রাজশাহী অঞ্চলে সরিষার ফলন সন্তোষজনক

চলতি রবি মৌসুমে সরকারি বিভিন্ন পদক্ষেপ ও অনুকূল আবহাওয়া বিদ্যমান থাকায় এই অঞ্চলে সরিষা বীজের উৎপাদন সন্তোষজনক হচ্ছে বলে কৃষক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বরেন্দ্র অঞ্চলসহ এই অঞ্চলের সর্বত্র রবি শস্যের ভালোভাবে বেড়ে ওঠা থেকে বোঝা যাচ্ছে যে, সরিষা বীজের বাম্পার উৎপাদন হবে।
শস্য মাড়াই আগামী মাসে শুরু হবে এবং কৃষকরা শস্য কাটার পর এই জমিগুলোতে বোরো চাষ শুরু করবে। কৃষক ও কৃষি সমপ্রসারণ অধিদফতরের (ডিএই) কর্মকর্তাগণ আজ এ কথা বলেন।
ডিএই চলতি মৌসুমে এই অঞ্চলের আট জেলার এক লাখ ৮০ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। কিন্তু কৃষকগণ এক লাখ ৮৩ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করেছেন।
এছাড়া ডিএই বারি, ব্র্যাক, বিএডিসি ও এনজিওর মতো বিভিন্ন গবেষণা ও উন্নয়নমূলক সংগঠন কৃষকদের সহযোগিতার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
আঞ্চলিক গম গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. ইলিয়াস হোসেন বলেন, বারি থেকে ১৬ ধরনের উচ্চ ফলনশীল সরিষা বীজ সরবরাহ করা হয়েছে। এরমধ্যে বারি সরিষা ১৫ ও তরি-৭ কৃষকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
কৃষি বিভাগ ও বিভিন্ন এনজিও প্রতিষ্ঠান এই কর্মসূচি সফল করতে মানসম্মত বীজ, বিভিন্ন কৃষি উপকরণ ও আধুনিক প্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে।
ভূমিহীন ও প্রান্তিক কৃষকগণ এই সময়ে নদীর বালুচর সরিষা চাষের আওতায় এনেছে এবং এই অঞ্চলের সর্বত্র শস্য চমৎকারভাবে বেড়ে উঠছে।
ডিএই’র অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ ফজলুর রহমান বলেন, এই অঞ্চলে তেল বীজ উৎপাদনের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে তিনি ভোজ্য তেলের আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনে সরিষা বীজের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য উন্নত কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার ও সঠিক জ্ঞান প্রচারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি দেশের উত্তরাঞ্চলীয় এসব অঞ্চলে উন্নত কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সাফল্য অর্জনের জন্য সরিষা, চীনাবাদাম ও সয়াবিন উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
এই অঞ্চলের কৃষকগণ সবসময় প্রচুর জমিতে ধান, আলু, ভুট্টা ও শাকসবজি উৎপাদন করত। এখন শস্যের বহুমুখীকরণ ও ভূমি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তেলবীজ উৎপাদন বাড়াতে সম্ভাবনার বিষয়ে গবেষণা করা উচিত বলে মনে করেন তিনি। তিনি স্বল্প মেয়াদি আমন ও বোরো ধান কাটার পর উন্নত জাতের তেল বীজ চাষের আহ্বান জানান।