১৫০ পরিবারে আশার আলো

হাওর ও পাহাড় বেষ্টিত উপজেলা হবিগঞ্জের বাহুবল। এখানে বায়োগ্যাস প্লান্টে উৎপাদন হচ্ছে গ্যাস ও জৈব সার। এ গ্যাস জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে। আর সার ব্যবহারে ফসল উৎপাদন বেড়ে গেছে। কমেছে উৎপাদন খরচ। ফলে লাভবান হচ্ছেন চাষি। এছাড়া এ সার উৎপাদনে বেকারদের কর্মসংস্থান হচ্ছে। বায়োগ্যাস প্লান্টে আশার আলো দেখছে ১৫০ পরিবার।
জানা গেছে, সরকারের ইমপ্যাক্ট প্রকল্পের (ফেজ-২) আওতায় এরই মধ্যে বাহুবলে ১৫টি বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপন করা হয়েছে। আগামী জুনের মধ্যে ১৫০টি প্লান্ট স্থাপন করা হবে। উপজেলার বশিনা গ্রামের বাসিন্দা কৃষক শফিকুর রহমান জানান, তার বাড়িতে একটি বায়োগ্যাস প্লান্ট রয়েছে। এটি তৈরিতে ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ৫ হাজার টাকা তিনি অনুদান পেয়েছেন। বাকি ২৫ হাজার টাকা পেয়েছেন ঋণ। এ টাকা ধীরে ধীরে পরিশোধ করতে হবে। উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদফতরের পরামর্শ ও ঋণে তৈরি এ প্লান্টে জ্বালানির চাহিদা মিটছে। এখান থেকে তৈরি সার ব্যবহারে ফসল উৎপাদন বেড়েছে। তিনি জানান, আগে তারা গোবর সরাসরি জমিতে দিতেন। এখন গ্যাস তৈরির পর তা সার বানিয়ে ব্যবহার করছেন। এটা উন্নতমানের সার। এটা জমির জন্য বেশ উপকারী। ফসলও হয় বেশি। এছাড়া এ ফসল হয় বিষমুক্ত। তারা এ সার ব্যবহার করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। কারণ রাসায়নিক সারের দাম বেশি। একই ধরনের কথা বলেছেন অন্যরা।
উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদফতরের গ্যাস প্লান্টের ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মামুনুর রশীদ বাবু জানান, তিনটি গরুর গোবরের একটি প্লান্টে একটি পরিবারের গ্যাসের চাহিদা মেটানো সম্ভব। একই পদ্ধতিতে ১৫টি গরুর গোবরে তৈরি প্লান্টে পাঁচটি পরিবার গ্যাসের আগুন ব্যবহার করতে পারছে। এতে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে না। বড় কথা, পরে এ প্লান্টে ব্যবহার করা গোবর থেকে প্রাকৃতিক সার তৈরি করা হচ্ছে। এসব সার জমিতে প্রয়োগ করে কৃষক ভালো ফলন পাচ্ছেন। এসব বিষমুক্ত ফসল স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
জেলা যুব উন্নয়ন অধিদফতরের উপপরিচালক মোঃ ফখরউদ্দিন বলেন, এমপি কেয়া চৌধুরী সরকারের কাছ থেকে ইমপ্যাক্ট প্রকল্পের (ফেজ-২) আওতায় বায়োগ্যাস প্রকল্পটি আমাদের এনে দিয়েছেন। এতে কৃষকরা একাধিকভাবে উপকৃত হচ্ছেন। বশিনা গ্রামের শফিকুর রহমানের বাড়িতে নির্মিত বায়োগ্যাস প্লান্ট কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছেন এমপি কেয়া চৌধুরী।

Views: 10