বাংলাদেশে ভারতের চেয়ে বেশি অগ্রগতি হয়েছে : মনি শঙ্কর

স্বাধীনতার ৪৫ বছরে স্থানীয় সরকারব্যবস্থায় বাংলাদেশে ভারতের চেয়ে বেশি অগ্রগতি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের সাবেক কূটনীতিক, লোকসভা ও রাজ্যসভার সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী (পঞ্চায়েতরাজ মন্ত্রণালয়) শ্রী মনি শঙ্কর আয়ার। তবে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে দুই দেশকেই এক্ষেত্রে আরও সংস্কার করতে হবে বলেও মনে করছেন তিনি। গতকাল তিনি রাজধানীর স্পেকট্রা কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এক পাবলিক লেকচারে এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ভারত-বাংলাদেশ এ দুই দেশেরই আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন দরকার। এজন্য স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী এবং সংস্কার করতে হবে। আমি মনে করি, বিগত ৪৫ বছরে বাংলাদেশ স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি করেছে, ভারত তার স্বাধীনতার প্রথম ৪৫ বছরে এতটা অগ্রগতি করতে পারেনি।
সুজন সভাপতি এম হাফিজ উদ্দিন খানের সভাপতিত্বে ও সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ পাবলিক লেকচারে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল মতিন পাটোয়ারী, স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ এবং দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. জেরিনা নাহার কবির প্রমুখ।
মনি শঙ্কর আয়ার বলেন, নারীরা সমাজের অর্ধেক জনগোষ্ঠী। তাদের পেছনে রেখে আমরা কোন উন্নয়ন সাধন করতে পারব না। ভারতে আমরা দেখি, কোটা পদ্ধতির কারণে স্থানীয় সরকারে নারীদের প্রতিনিধিত্ব বেড়েছে। যেমন, ভারতের পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় প্রায় এক লাখ নির্বাচিত নারী জনপ্রতিনিধি রয়েছেন। কর্নাটকে ৩০টি জেলা পরিষদের মধ্যে ১৫টিতেই চেয়ারপারসন হিসেবে নারীরা আসীন রয়েছেন। অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ ছাড়া অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। আয়ার স্মৃতিচারণ করে বলেন, মানবিক সম্পর্কের জায়গা থেকেই বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের যাত্রা শুরু হয়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ভারত প্রায় এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছিল।
এক প্রশ্নের জবাবে সন্ত্রাসবাদের কারণেই ভারতকে সার্ক সম্মেলন বয়কট করতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই সন্ত্রাসীদের লালন করছে প্রঙ্ িযুদ্ধ বজায় রাখার মাধ্যমে। পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নিয়ে আমাদের যেমন ক্ষতি সাধন করছে, একইসঙ্গে তারা নিজেদেরও ক্ষতি করছে। ফারাক্কা বাঁধ সম্পর্কে তিনি বলেন, ভারতের জনগণ মনে করে, ফারাক্কা বাঁধে বাংলাদেশের কোন সমস্যা হচ্ছে না। আবার বাংলাদেশের মানুষ মনে করে, এই বাঁধের কারণে বাংলাদেশের বিরাট ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে। আমি মনে করি, আলোচনার মধ্যে আমাদের এই বিষয়ে একটি সমঝোতায় পেঁৗছা দরকার।
এক প্রশ্নের জবাবে জনাব আয়ার বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যু একটি অনালোচিত এবং অবহেলিত বিষয়। অথচ তারা নির্যাতন ও সহিংসতার শিকার। বিশ্ববাসীর কর্তব্য রয়েছে তাদের পাশে দাঁড়ানোর। ভারত মনে করে, বিশ্বের যেখানেই কেউ নির্যাতনের শিকার হয় তাদের দাঁড়ানো দরকার। তিনি বলেন, ভারতে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট অসাধারণ কাজ করছে। আমার বিশ্বাস, দারিদ্র্য দূরীকরণ ও স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশেও দি হাঙ্গার প্রজেক্ট ভালো করছে।
ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, মনি শঙ্কর আয়ার বাংলাদেশের একজন বন্ধু। তিনি আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন সমর্থক ছিলেন। জনাব আয়ার একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ, কূটনীতিবিদ এবং বলিষ্ঠ বক্তা। বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে আমরা তাকে স্বাগত জানাই। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট স্বেচ্ছাব্রতীদের নিয়ে স্থানীয় সরকারের সঙ্গে যৌথ অংশীদারিত্বে এসডিজি ইউনিয়ন গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় সরকার শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি হওয়ার পাশাপাশি কিছু মডেল ইউনিয়ন তৈরি হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।