনাপোল, তামাবিল, বাংলাবান্ধা ও টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে পাশের দেশগুলোর মধ্য দিয়ে আন্তদেশীয় যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুক্ত হতে দেশে এই সড়ক অবকাঠামো নির্মাণে লাগবে প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা।

এশীয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন—ইউএন-এসকাপের গত ফেব্রুয়ারি মাসের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এশীয় মহাসড়কের এক হাজার ৭৬০ কিলোমিটারের মধ্যে প্রথম শ্রেণির মহাসড়ক আছে ৩১১ কিলোমিটার। দ্বিতীয় শ্রেণির মহাসড়ক এক হাজার ৪০০ কিলোমিটার এবং তৃতীয় শ্রেণির মহাসড়ক আছে ৪৪ কিলোমিটার। তৃতীয় শ্রেণির নিচে মহাসড়ক আছে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার।

এশীয় মহাসড়কের এএইচ-১ রুটটি জাপান থেকে শুরু হয়ে দক্ষিণ কোরিয়া, উত্তর কোরিয়া, চীন, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইরান, তুরস্ক হয়ে বুলগেরিয়া সীমান্তে গিয়ে শেষ হবে। বাংলাদেশে রুটটি বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ঢুকে যশোর-নড়াইল-কালনা ফেরিঘাট-ভাটিয়াপাড়া-ভাঙ্গা-চরজানাজাত-মাওয়া-ঢাকা হয়ে কাঁচপুর-নরসিংদী-শেরপুর-সিলেট হয়ে তামাবিল পর্যন্ত যাবে। ৪৯১ কিলোমিটার দীর্ঘ রুটের মধ্যে সবচেয়ে বড় অবকাঠামো হতে যাচ্ছে ৬.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ দোতলা পদ্মা সেতু। ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাওয়ায় মূল সেতুর পাইলিং উদ্বোধন করেন। বাংলাদেশ সেতু বিভাগের অধীন এ প্রকল্পে ব্যয় হবে প্রায় ২৯ হাজার কোটি টাকা। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্পের মূল সেতুসহ বিভিন্ন অংশের কাজ চলছে।

২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে পদ্মা সেতুর কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সেতুটি চালু হলে ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমের ২১ জেলা সরাসরি যুক্ত হবে। পাশাপাশি রেলপথে যুক্ত হতে ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে যশোর পর্যন্ত ১৭২ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প নিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। এ প্রকল্পে ব্যয় হবে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে চীন সরকার দেবে ২৪ হাজার ৭৪৯ দশমিক ০৫ কোটি টাকা। ২০২২ সালের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। রেলপথটি নির্মাণের প্রস্তুতি নিচ্ছে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লিমিটেড। চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে এ প্রকল্পে চার হাজার ১০২ দশমিক ১৩ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ রেলপথে দ্বিতীয় রেলপথ নির্মাণ এবং বরিশাল ও পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দরকে এর সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে।

এশীয় মহাসড়কের প্রথম রুটে কালনা নদীর ওপর কালনা সেতু নির্মাণের জন্য প্রকল্প নেওয়া হয়েছে জাপান সরকারের আর্থিক সহযোগিতায়। একই রুটের ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গার ৫৫ কিলোমিটার হবে চার লেনের এক্সপ্রেসওয়ে। এটি হবে দেশের প্রথম এক্সপ্রেসওয়ে। প্রকল্পের মাটি ভরাটের কাজ শুরু হয়েছে গত ১৭ নভেম্বর। এ প্রকল্পে ব্যয় হবে ছয় হাজার ২৫২ কোটি ২৮ লাখ টাকা। এ এক্সপ্রেসওয়ে ধরে যাত্রাবাড়ী থেকে ভাঙ্গা যাওয়া যাবে ৪২ মিনিটে।

এশীয় মহাসড়কের কাঁচপুর থেকে সিলেটের তামাবিল পর্যন্ত ২৮৩ কিলোমিটার মহাসড়ক চার লেন করা হবে। এ প্রকল্পে ব্যয় হবে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা, অর্থের জোগান দেবে চীন।

এশীয় মহাসড়কে অযান্ত্রিক ও ধীরগতির যানবাহন মূল মহাসড়কে চলাচল করে না। সেগুলোর জন্য মূল মহাসড়কের পাশে থাকে সার্ভিস লেন। দেশে এ ধরনের একটিই মহাসড়ক আছে, সেটি বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়ক। তবে সরকার এখন চার লেনের মহাসড়ক নির্মাণ ও সম্প্রসারণে প্রকল্প নিচ্ছে সার্ভিস লেন নির্মাণের সুযোগসহ। সওজ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সদ্য শেষ হওয়া ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেন, জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ চার লেনের সঙ্গে আলাদা সার্ভিস লেন যোগ করতে আলাদা প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে।

