এত দ্রুত সরকারি চাকরি পাব আশা করিনি’

‘এত দ্রুত চাকরি পাব, আমি আশাই করিনি। পাস করার পর চাকরির জন্য বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে যোগাযোগ করেছি। ওইসব ক্লিনিক বা হাসপাতালের মালিক যে বেতন দিতে চান তা দিয়ে কোনো শহরে টিকে থাকা সম্ভব না। এই পরিস্থিতিতে চরম হতাশার মধ্যে পড়েছিলাম। এই হতাশার মধ্যে পেয়ে গেলাম সরকারি চাকরি।’ সম্প্রতি একসঙ্গে নিয়োগ দেওয়া হয় ১০ হাজার সিনিয়র স্টাফ নার্স। এদের একজন পান্না খাতুন। তিনি ইত্তেফাকের কাছে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে এসব কথা বলেন। গতকাল মঙ্গলবার নতুন নিয়োগ পাওয়া নার্সদের সমাবেশে যোগ দিতে এসেছিলেন তিনি। কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ চত্বরে স্বাস্থ্য সচিব মো. সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে যোগ দেওয়া সিরাজগঞ্জ নার্সিং ইনস্টিটিউট থেকে পাস করা আরেকজন সিনিয়র স্টাফ নার্স রোজিনা খাতুন ইত্তেফাককে বলেন, ‘পাস করার পর ৫ বছর ধরে বেকার ছিলাম। এর মধ্যে কিছু বেসরকারি হাসপাতালে চাকরি করেছি। কিন্তু সেখানে পরিবেশ এতই খারাপ সম্মান নিয়ে চাকরি করা মুশকিল। সরকারি চাকরির আশায় এতদিন মুখ বুজে সব সহ্য করেছি। এত বছর পর হলেও সরকারি চাকরি পেয়ে আমি সত্যিই খুব আনন্দিত।’ স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতাল নার্সিং ইনস্টিটিউট থেকে পাস করা সিনিয়র স্টাফ নার্স নুশরাত জাহান বলেন, ‘গত ৫ বছর ধরে আমিও বেকার ছিলাম। মাঝে মধ্যে বেসরকারি হাসপাতালে কাজ করেছি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণার পর এত দ্রুত যে নিয়োগ পাব তা প্রত্যাশাই করিনি। নিয়োগপত্র হাতে পেয়ে সত্যি ভালো লাগছে।’

এম মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও নার্সিং ইনষ্টিটিউট থেকে পাস করা সিনিয়র স্টাফ নার্স ফারজানা আক্তার বলেন, ‘শুধু সরকারি চাকরিই নয়, পোস্টিং হয়েছে রাজধানীর নামকরা হাসপাতালে। যা কখনও আশাই করিনি।’

সমাবেশে বক্তারা বলেন, একসঙ্গে কোনো একটি বিভাগ থেকে এত নিয়োগ দেশে এটাই প্রথম। শুধু বাংলাদেশ নয়, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও এই রেকর্ড নেই। নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. মোস্তফা সারওয়ার বলেন, এত বড় নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সরাসরি হস্তক্ষেপের কারণেই সম্ভব হয়েছে। পেছনে পিএসসি ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদেরও অবদানের কথা তিনি স্মরণ করেন।

সরকারি হাসপাতালগুলোতে বর্তমানে নার্স-এর তীব্র সংকট রয়েছে। চিকিত্সকের তুলনায় নার্সদের সংখ্যা সীমিত। একজন চিকিত্সকের বিপরীতে তিন জন নার্স থাকার কথা। এই অবস্থার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি ১০ হাজার সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগের ঘোষণা দেন। সমাবেশে নিয়োগ পাওয়া নার্সরা প্রধানমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদফতরের কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন।