১১০ বছর শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে নাটুদা মাধ্যমিক বিদ্যালয়

চুয়াডাঙ্গার প্রত্যন্ত পল্লী ছায়াঢাকা পাখিডাকা সবুজে ঘেরা অজপাড়া গাঁর ‘নাটুদা মাধ্যমিক বিদ্যালয়’ এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে ১১০ বছর যাবত্। চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯০৬ সালে।

ব্রিটিশ শাসনামলে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন তত্কালীন নাটুদার জমিদার ও শিক্ষানুরাগী নফরপাল চৌধুরী। প্রতিষ্ঠালগ্নে তিনি প্রতিষ্ঠানটির নামে ৯ দশমিক ২২ একর জমি দান করে তার স্ত্রী রাধা রানীর নামানুসারে এর নামকরণ করেন ‘রাধারানী ইনষ্টিটিউশন’। ওই সময়কালেই জমিদার নফরপাল চৌধুরী নিজে দান করা জমির উপর নিজ খরচে চারতলা ভিত্তি বিশিষ্ট একটি পাকা ভবনের প্রথম তলার নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেন। একই সঙ্গে তিনি প্রথম তলার ১৫ কক্ষ বিশিষ্ট ভবন সংলগ্ন এলাকায় প্রধান শিক্ষকের চেম্বারসহ পাকা অফিস কক্ষও নির্মাণ করে দেন। পরবর্তীতে কলকাতা শিক্ষা বোর্ডের পূর্ব রেজিষ্ট্রেশন এ প্রতিষ্ঠানটি নাম পরিবর্তন করে ১৯৬১ সালে নতুন নামকরণ করা হয় ‘নাটুদা মাধ্যমিক বিদ্যালয়’। যা এখনো যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীন রেজিষ্ট্রি করা আছে। নির্মাণ কাজের শুরুতে সংশ্লিষ্ট কলকাতার একটি প্রকৌশল সংস্থার প্রস্তুত ডিজাইন ব্লু-প্রিণ্টে চারদিকের করিডোর মিলিয়ে প্রতি ১৫ কক্ষ বিশিষ্ট প্রতি তলায় ২৫০টি করে চারতলা ভবনটিতে সর্বমোট দরজার সংখ্যা ছিল এক হাজার। এ জন্য ঐতিহাসিক এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই এলাকাবাসীর মুখে মুখে হাজার দুয়ারী বিদ্যালয় নামে পরিচিত আছে।

লাইব্রেরী ও বিজ্ঞানাগার সমৃদ্ধ বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্যিক বিভাগ সমন্বিত বিদ্যালয়টির মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা সাতশ জন। বিদ্যালয়টিতে বালক ও বালিকা শিক্ষার্থীদের প্রতি শ্রেণিতে ভিন্ন ভিন্ন শ্রেণিকক্ষ সুবিধা থাকলেও বেঞ্চ ও চেয়ার-টেবিলের প্রকট সংকট রয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী মোট ১৫ জন শিক্ষকের সবগুলো পদ পূর্ণ থাকলেও একজন হিসাবরক্ষকসহ প্রয়োজনীয় সংখ্যক পিওন ও নৈশপ্রহরী নেই। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে কোনো সীমানা প্রাচীর নেই। এমনকি প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষক কমনরুম ও অডিটরিয়াম সুবিধা নেই। বিদ্যালয় থেকে ২০১৫ সালে জেএসসি পরীক্ষায় ১২৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে সকলে উত্তীর্ণ হয়ে শতভাগ পাসের কৃতিত্ব অর্জন করে।

বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান বলেন, বিগত জেএসসি পরীক্ষায় শতভাগ পাসের রেকর্ড সৃষ্টি প্রতিষ্ঠানটিন বর্তমান শিক্ষাক্রমের উজ্জ্বল বহিপ্রকাশ ঘটেছে।

প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন কৃতী শিক্ষার্থী ঢাকাস্থ টিএণ্ডটি বিভাগীয় প্রকৌশলী ইলিয়াস উদ্দিন বলেন, ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমল পেরিয়ে বর্তমান বাংলাদেশ সময় মিলিয়ে ১১০ বছর বয়সী বিদ্যালয়টিতে আজ পর্যন্ত কোনো সময়েই সরকারি কোনো উন্নয়ন বরাদ্দ মেলেনি।