ঢাকা থেকে পায়রা বন্দর পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণে সমঝোতা চুক্তি

পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, চলতি অর্থবছর (২০১৬-১৭) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭ দশমিক ২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে আমরা আশা করছি, অর্থনৈতিক বিভিন্ন সূচকের অগ্রগতির চলমান ধারা অব্যাহত থাকলে প্রবৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে। মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাস এবং বিদায়ী খ্রিস্টীয় বছরজুড়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় পরিকল্পনা সচিব তারিক-উল-ইসলাম, সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য ও সিনিয়র সচিব ড. শামসুল আলম, আইএমইডি সচিব ফরিদ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীসহ বিভিন্ন বিভাগের উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১০১টি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এসব প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ২ লাখ ২৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। প্রকল্পের ব্যয় বিবেচনায় এটি যে কোন সময়ের তুলনায় সর্বোচ্চ। এবছর একনেকের আরও একটি সভা হওয়ার কথা রয়েছে। মন্ত্রী বলেন, এ সময়ে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৫ শতাংশের মধ্যে সীমিত রাখা গেছে। বেড়েছে এডিপি বাস্তবায়নের হার। অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার প্রায় ২০ শতাংশ, যা আগের একই সময়ের তুলনায় সর্বোচ্চ। মন্ত্রী জানান, মানবসম্পদকে উন্নত দেশের সিঁড়ি করতে চায় সরকার। দেশের বর্তমান জনগোষ্ঠীর ৭৬ শতাংশ কর্মক্ষম। এ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সিংহভাগের গড় বয়স ২৬ বছর। দেশের উন্নয়নে এরা আগামী প্রায় ৪০ বছর ভূমিকা রাখতে পারবে। জনমিতির হিসাবে (ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড) বাংলাদেশ সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে আছে। তাই এ সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। এজন্য ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের কাতারে পৌঁছুতে সরকার মানবসম্পদ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করেছে। ভৌত অবকাঠামোর পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা হবে। এজন্য কারিগরি শিক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত ইউনাইটেড নেশন কনফারেন্স অন ট্রেড এ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের রিপোর্ট উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের আগেই আমরা স্বল্প উন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বের হয়ে আসার যোগ্যতা অর্জন করতে পারব। মানবসম্পদ, মাথাপিছু আয় ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা-এই প্রধান তিনটিসহ অর্থনীতির সব সূচকে আমরা এগিয়ে আছি। বর্তমানে শুধু সনদ পাওয়ার অপেক্ষা। মন্ত্রী বলেন, মানবসম্পদ সূচকে কমপেক্ষ ৬৬ স্কোর অর্জন করতে হয়। এ সূচকে বাংলাদেশের বর্তমান স্কোর ৬৩ দশমিক ৮। মাথাপিছু আয় বাড়ানো ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা অর্জনের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ সঠিক পথে আছে। জাতিসংঘের নিজস্ব হিসাবে বাংলাদেশের মাথাপিছু গড় আয় ১ হাজার ১৯০ ডলার। এলডিসি থেকে বের হতে এ আয়সীমা ১ হাজার ২৪২ ডলার ছাড়িয়ে যেতে হবে। আর অর্থনীতির ভঙ্গুর অবস্থা মোকাবেলার সূচকে স্কোর ৩২-এর বেশি হওয়া যাবে না। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বর্তমান স্কোর ২৫, যা ইতিবাচক। মন্ত্রী বলেন, এসব সূচকে বর্তমানে বাংলাদেশের যে অবস্থান তাতে পেছানোর সুযোগ নেই। বরং আরও ভাল করতে হবে। এটি করতে পারলে ২০২১ সালের মধ্যেই আমরা এলডিসি থেকে বের হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পারব। মন্ত্রী আরও বলেন, ভবিষ্যতে চীন ও ভারত হবে পৃথিবীর প্রধান দুই অর্থনীতির দেশ। তাই উন্নত দেশ হওয়ার ক্ষেত্রে নিজেদের ভৌগোলিক অবস্থান কাজে লাগানোর সুযোগ বাংলাদেশের রয়েছে।