পাইকগাছার অদম্য সাহসী নারী জহুরা

জহুরা বেগমকে তালা উপজেলার জেটুয়া গ্রামের নেহাল উদ্দীন শেখের ছেলে রউফ শেখের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু পর পর তিন মেয়ে সন্তান হওয়ায় স্বামী তাকে তালাক দেয়। অসহায় জহুরা সন্তানদের নিয়ে তার বাবার বাড়ি ঘোষাল গ্রামে চলে আসেন। তবে হাল না ছেড়ে মেয়েদের মানুষের মতো মানুষ করার সিদ্ধান্ত নেন।

একপর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে এবং সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতায় তিন মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করেন। এরপর ছাগল পালন থেকে শুরু করে শাড়ি পর্যন্ত বিক্রি করেন। ধীরে ধীরে তার মেয়েরা বিদ্যালয়ে ভালো ফলাফল করতে থাকলে উপজেলা প্রশাসন থেকে শুরু করে বিভিন্ন সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান তাদের লেখাপড়ায় সহযোগিতায় এগিয়ে আসে।

বড় মেয়ে রাজিয়া ইয়াসমিন রুপা পাইকগাছা ফসিয়ার রহমান ডিগ্রি কলেজ থেকে বিএ পাস করে সুন্দরবন কলেজে আইন বিভাগে পড়াশুনা করছেন। মেঝো মেয়ে হাফিজা ইয়াসমিন ময়না কুষ্টিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা বিভাগে স্নাতক ডিগ্রি নিয়ে কপিলমুনি ডিগ্রি কলেজে অধ্যাপনা শুরু করেন। আর ছোট মেয়ে সুমাইয়া ইয়াসমিন মনু খুলনা মেডিক্যাল কলেজে থেকে এমবিবিএস পাস করে বর্তমানে খুলনার আদদ্বীন হাসপাতালে চিকিত্সক হিসেবে কর্মরত আছেন। গর্বিত মা জহুরা বেগম প্রমাণ করেছেন ছেলে সন্তান নয় মানুষের মতো মানুষ করতে পারলে মেয়ে সন্তানই যথেষ্ট।

অদম্য সাহসিকতা ও মেয়ে সন্তানদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলার জন্য গত ৯ ডিসেম্বর বেগম রোকেয়া দিবসে পাইকগাছা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে সাহসিকতায় জয়ীতা পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে।