বুড়িগঙ্গা দখলমুক্ত করার অভিযান আজ শুরু

আজ সকাল থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের মাধ্যমে বুড়িগঙ্গা নদীকে হাতির ঝিলের আদলে সৌন্দর্য ম-িত করার কাজ শুরু হচ্ছে। বিষয়টি যায়যায়দিনকে নিশ্চিত করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকন।
ডিএসসিসি সূত্র জানায়, ইসলামবাগের আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেল সংলগ্ন টাংকিঘাট এলাকায় আজ সকাল ৯টায় অভিযানের উদ্বোধন করবেন নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান। এ সময় ডিএসসিসি মেয়র সাঈদ খোকন, ঢাকা-৭ আসনের সাংসদ হাজী মোহাম্মদ সেলিম, নৌ-মন্ত্রণালয়ের সচিব অশোক মাধব রায়, ঢাকা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান আতাহারুল ইসলাম, বিআইডবিস্নউটিএ’র চেয়ারম্যান কমডোর এম মোজাম্মেল হক উপস্থিত থাকবেন।

সরেজমিন দেখা যায়, বুড়িগঙ্গার
আদি চ্যানেলের নদীগর্ভে দোকানপাটসহ বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করেছে দখলদাররা। রাজধানীর লালবাগ, হাজারীবাগ, কামরাঙ্গীরচর এলাকার পাশ দিয়ে প্রবাহিত বুড়িগঙ্গার শাখা নদীকে ওই এলাকার মানুষ আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত করেছেন। খোদ সিটি করপোরেশনের গাড়িতে করে আবর্জনা ফেলা হচ্ছে বেড়িবাঁধের ঢালে। সে সব জায়গায় দখলদারচক্র অবৈধভাবে বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তুলেছেন। একই চিত্র সোয়ারীঘাট, চকবাজার, বাবুবাজার, পোস্তাগোলা সংলগ্ন প্রবাহ বুড়িগঙ্গারও। বিভিন্ন ড্রেনেজ লাইনের মাধ্যমে পয়বর্জ্যের সঙ্গে এসব আবর্জনা মিশছে ঢাকার প্রাণখ্যাত প্রবাহমান বুড়িগঙ্গা নদীতে।
জানতে চাইলে ডিএসসিসি মেয়র সাঈদ খোকন যায়যায়দিনকে বলেন, বুড়িগঙ্গা উদ্ধার করে হাতিরঝিলের আদলে একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। তাই আগে নদী দখল মুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছেন।
নদ-নদীসহ নগরীর পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় করপোরেশনের কার্যক্রমের সুফল খুব অল্প সময়ে নগরবাসীর কাছে দৃশ্যমান হবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, অনেক পুরনো জায়গা তাই একটু সময় লাগাটা স্বাভাবিক। এ সময় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে বুড়িগঙ্গায় সাগরের মাছ ফিরে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
বিআইডবিস্নউটিএ সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিকভাবে আগামী তিন মাস এ অভিযান চলবে। এরপর একটি প্রকল্পের আওতায় কাজ সম্পন্ন করা হবে। ইসলামবাগ হতে শিকদার মেডিকেল পর্যন্ত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, বর্জ্য অপসারণ এবং খনন কাজ করা হবে বলে বিআইডবিস্নউটিএ সূত্রে জানা গেছে। ডিএসসিসি, বিআইডবিস্নউটিএ এবং ঢাকা জেলা প্রশাসন যৌথভাবে বুড়িগঙ্গা তীরবর্তী অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কাজ পরিচালনা করবে।
জানা যায়, ‘৮০-র দশক থেকে বুড়িগঙ্গা ভরাট করে ঘর-বাড়ি নির্মাণের হিড়িক পড়ে। এরপর ১৯৯৭ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত মিডফোর্ড হাসপাতালের পেছন থেকে নবাবগঞ্জ, হাজারীবাগ, মিরপুর হয়ে টঙ্গীব্রিজ পর্যন্ত নির্মিত বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের ভেতরে চলে যায় বুড়িগঙ্গার বৃহৎ অংশ।
এদিকে, বেশ কয়েক বছর ধরে ঢাকার আশপাশের নদ-নদী ও জলাশয়গুলো উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে আসছে কর্তৃপক্ষ। শুরুতে বেশ তোড়জোড় থাকলেও কিছুদিন পরে তা থমকে যায়। উচ্ছেদ অভিযানের পরপরই আবার বেদখল হয়ে যায়। এতে বিআইডবিস্নউটিএ’র কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
ঢাকার প্রাণখ্যাত বুড়িগঙ্গাকে দৃষ্টিনন্দন করতে একটি মাস্টার প্ল্যান করেছে ডিএসসিসি। নদীটি সৌন্দর্য ম-িত করতে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ২শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘ইনটিগ্রেটেড আরবান ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড স্মার্ট সিটি ম্যানেজমেন্ট’ নামে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০ বছর।
প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিকভাবে বুড়িগঙ্গার দ্বিতীয় সেতু থেকে সদরঘাট পর্যন্ত সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ করা হবে। এরপর হাজারীবাগ থেকে সদরঘাট হয়ে নারায়ণগঞ্জের পাগলা পর্যন্ত এ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। প্রকল্পের আওতায় অবকাশ যাপনের জন্য নদীর তীরে বিলাস বহুল রিসোর্ট, হাঁটার রাস্তা, পার্ক, বসার স্থান, ভাসমান বিনোদন কেন্দ্র ও রেস্তোরাঁ থাকবে। চারপাশে সবুজ দেশীয় গাছ-গাছালির পাশাপাশি থাকবে দেশ-বিদেশের নানা প্রকার ফুল।

Views: 50