খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর

মানুষের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী। একই সঙ্গে কৃষকের ক্ষতি করে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল এ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) উগ্যোগে ‘বাংলাদেশ কৃষি : উন্নয়ন প্রতিবন্ধকতাসমূহ এবং ভবিষ্যত পরিকল্পনা’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী। বিআইআইএসএসের অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী তার মূল প্রবন্ধে বাংলাদেশের কৃষি নিয়ে উন্নয়ন এবং সমস্যার কথাও তুলে ধরেন।

বক্তব্যের শুরুতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য দৃঢ় অঙ্গীকারাবদ্ধ। ইতোমধ্যেই সরকার নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে আগামী দিনগুলোতে কৃষিক্ষেত্রে যে প্রতিবন্ধকতা আসতে যাচ্ছে তার জন্য এখনই ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। কৃষিক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য কৃষি গবেষণার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন মতিয়া চৌধুরী।

সবজি উৎপাদনে বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের স্থান তৃতীয় উল্লেখ করে মতিয়া চৌধুরী বলেন, সারা বিশ্বের মধ্যে আমরাই সবজি উৎপাদনে তৃতীয়। আলু উৎপাদনে আমরা সপ্তম স্থানে রয়েছি। এটি আমাদের জন্য অনেক গর্বের বিষয়। কৃষিকাজ করে যারা জীবিকা নির্বাহ করছেন তাদের সমস্যার কথা স্বীকার করে বলেন, কৃষকরা যেন কোন ধরনের সমস্যা ছাড়াই ন্যায্যমূল্যে তাদের পণ্য বিক্রি করতে পারেন, আমরা সেই চেষ্টা করে যাচ্ছি।

আগামী দিনগুলোতে যে সমস্যা হতে পারে তারও কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী। মন্ত্রী মনে করেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং আবাদি জমির হ্রাস এটিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে মোকাবেলা করতে হবে। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক দুর্যোগ কৃষির জন্য একটি অন্যতম চাপ যা মোকাবেলা করতে এখন থেকেই করণীয় ঠিক করছে সরকার।

মন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে ক্রমশ জনসংখ্যা বাড়ছে; জমির পরিমাণ বাড়ছে না, বরং কমছে। শুধু তাই নয়, বাড়িঘর,কলকারখানা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নতুন করে হওয়ায় আমাদের কৃষিজমি কমছে। এজন্যও আমাদের সমস্যায় পড়তে হতে পারে। আমরা তাই বৈজ্ঞানিকভাবে কিভাবে কৃষিজমিতে ফলন বাড়ানো যায় সেটিরও চেষ্টা করছি।

জলবায়ু পরিবর্তন কৃষির ওপর প্রভাব ফেলছে উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তন। যা মোকাবেলা করা আমাদের পক্ষে কঠিন। এর ফলে কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। যার উত্তরণে আমাদের গবেষকরা কাজ করছেন। এছাড়াও মৌসুমে যে ফলন হওয়ার কথা সেটিতেও সমস্যা হচ্ছে এই জলবায়ু পরিবর্তনে যোগ করেন তিনি।

কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, ২০২১ সালে মধ্যম আয়ের দেশ গড়তে সাফল্যের সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছি। ২০৪১ সালে উন্নত দেশ গড়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছি।

খাদ্যশক্তি, প্রাণশক্তি ও শ্রমশক্তি বৃদ্ধি পেলে মেধাশক্তি বৃদ্ধি পাবে উল্লেখ করে মতিয়া চৌধুরী বলেন, দারিদ্র্যের কশাঘাতে মানুষ সবকিছু ভুলে যায়। খাদ্যের চাহিদা বাড়লেও কমেছে জমি। তারপরও সাড়ে সাত কোটি মানুষের জায়গায় ষোলো কোটি মানুষ তিনবেলা খেতে পাচ্ছে, এটাই বাস্তবতা। মেধার বিকাশ ঘটানোর কারণেই এটা সম্ভব হয়েছে।

এছাড়াও সাম্প্রতিক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাওয়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পুরস্কারের কথাও উল্লেখ করেন মতিয়া চৌধুরী। একই সঙ্গে বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ হিসেবে কৃষিক্ষেত্রে বাংলাদেশ যেন একটি বৈপ্লবিক দেশ হিসেবে সুনাম অর্জন করতে পারে সে চেষ্টা করে যাচ্ছে সরকার বলেও জানান কৃষিমন্ত্রী।

এর আগে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিআইএসএসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ কে এম আবদুর রহমান, এনডিসি, পিএসসি। স্বাগত বক্তব্যে তিনি বলেন, ডিসেম্বর মাস বিজয়ের মাস। বাংলাদেশের মানুষের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মাস এটি। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, কৃষি বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেক্টর। দেশের অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজ করে। তাই কৃষির উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উন্মুক্ত আলোচনায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উর্ধতন কর্মকর্তা, কৃষিবিদ, বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষকবৃন্দ, জাতীয়-আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক- শিক্ষার্থী অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিআইআইএসএসের বোর্ড অব গবর্নর্সের চেয়ারম্যান রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ আহমদ। সমাপনী বক্তব্যে, কৃষিতে যে অর্জন হয়েছে এটা ধরে রেখে আরও এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা করেন তিনি।