এশীয় মহাসড়কের এএইচ-২ রুটটি ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান হয়ে ইরানের তেহরান পর্যন্ত যাবে। রুটটি বাংলাদেশের বাংলাবান্ধা সীমান্ত দিয়ে ঢুকে পঞ্চগড়-বেলডাংগা-রংপুর-গোবিন্দগঞ্জ-বগুড়া-হাটিকুমরুল-এলেঙ্গা-কালিয়াকৈর-জয়দেবপুর-ঢাকা-কাঁচপুর হয়ে সিলেট থেকে তামাবিল যাবে। এ রুটের দৈর্ঘ্য ৮০৫ দশমিক ৫৯ কিলোমিটার। রুটের ২৯১ দশমিক ৩৪ কিলোমিটার এএইচ-১-এর অন্তর্ভুক্ত। সওজ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এএইচ-২ রুটের জয়দেবপুর-চন্দ্রা-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গার ৭০ কিলোমিটার মহাসড়ক চার লেন করার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। তাতে ব্যয় হবে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা। এ চার লেন প্রকল্পের আওতায়ও মহাসড়কে নির্মাণ করা হবে আলাদা সার্ভিস লেন। এলেঙ্গা থেকে হাটিকুমরুল-বগুড়া-রংপুর পর্যন্ত ২৫১ কিলোমিটার সড়ক মহাসড়কে উন্নীত করা হবে। পঞ্চগড় থেকে রংপুরের ১০৬ কিলোমিটার সড়কও মহাসড়কে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বাংলাবান্ধা থেকে পঞ্চগড় পর্যন্ত ৫৫ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নের কাজ শেষ হয়েছে।

উপ-আঞ্চলিক রুট এএইচ-৪১ মোংলা বন্দর থেকে শুরু হয়ে খুলনা-যশোর-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া-পাকশী-দাশুরিয়া-বনপাড়া-হাটিকুমরুল-কালিয়াকৈর-জয়দেবপুর-ঢাকা-কাঁচপুর-কুমিল্লা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার দিয়ে টেকনাফ হয়ে মিয়ানমার সীমান্ত পর্যন্ত যাবে। ৭৫৪ কিলোমিটার দীর্ঘ রুটের বেশির ভাগ সড়ক দ্বিতীয় শ্রেণির। এ রুটের দৌলতদিয়া-মাগুরা-ঝিনাইদহ-যশোর-খুলনা মোংলার ২২২ কিলোমিটার মহাসড়ক চার লেন করতে প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। অযান্ত্রিক যানবাহনের জন্য এ মহাসড়কেও আলাদা সার্ভিস লেন থাকবে। টেকনাফ সীমান্ত থেকে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম অংশে ২৮৮ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নের জন্য নকশা চূড়ান্ত করা হচ্ছে।

বন্দরনগরী চট্টগ্রামকে চীনের সাংহাইয়ের আদলে ‘এক নগরী দুই শহরের’ মতো গড়ে তুলতে কর্ণফুলী নদীর তলেদেশে টানেল নির্মাণ করা হবে। টানেলটি হবে বাংলাদেশে এশীয় মহাসড়কের অংশ। বাংলাদেশ সেতু বিভাগ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। বাংলাদেশ সেতু বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ প্রকল্পে ব্যয় হবে আট হাজার ৪৪৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে চার হাজার ৭৯৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকা জোগান দেবে চীন সরকার। ৩.৪ কিলোমিটার সুড়ঙ্গ নির্মাণ করে এ নদীর দুই তীরকে যোগ করবে নির্মিতব্য টানেলটি। টানেলটি নির্মাণ করবে চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান চায়না কমিউনিকেশনস কনস্ট্রাকশন কম্পানি-সিসিসিসি। প্রকল্প পরিচালক ইফতেখার কবীর কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রকল্পের জমি হস্তান্তর করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ নদীর মোহনায় কাফকো-পতেঙ্গা পয়েন্টে টানেলটি নির্মাণ হবে।

ঢাকায় জনসংখ্যা ও যানজটে জন ও যানের সুষ্ঠু চলাচল ব্যবস্থা নষ্ট হয়েছে বহু আগেই। রাজধানীর ৭৩টি ইন্টারসেকশনে যানবাহনের জটে দিনে গড়ে নষ্ট হচ্ছে ৮৩ লাখ কর্মঘণ্টা। ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) গবেষণায় বলা হচ্ছে, বিমানবন্দর সড়ক থেকে পোস্তগোলা রুটেই যানজটে দিনে গড়ে ক্ষতি হচ্ছে ২২৭ কোটি টাকা। যানজট নিরসনে উন্নত নগরীগুলোর মতো ঢাকায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে উড়াল সড়ক ও সেতু নির্মাণে প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এক দশক আগে রাজধানীতে ঢাকা সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে প্রথম উড়াল সেতু নির্মাণ করা হয় মহাখালী লেভেলক্রসিংয়ের ওপর। সেটি চালু করা হয় ২০০৫ সালে। এরপর চালু হয় খিলগাঁও উড়াল সেতু। দীর্ঘদিন উড়াল সড়ক অবকাঠামো প্রকল্প নেওয়া বন্ধ ছিল। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের সময় এ বিষয়ে জোর দেওয়া হয়। তারপর যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান মেয়র হানিফ উড়াল সেতুসহ অন্য উড়াল সেতুগুলোর কাজ শেষ করে চালু করা হয়। মহাখালী, খিলগাঁওয়ের পর কুড়িল, বনানী উড়াল সেতুর মতো অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। এখন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীন নির্মাণ চলছে মগবাজার-মৌচাক উড়াল সেতু। আগামী জুনে পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হবে বলে আশাবাদী প্রকল্প কর্মকর্তারা। সেতু বিভাগের অধীন কাজ চলছে ২৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা উড়াল সড়কের। সেটি বিমানবন্দর সড়ক থেকে কুতুবখালী পর্যন্ত যাবে, ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ হাজার ২০০ কোটি টাকা। সেতু বিভাগের অধীন শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আশুলিয়ার নবীনগর হয়ে গাজীপুরের চন্দ্রা পর্যন্ত প্রায় ৩৪ কিলোমিটার দীর্ঘ উড়াল সেতু নির্মাণ করা হবে। এ প্রকল্পে ব্যয় হবে ৯ হাজার ৬২৯ কোটি টাকা।

বিশ্বের ৫৫টি দেশের ১৪৮টি নগরীতে মেট্রো রেল চালু রয়েছে। রাস্তার ওপর চাপ কমিয়ে নিরাপদ ও দ্রুত চলাচলের এ ব্যবস্থায় যোগ দিয়েছে ভারতের দিল্লি, মুম্বাই ও কলকাতাও। চীনের পেইচিং, তানজিং ছাড়াও সাংহাইয়ে আছে এ পরিবহনব্যবস্থা। ঢাকার কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনায় (এসটিপি) ২০২৪ সালের মধ্যে ঢাকায় তিনটি পথে মেট্রো রেল চালুর সুপারিশ করা হয়েছিল। তার মধ্যে উত্তরা তৃতীয় পর্ব থেকে পল্লবী হয়ে রোকেয়া সরণি-খামারবাড়ী-ফার্মগেট-সোনারগাঁও হোটেল-শাহবাগ-টিএসসি হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে পর্যন্ত (এমআরটি-৬) নির্মাণের লক্ষ্যে কাজ শুরু হয়েছে। গত নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে সেবা লাইন স্থানান্তরের কাজ। প্রকল্প পরিচালক মো. মোফাজ্জেল হোসেন বলেন, ‘২০১৯ সালের মধ্যে উত্তরা থেকে ফার্মগেট অংশ চালু করতে চাইছি আমরা। ’ মেট্রো রেল চালু হলে ঘণ্টার ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হবে। ঢাকায় আরো চারটি রুটে মেট্রো রেল চালুর জন্য যাচাই-বাছাই চলছে।

রাজধানীর গাজীপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত বাস চলাচলের জন্য আলাদা লেন বিআরটি চালু হতে যাচ্ছে ২০১৮ সালে। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পের নকশা প্রণয়ন করা হয়েছে। গত ৮ ফেব্রুয়ারি ডিপো নির্মাণের চুক্তি হয়েছে। সওজ অধিদপ্তর, এলজিইডি ও বাংলাদেশ সেতু বিভাগ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পে ব্যয় হবে দুই হাজার ৩৯ কোটি টাকা। ২০.৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ বিশেষ লেনে ২৫টি স্টেশন ও দুটি টার্মিনাল থাকবে। একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে যাতায়াতে লাগবে ৫০ মিনিট।

ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা ছাড়াও এক্সপ্রেসওয়ে হবে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে। ঢাকা-চট্টগ্রাম ছয় লেন এক্সপ্রেসওয়ের ব্যয় ধরা হয়েছে ২৮ হাজার কোটি টাকা। প্রকল্পের নকশা চূড়ান্ত করা হয়েছে। মদনপুর থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেটের আগে সলিমপুর পর্যন্ত ২১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে এক্সপ্রেসওয়েটি। প্রকল্পে ব্যয় হবে ২৮ হাজার কোটি টাকা। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারির মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্প পরিচালক মো. মাহবুল-উল-আলম বলেন, ২০১৮ সালে শুরু করে ২০২২ সালের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।

পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. সামছুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশকে এগিয়ে যেতে হলে দ্রুত গণপরিবহন পদ্ধতি, এক্সপ্রেসওয়ের মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে। ইলেকট্রিক ট্রেন, বুলেট ট্রেন বহু আগেই বিভিন্ন দেশে চালু হয়েছে। এগুলোও চালু করতে হবে। শুধু করলেই হবে না, সে জন্য লাগবে পরিকল্পনা ও দূরদর্শিতা। ভারতে ১৬টির বেশি এক্সপ্রেসওয়ে আছে। পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কায়ও আছে। আমাদের দেশে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে মাত্র। বলা যায়, আধুনিক পরিবহন ও মহাসড়ক ব্যবস্থার সূচনা হতে যাচ্ছে বাংলাদেশে।