অন্ধত্ব থেকে বাঁচলেন ৩৮ গরিব রোগী

ছানি রোগে (ক্যাটার‌্যাক্ট) আক্রান্ত হয়ে অন্ধ হতে বসেছিলেন টাঙ্গাইলের সখীপুরের জাইমুনা আখতার। পুত্রসন্তানহীন এই বৃদ্ধার সংগতি ছিল না অর্থ খরচ করে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ছানি অপসারণের।

তাই জীবনের শেষ প্রান্তে এসে আবার পৃথিবীর আলো দেখার আশা ছেড়েই দিয়েছিলেন। বাস্তবতা হলো, এই হতদরিদ্র মা আবারও দুই চোখ ভরে পৃথিবীর সৌন্দর্য উপভোগ করবেন। আর তাঁকে এই সুযোগ করে দিয়েছে বসুন্ধরা আই হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের একটি মহতী উদ্যোগ।
গতকাল বুধবার জাইমুনার এক চোখে ছানি অপসারণের অস্ত্রোপচার হয়েছে বসুন্ধরা আই হসপিটালে। একেবারে বিনা পয়সায়। আরেক চোখে অস্ত্রোপচার হবে কিছুদিন পর। কেবল জাইমুনাই নন; সখীপুর, ভালুকা, বাসাইল, কালিহাতী ও ঘাটাইল উপজেলাসহ টাঙ্গাইলের বিভিন্ন অঞ্চলের মোট ৩৮ জন গরিব রোগীর চোখে সফল অস্ত্রোপচার করেছে বসুন্ধরা আই হসপিটাল। গতকাল রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ডি ব্লকে অবস্থিত ওই চক্ষু হাসপাতাল ‘আউটরিচ’ কর্মসূচির আওতায় ‘আই ক্যাম্প’ করে ওই রোগীদের চোখে অস্ত্রোপচার করে।

এর আগে গত ২৯ নভেম্বর টাঙ্গাইলের সখীপুরের স্থানীয় সংগঠন প্রবীণ কল্যাণ কেন্দ্রের সংগঠকদের সঙ্গে নিয়ে সখীপুরের বড় চওনা গ্রামে ‘আই ক্যাম্প’ করা হয়। সেখানে সখীপুরসহ অন্যান্য উপজেলার পাঁচ শর মতো রোগীর মধ্য থেকে ছানি অপসারণসহ কয়েক ধরনের অস্ত্রোপচারের জন্য ৬৮ জনকে বাছাই করা হয়। এঁদের মধ্য থেকে ৩৮ জন রোগী অস্ত্রোপচারে রাজি হন। গত মঙ্গলবার নিজস্ব খরচে তাঁদের ঢাকায় নিয়ে এসে থাকা-খাওয়া ও অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করে ভিশন কেয়ার ফাউন্ডেশন ও বসুন্ধরা গ্রুপের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই চক্ষু হাসপাতালটি।

গতকাল সকাল থেকে শুরু হয় অস্ত্রোপচার। অধ্যাপক ডা. মো. সালেহ আহমদের নেতৃত্বে চক্ষু বিশেষজ্ঞদের একটি দল এই অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করে।

ডা. সালেহ আহমদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বসুন্ধরা আই হসপিটাল প্রতি মাসেই এমন আউটরিচ কর্মসূচির মাধ্যমে বিনা পয়সায় গরিব রোগীদের চক্ষুসেবা দেওয়ার চেষ্টা করছে। এর অংশ হিসেবে গত মাসে হাসপাতালের পুরো টিম নিয়ে আমরা টাঙ্গাইলের সখীপুরে যাই। সেখানে গরিব রোগীদের চোখ পরীক্ষা করে ৬৪ জনকে অস্ত্রোপচারের জন্য বাছাই করা হলেও শেষ পর্যন্ত ৩৮ জন রোগী ঢাকায় আসতে রাজি হন। এঁদের মধ্যে ছানি আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাই বেশি। আজ (গতকাল) সকাল থেকে তাঁদের চোখে অস্ত্রোপচার করা হচ্ছে। ’

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, এর আগে এমন আরো সাতটি আই ক্যাম্প করে বিনা পয়সায় প্রায় ২০০ রোগীর চোখে অস্ত্রোপচার করা হয়। আই ক্যাম্পগুলো করা হয় বরিশাল, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঢাকার কালাচাঁদপুর, কড়াইল বৌবাজার, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি ও সাভারের আমান স্পিনিং মিলসে।

ডা. সালেহ আহমদ আরো বলেন, ‘কেবল আই ক্যাম্প নয়, আমাদের এই হাসপাতালে এসে গরিব রোগীরা বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা পেয়ে থাকেন। আর এই হাসপাতালের চিকিৎসাসংক্রান্ত যন্ত্রপাতি অত্যাধুনিক মানের। সেবার মানও অনেক উন্নত। এখানে চোখের সব ধরনের চিকিৎসা সম্ভব। ’

প্রবীণ কল্যাণ কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. শাহজালাল চৌধুরী বেলাল বলেন, বসুন্ধরা আই হসপিটালের উদ্যোগে বিনা পয়সায় চোখের চিকিৎসা দেওয়ার খবর জানতে পেরে আমি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং সেখানকার ডাক্তারদের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তাঁরা আমাদের সখীপুরের বড় চওনা গ্রামে গিয়ে রোগী দেখতে রাজি হলে আমি সখীপুরসহ আশপাশের উপজেলায় মাইকিং করে বিনা পয়সায় চোখের চিকিৎসার প্রচার চালিয়ে দুস্থ রোগীদের জড়ো করি। ’

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, বসুন্ধরা আই হসপিটালে এসে বিনা পয়সায় অস্ত্রোপচার করে অন্ধত্ব থেকে মুক্তি পাওয়া দুস্থ রোগীর সংখ্যা ৩৭০ জন। আর গতকালসহ মোট আটটি আই ক্যাম্পে অস্ত্রোপচার করা রোগীর সংখ্যা ২৩০ জন।