গরু পালনে সচ্ছলতা গ্রামাঞ্চলে ডিজিটাল পদ্ধতিতে দুধের দাম নির্ধারণ

শাপলা রাণী সাহা ৫ বছর আগে দুইটি বকনা বাছুর দিয়ে শুরু করেন গরু পালন। ১৬ হাজার টাকায় (দেশি জাতের) কেনা সেই দুইটি গরু থেকে আজ তার গরুর সংখ্যা ১১টি (শংকর জাতের)। যার মধ্যে ৪টি গরু থেকে প্রতিদিন অন্তত ৩৫ কেজি দুধ পান। প্রতি সপ্তাহে তিনি দুধ বিক্রি করে পান গড়ে ১৩ হাজার টাকা। গরুর খাবারসহ যাবতীয় খরচ বাদ দিয়ে প্রতি মাসে তার আয় ৪০ হাজার টাকার মতো। প্রতি বছর গরু যে বাচ্চা দেয় তার দামও গড়ে ৫০/৬০ হাজার টাকা। এরইমধ্যে ১০টি গরু বিক্রি করে পেয়েছেন প্রায় ৭ লাখ টাকা। গরু পালনের মধ্য দিয়েই তার সংসারে এসেছে সচ্ছলতা। আগে শাপলা রাণীর স্বামী সুব্রত কুমার সাহা অন্য ব্যবসা করতেন। বর্তমানে তিনিও গরু লালন-পালনের কাজই করছেন।

বগুড়ার শিবগঞ্জের একটি পরিবারের সচ্ছলতার পেছনের গল্প এটি। দুধ বিক্রি করে ন্যায্য দাম পাওয়ায় আরো অনেকেই বিস্তৃত পরিসরে গরু পালন করছেন। এক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে কেয়ার বাংলাদেশ। স্ট্রেনদেনিং দ্য ডেইরি ভ্যালু চেইন প্রকল্পের আওতায় দুই পর্যায়ে ২০০৭ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ৯টি জেলায় প্রায় ৫২ হাজার দরিদ্র ও প্রান্তিক দুগ্ধ উত্পাদনকারীদের (৯০ শতাংশ নারী) নিয়ে কাজ করেছে এ প্রতিষ্ঠানটি। এ প্রকল্পের দলনেতা মোস্তফা নূরুল ইসলাম রেজা জানান, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে খামারিদের দুধের উত্পাদন ও গুণগত মান বৃদ্ধি, উপকরণ ও সেবা প্রাপ্তির সহলভ্যতা নিশ্চিত করা এবং বাজারজাতকরণের নিশ্চয়তার মাধ্যমে গরু পালনের বিস্তার ঘটেছে। ব্র্যাক ডেইরির মাধ্যমে প্রথম পর্যায়ে গ্রামে ডিজিটাল মেশিনের মাধ্যমে দুধের ননী পরীক্ষা করে মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। বর্তমানে ব্র্যাক ছাড়াও প্রাণ ও আকিজ গ্রুপও এসব খামারিদের কাছ থেকে দুধ সংগ্রহ করছে। এছাড়া গ্রাম পর্যায়ে ৬৫টি কৃষিউত্স নামে দোকান স্থাপনের মাধ্যমে একজন গ্রামীণ উদ্যোক্তার মাধ্যমে মানসম্মত গরুর খাদ্য ও ওষুধ খামারিদের দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গ্রাম পর্যায়ে ২৭০ জন দক্ষ স্বাস্থ্য কর্মী ও ৯৯ জন কৃত্রিম প্রজনন কর্মী তৈরি করা হয়েছে। এতে গরুর রোগের প্রাদুর্ভাব কমেছে এবং জাত উন্নয়ন কার্যক্রম ত্বরান্বিত হয়েছে। বর্তমানে খামারিরা ডিএফটি মেশিনের (ডিজিটাল পদ্ধতিতে দুধের মূল্য নির্ধারণের মেশিন) মাধ্যমে দুধ বিক্রির সুযোগ পাচ্ছেন। ব্র্যাক ডেইরির কাছ থেকে এ দুধের মূল্য পাচ্ছেন সাপ্তাহিক ভিত্তিতে। কৃষিউেসর দোকান থেকে ধারে গরুর খাবার কিনে সেই দাম পরিশোধের সুযোগও পাচ্ছেন সাপ্তাহিক ভিত্তিতে।

মুক্তি রাণী মদক নামের একজন খামারি বলেন, আগে আমরা প্রতি কেজি দুধের দাম পেতাম ১৫ থেকে ২০ টাকা। এতে গরু পালনে লাভবান হতে পারতাম না। এখন দুধের মানের ভিত্তিতে ৪৫ থেকে ৫৫ টাকা পর্যন্ত দাম পাই। ফলে গরু পালন করে লাভ হচ্ছে। তাছাড়া উন্নত জাতের গরুর বাচ্চা বিক্রি করেও ভালো দাম পাওয়া যায়। পাশাপাশি বায়োগ্যাস প্লান্টের মাধ্যমে মিটছে জ্বালানির চাহিদাও।