যশোরে ৭০ হাজার নারীর দারিদ্র্য জয়

যশোর শহরের শংকরপুরের বাসিন্দা শাফিয়া বেগমের দিন আনা দিন খাওয়ার সংসার ছিল। ওই এলাকার গোলপাতা মসজিদের পাশে মুদি দোকান দিয়ে তিনি ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছেন। আর শহরের রেলস্টেশন এলাকার হাফিজা খাতুনের ঠিকমতো উনুন জ্বলত না। চুড়ি, ফিতা বিক্রি করে এ নারী সংসারে সচ্ছলতা এনেছেন। আরেক নারী নিহার বানুর দু-বেলা দু-মুঠো খাবারের নিশ্চয়তা ছিল না। তিনি গ্রামে গ্রামে শাড়ি-কাপড় বিক্রি করে দৈন্য ঘুচিয়েছেন। যশোরের ৭০ হাজার নারী এভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য, ছাগল-গরু পালন, নার্সারি, খাবার হোটেল, বিউটি পার্লার, দর্জি কাজ, হস্তশিল্পসহ বিভিন্ন কর্মে জড়িয়ে নিজেদের দারিদ্র্যের কষাঘাত থেকে মুক্ত করেছেন। এসব নারী দারিদ্র্য জয়ের মন্ত্র শিখিয়েছে যশোরের সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। জেলা পরিসংখ্যান অফিসের তথ্যে সে চিত্রই ফুটে উঠেছে।
জেলা পরিসখ্যান অফিসের উপপরিচালক মুহাম্মদ মিজানুর রহমান হাওলাদার জানান, এ জেলার নারীরা শিক্ষার পাশাপাশি ব্যবসা ও কর্মসংস্থানে এক দশকে অনেক এগিয়েছেন। সর্বশেষ আদমশুমারি-২০১৩ অনুযায়ী শুধু প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবেই দায়িত্ব পালন করছেন ১২ হাজার ৫৫৫ নারী। ২০০৩ সালে এ সংখ্যা ছিল মাত্র ৩ হাজার ৩৭২। তিনি আরও জানান, সে সময় কর্মরত নারীর সংখ্যা ছিল ২৯ হাজার ৩০৮। ২০১৩ সালের জরিপে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৭০ হাজার ৩৬৪ জনে উন্নীত হয়েছে। এটি অবশ্যই আশাব্যঞ্জক খবর।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারি ও বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা নারীদের কর্মক্ষেত্রে দক্ষ করা, আত্মকর্মসংস্থানের জন্য প্রশিক্ষণ ও উদ্যোক্তা তৈরিতে জয়তী সোসাইটি, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনসহ কয়েকটি সংগঠন নানামুখী ভূমিকা রাখছে। যশোরের পঁাঁচ উপজেলায় নারীর ক্ষমতায়ন কার্যক্রমে কাজ করছে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন। প্রতিষ্ঠানটির অধীনে বর্তমানে ৫ হাজার ৯০০ উপকারভোগী রয়েছে। তাদের পশুপালন, মৎস্য চাষে প্রশিক্ষণ ও বিনামূল্যে এর উপকরণ প্রদান করা হয়। এ প্রকল্পের ফিল্ড কোঅর্ডিনেটর নিতাই চন্দ্র রায় জানান, নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও সাক্ষরতা প্রশিক্ষণ দেন। তাদের এ কার্যক্রমের কারণে অনেক নারী আজ স্বাবলম্বী। তাছাড়া কোনো সংস্থার সহায়তা ছাড়াই বিভিন্ন আয় বৃদ্ধিমূলক কর্মকা-ের মাধ্যমে নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও গরিব নারীদের জীবনমান উন্নয়ন করেছে জয়তী সোসাইটি। বর্তমানে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা ৫৪টি সংগঠনের মাধ্যমে শুধু এ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেই যুক্ত প্রায় ১০ হাজার নারী সদস্য অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন। বৃদ্ধি পেয়েছে তাদের ক্ষমতায়ন। এক সময়ের অসহায় সেসব নারীই এখন সমাজ পরিবর্তনে অসহায়দের পাশে দাঁড়িয়ে সেবামূলক কাজ করছেন। জয়তী সোসাইটির পরিচালক অর্চনা বিশ্বাস বলেন, নারীদের স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি বহু নারী নেতৃত্ব তৈরি হয়েছে।