ইউরোপের অনেক দেশ থেকে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ঈর্ষণীয়

প্রাচ্যের দেশগুলো অনেক দূর এগিয়ে গেছে। ইউরোপের অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ওদের কাছে যথেষ্ট ঈর্ষণীয়।

বিংশ শতাব্দী ছিল পশ্চিমের আর একবিংশ হয়ে উঠবে প্রাচ্যের। এমনটাই মনে করেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ বিষয়ক বাণিজ্য দূত রুশনারা আলি। তিনি যুক্তরাজ্য পার্লামেন্টে একজন নির্বাচিত এমপি। গত বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ হাইকমিশনারের বাসভবনে এ কথা বলেন তিনি।
গত সপ্তাহে বাংলাদেশ সফর করেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই ব্রিটিশ রাজনীতিক। এ সফরে তিনি প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেত্রী, বিএনপি চেয়ারপারসন, বাণিজ্যমন্ত্রীসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং দুই দেশের বাণিজ্যবিষয়ে আলোচনা করেন। রুশনারা আলি ঢাকার প্রশংসা করে জানান, দারিদ্র্য নিরসন করে সমতা অর্জনের জন্য দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করে যাচ্ছে। সক্ষমতার সব চেষ্টা শিকড় থেকে মজবুত হতে হবে। সততার সঙ্গে পণ্য উৎপাদনের পাশপাশি জনগণের অধিকার অনুশীলন ও শ্রমিকের কাজের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ এবং সেরা মজুরি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশের বাণিজ্য গোটা বিশ্বে বিকশিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন রুশনারা। তিনি বলেন, শুধুমাত্র ব্রিটেন ও বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণের দিকে চোখ বুলালেই তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অতীতে আমার বাবা এবং আত্মীয়স্বজন ব্রিটেনে শুধু সেখানকার পণ্যই ক্রয় করতেন। আর এখন আমি সেখানে বসে বাংলাদেশের পণ্য হাতের নাগালে পাচ্ছি। শুধু তাই নয়, গড়ে উঠেছে বাংলাদেশি চেইনশপও। বর্তমানে আড়াইশ ব্রিটিশ কোম্পানি এদেশে বিনিয়োগ করেছে। এই সংখ্যাই প্রমাণ করে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক কতটা সুদৃঢ়।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য বাণিজ্যিক সম্পর্কের ভিত্তি-দুই দেশের বন্ধুত্ব ও সৌহার্দের সম্পর্ক। ব্রিটেনে পাঁচ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি কমিউনিটির মানুষ রয়েছেন; যারা সুযোগ পেলেই যার যার অবস্থান থেকে বাংলাদেশকে তুলে ধরেন, বিভিন্ন ফোরামে বাংলাদেশ নিয়ে কথা বলেন। যা ব্রিটিশ সরকার এবং নীতিনির্ধারকদের বংলাদেশ নিয়ে ইতিবাচক ভাবনা ভাবতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রতি ব্রিটেনের বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। বিশেষ করে, গত এক দশকে বাংলাদেশ যেভাবে উন্নতি করেছে; তা সত্যিই ব্রিটেনের সরকার ও বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের নজর কেড়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ বাণিজ্যের জন্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। সে সঙ্গে প্রয়োজন আরও কিছু সংযোজন বিয়োজনের। কিছু কিছু বাণিজ্যের ওপর যেসব নিষেধাজ্ঞা রয়েছে বাণিজ্যে সম্প্রসারণের জন্য সেগুলোকে সচল করা দরকার। এ ছাড়া ব্রেক্সিট নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার সুযোগ নেই বলে মতামত ব্যক্ত করেন রুশনারা আলি। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনো সময় আসেনি। ব্রেক্সিট বাস্তবায়নে আরও সময় লাগবে। আগামী দুই বছর ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এ বিষয়ে অনেক সুযোগ রয়েছে। অহেতুক উদ্বিঘ্ন হওয়া ঠিক হবে না। ব্যবসায়ীরা কী পাচ্ছেন এবং পরবর্তীতে কী সুযোগ পেতে পারেন সেটা নিয়ে দ্বিপক্ষীয় ব্যবসায়িক আলোচনা হতে পারে। যুক্তরাজ্যে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে আলাদা হলেও বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের অমিত সম্ভাবনা থাকবে বলে জানান রুশনারা।

এদিকে ঢাকা-লন্ডনের সরাসরি কার্গো ফ্লাইটের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রুশনারা বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে গোটা বিশ্বেই নিরাপত্তা ইস্যুটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ব্রিটেনেও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে‘সর্বোচ্চ গুরুত্ব’ রয়েছে। যখন এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলো সেখানকার জনগণ আশ্বস্ত হলো। এ সফরে এখানকার অনেক নীতিনির্ধারকদের সঙ্গেও এ ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বেশ ভালো করছে যার যার অবস্থান থেকে। একটা সময় তাদেরকে খাটো করে দেখা হতো যা এখন পাল্টে গেছে। এ ছাড়া ব্রিটেনে গত নির্বাচনে একাধিক বাংলাদেশি জয়লাভের পর বাঙালি কমিউনিটির মাঝে স্থানীয়রাও আশার আলো দেখছেন।

রুশনারা বলেন, সর্বশেষ নির্বাচনে জয় লাভের পর অনেক পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছি ব্রিটিশদের দৃষ্টিভঙ্গিতে। আমি নিজে যখন প্রথমবার নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিলাম অনেকেই নাক শিটকে বলত; ইউ উইল গো টু পার্লামেন্ট! অথচ জয় লাভের পর বুঝতে পারে তাদের ভ্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গি। ইতিমধ্যে কিছু লিডারশিপ প্রোগ্রামও চালু করা হয়েছে। যেখানে বাংলাদেশি অনেক তরুণ-তরুণী প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। ভবিষ্যতে ব্রিটেনের রাজনৈতিক অঙ্গনে এগুলো অনেক সহায়ক হবে বলে মনে করি।