১৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের মাইলফলক

বিদ্যুতে ১৫ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদনের মাইলফলক অর্জন উপলক্ষে আলোক উৎসবের ব্যবস্থা করতে যাচ্ছে সরকার। এর অংশ হিসেবে ৭ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সন্ধ্যায় আলোক উৎসবের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ছাড়া আগামী ৭ থেকে ১০ ডিসেম্বর শুরু হচ্ছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সপ্তাহ। রাজধানীর আাান্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় এ উপলক্ষে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মেলার আয়োজন করা হয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি-সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এতে অংশ নেবে। এবারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সপ্তাহ ‘অদম্য বাংলাদেশ’ স্লোগানে পালিত হবে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের নেতৃত্বে এরই মধ্যে আলোক উৎসব ও মেলা আয়োজনের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ বিভাগ আলোক উৎসবের আয়োজন করছে। দেশে বিদ্যুতের বর্তমান উৎপাদন ক্ষমতা ১৫ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে। এর আগে ২০১৩ সালে বিদ্যুতের উৎপাদন যখন ১০ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়েছিল, তখনো সরকার আলোক উৎসবের আয়োজন করে। তবে এবারই প্রথমবারের মতো বিদ্যুতের মূল উৎপাদনের সঙ্গে শিল্প-কারখানায় নিজস্ব উদ্যোগে স্থাপিত বিদ্যুেকন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুৎ (ক্যাপটিভ পাওয়ার) যোগ করা হচ্ছে। এর আগে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মধ্যে ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ উৎপাদনকে যোগ করা হয়নি। আর বাংলাদেশে মোট বিদ্যুতের দুই হাজার ২০০ মেগাওয়াটের ক্যাপটিভ বিদ্যুেকন্দ্র আছে। এসব বিদ্যুেকন্দ্রের জ্বালানি সরকারই সরবরাহ করে। বিদ্যুৎ বিভাগের দেওয়া তথ্যে, এখন দেশের মোট স্থাপিত বিদ্যুেকন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা ১৩ হাজার মেগাওয়াট। তবে কেন্দ্রের ক্ষমতা কমে যাওয়ায় নিট উৎপাদন ১২ হাজার ৪০৫ মেগাওয়াটে দাঁড়িয়েছে। ভারত থেকে আমদানি করা হচ্ছে আরও ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। গত তিন বছরে নতুন করে প্রায় তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে এসেছে। সরকারের মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আওতায় এই কেন্দ্রগুলো নির্মাণ করা হয়েছে। আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে আরও কয়েকটি বিদ্যুেকন্দ্রের উৎপাদনে আসার কথা রয়েছে। এ ছাড়া ভারত থেকে ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির পাশাপাশি আরও ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে আগামী বছরের শেষ নাগাদ আরও ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি শুরু হবে।