স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে

দেশকে এগিয়ে নিতে যেমন ভাল নেতৃত্বের প্রয়োজন, পাশাপাশি প্রয়োজন জনগণের আন্তরিক সহযোগিতা। আর এই দুয়ের সমন্বয়ে খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে এগিয়ে যায় একটি দেশ তার উন্নতির চূড়ায়। যার স্বপ্ন সে জন্মলগ্ন থেকে দেখে থাকে। পৃথিবীর ইতিহাস এমন ইঙ্গিতই বহন করে আসছে। যার জ্বলন্ত প্রমাণ হলো এশিয়া মহাদেশের মালয়েশিয়া। যার রূপকার মাহাথীর মোহাম্মদ ও তার সফল নেতৃত্ব। রয়েছে জনগণের আন্তরিক সহযোগিতা। যে কারণে আজ বিশ্বের বুকে দেশটি উন্নত রাষ্ট্রের মর্যাদা লাভ করেছে। যে স্বপ্ন আমরা স্বাধীনতার পর থেকে অদ্যাবধি দেখে আসছি কিন্তু বাস্তবতার মুখ এখনও দেখতে পাইনি। যার পিছনে রয়েছে অন্তহীন সমস্যা। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সমস্যা হলো সরকারের পালা বদলের হাওয়ায় ভেঙ্গে যায় আমাদের উন্নত রাষ্ট্র হওয়ার স্বপ্ন, রঙিন আশা। এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে চাইলেই চলে এসেছে নানাবিধ সমস্যা। যার সমাধান করতে না করতেই হয় সরকার পরিবর্তন হয়েছে, না হয় আরেক পাহাড়সম সমস্যা সামনে এসে হাজির হয়েছে। যা আমাদের উন্নত রাষ্ট্র বিনির্মাণে মূল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০১৬ সালটা তার ব্যতিক্রম কিছু নয় বরং কিছু ক্ষেত্রে আরও বেশি বাধার সম্মুখীন হয়েছে। বর্তমান সময়টা আমরা ভালভাবেই পার করছিলাম সেই স্বপ্ন পূরণের অভীষ্ট লক্ষ্যে। কিন্তু সেটা স্বপ্ন ভঙ্গকারীদের চক্ষুশূলের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আমাদের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে যে সব বিষয় মূল হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে তৈরি পোশাক শিল্প তার মধ্যে অন্যতম। এক কথায় বলতে গেলে সিংহভাগ আয় আমাদের এর থেকেই এসে থাকে। আর সেটাই আমাদের উন্নয়নে বাধা দানকারীদের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই পোশাক শিল্পকে ধ্বংস করার লক্ষ্যে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে আগুন দিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতাকে প্রতিহত করার বৃথা চেষ্টা করেছিল। যাতে করে স্বপ্ন ভঙ্গ হয়ে যায় আমাদের। যেন ভঙ্গুর হয়ে পড়ে আমাদের অর্থনীতির চাকা। যার ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে না উঠতেই মানবতার শত্রু হিসাবে চিহ্নিত জঙ্গী নামক রোগের অবির্ভাব হয় যা আমাদের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করার গুরুদায়িত্ব পালন করেছে। তবে সেটা ছিল সাময়িক সময়ের জন্য। অল্প সময়ের ব্যবধানে খুব বলিষ্ঠতার সঙ্গে এই সমস্যা সমাধানে সক্ষম হয়েছি আমরা। তবুও যে আতঙ্ক কেটে গেছে এমনটা নয়। কিছুদিন পূর্বে আবারও কিছু যুবক ঘর ছেড়েছে অজানা গন্তব্যে যা আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে। আবার কোন নীল নকশা বাস্তবায়নে এগিয়ে যাচ্ছে তারা সেটাই চিন্তার কারণ। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বড় অঙ্কের রিজার্ভ চুরির ঘটনাটা ঘটে যাওয়া মানে দেশের মেরুদ- ভেঙ্গে যাওয়ার মতই অবস্থা। তবুও আমরা সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছায় উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখে দৃঢ় পায়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছি যা আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের। স্বপ্নের পদ্মা সেতু তার উজ্জল দৃষ্টান্ত।

আমরা শত বাধা উপেক্ষা করে দারিদ্র্য বিমোচনেও সাফল্য দেখিয়ে বিশ্বের বুকে সমাদৃত হয়েছি। যার ফলে অতি দারিদ্র্যের হার ১২ দশমিক ৯ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। সঙ্গে সঙ্গে কাক্সিক্ষত জিডিপি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছি। যা আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য মহাসাফল্য হিসাবেই দেখছেন অর্থনীতিবিদগণ। স্বয়ং বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, দারিদ্র্য বিমোচনের দিক থেকে বাংলাদেশের কাছ থেকে আমাদের আনেক শেখার আছে। আর এই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা যদি ধরে রাখা যায় যদি কোন প্রকার অপশক্তি মাথা উঁচু করে না দাঁড়াতে পারে তাহলে সে দিন বেশি দূরে নয় যে স্বপ্ন নিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি তা বাস্তব রূপে প্রকাশ পাবেই।

ফুলপুর, ময়মনসিংহ থেকে