নতুন দিনের স্বপ্ন দেখছে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ

নয়টি উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ তাদের জীবন জীবিকা ও অর্থনৈতিক সচ্ছলতার নতুন স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে এ নয়টি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ৯৩৭ একর ভূমি অধিগ্রহণের কাজ প্রায় সম্পন্ন হওয়ার পথে। এ নয়টি প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি মাওয়ায় নির্মিত পদ্মা সেতু ও পটুয়াখালীর পায়রা বন্দর নির্মাণের কাজ শেষ হলে উন্নয়ন বৈষম্যে পিছিয়ে থাকা দক্ষিণাঞ্চল সারাদেশের সঙ্গে উন্নয়নের মহাসড়কে যুক্ত হবে। নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ ও চরাঞ্চলের হতদরিদ্র মানুষের ভাগ্যের চাকাও ঘুরবে বলে আশা করছে মানুষ।

পদ্মা সেতু ও পায়রা বন্দর মেগা প্রকল্পের বাইরে যে নয়টি প্রকল্প নিয়ে স্থানীয় মানুষ স্বপ্ন দেখতে শুরু করছে সেগুলো হচ্ছে : বরিশাল সেনানিবাস, কোস্টগার্ডের আঞ্চলিক সদর দফতর, বাংলাদেশ টেলিভিশনের পূর্ণাঙ্গ টিভি কেন্দ্র স্থাপন, বরিশাল বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদর দফতর, শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত ট্রাক টার্মিনাল, বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক), আইসিটি পার্ক (হাইটেক পার্ক), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার ও অর্থনৈতিক অঞ্চল।

২০১৫-১৬ অর্থবছরে নয়টি প্রকল্পের জন্য প্রায় ৯৩৭ একর ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সামরিক ভূ-সম্পত্তি প্রশাসনের উদ্যোগে বরিশালে সেনানিবাস স্থাপনের লক্ষ্যে বরিশাল ও পটুয়াখালী জেলার মধ্যবর্তী পায়রা নদীর তীরে (লেবুখালী ফেরিঘাট সংলগ্ন) ৫৭৮ দশমিক ১১৫ একর ভূমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে। যা এখন চুড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। আগৈলঝাড়ায় অর্থনেতিক অঞ্চল গড়ে তোলার জন্য ৩শ একর জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। খুব শীঘ্রই প্রকল্পের কাজ শুরু করা হবে। মানুষের চাহিদা অনুযায়ী সেখানে বৃহত্ শিল্প গড়ে তোলা হবে। এ অঞ্চলের মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। কীর্তনখোলা নদীর তীরে বরিশাল-পটুয়াখালী সড়কের দপদপিয়া সেতুর উত্তর পাশে স্থাপন করা হবে কোস্টগার্ডের আঞ্চলিক সদর দফতর। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ প্রকল্প বাস্তবায়নের ইতোমধ্যে ২০ একর ভুমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। নদীর অপর প্রান্তে বাংলাদেশ টেলিভিশনের পূর্ণাঙ্গ টিভি কেন্দ্র স্থাপনের জন্য অধিগ্রহণ করা হয়েছে ১০ দশমিক ৬৪ একর ভূমি। টিভি কেন্দ্রটি নগরীর ত্রিশ গোডাউন সংলগ্ন কীর্তনখোলার তীরে স্থাপিত হবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার স্থাপন করা হবে কীর্তনখোলা নদীর পূর্বতীরে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকটবর্তী এলাকায়। এ জন্য ১০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে পর্যটন করপোরেশন।

নগরীর নবগ্রাম রোডে বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদর দফতর স্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ প্রকল্পের জন্য তিন একর জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের অদূরে সড়ক ও জনপথ বিভাগের ৫ একর জমি নির্ধারণ করা হয়েছে চন্দ্রদ্বীপ ক্লাউড চর আইসিটি পার্ক স্থাপনের জন্য। আইসিটি পার্কে গড়ে উঠবে তথ্য প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ২৩ হাজার যুবক-যুবতী কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে। দীর্ঘ ১৮ বছর পর ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের কাশীপুর এলাকায় শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত ট্রাক টার্মিনাল স্থাপন করার জন্য ৭ দশমিক ৭৯ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক) স্থাপিত হচ্ছে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের সমবায় ইনস্টিটিউট সংলগ্ন স্থানে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের এ প্রকল্পের জন্য ৩ একর ভূমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে।

বরিশাল ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সুখময় সরকার জানান, প্রস্তাবিত জমির নকশা, দাগসূচি ও সম্ভাব্য মূল্য শিল্প মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকি অধিকাংশ প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এই নয়টি প্রকল্পের পাশাপাশি দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলবাসীর প্রাণের দাবি পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ। দেশের তৃতীয় গভীর সমুদ্রবন্দরে কার্যক্রম পুরোদমে চালু হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে আঞ্চলিক উন্নয়ন বৈষম্যে পিছিয়ে থাকা দক্ষিণাঞ্চলের দারিদ্র্যের হার কমবে। সারাদেশের সঙ্গে সমন্বয় করে উন্নয়নের মহাসড়কে যুক্ত হবে বরিশাল। জেলা প্রশাসক ড. গাজী মোঃ সাইফুজ্জামান জানান, এ সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত হলে উচ্চমাত্রায় অর্থনৈতিক গতি সঞ্চার হবে এ অঞ্চলের মানুষের।

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা সাবেক চিফ হুইপ আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ ‘ইত্তেফাক’কে জানান, আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় এসেছে তখনই দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নে নানান পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিগত দিনের অনেক প্রকল্প আওয়ামী লীগ ক্ষমতা ছাড়ার পর বাতিল করা হয়েছে। যে কারণে আঞ্চলিক উন্নয়নে পিছিয়ে পড়েছে নদীবেষ্টিত এ অঞ্চল। বর্তমানে চলমান প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে এ অঞ্চলের সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। বিশাল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।