সবজি চারার ২০ কোটি টাকার বাজার

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কয়েকটি গ্রামে প্রতি মৌসুমে ২০ থেকে ২২ কোটি টাকার সবজির চারা উৎপাদন হচ্ছে। এসব গ্রামে চারা উৎপাদন করে স্বাবলম্বী হয়েছেন ৫ শতাধিক কৃষক। গ্রামগুলোর মধ্যে সমেশপুর গ্রামে বেশি সবজির চারা উৎপাদন হয়। এরপরেই রয়েছে সৈয়দপুর, ডাকলাপাড়া, হরিণধরা ও বাজেবাহেরচর গ্রাম। কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশেই সমেশপুর। ভোরে সূর্যের আলো ফোটার আগেই ক্রেতা-বিক্রেতায় সরগরম হয়ে ঠে বীজতলা। সরেজমিনে দেখা গেছে, কেউ চারায় পানি দিচ্ছে, কেউ চারা তুলছে, কেউ বাক্সে ভরছে। এ সময় সমেশপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেন মেম্বার জানান, ৬০-এর দশকের শেষ দিকে সমেশপুর গ্রামের ইউসুফ আলী নামের এক ব্যক্তি প্রথম সবজি চারা উৎপাদন শুরু করেন। প্রথমে তিনি একাই চারা উৎপাদন করে বিক্রি করতেন। পরে তিনি অন্য চাষিদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে উদ্বুদ্ধ করেন। তিনি সবাইকে বলেছেন, সবজির চারা লাগিয়ে ভালো আয় করতে পারবেন। প্রথমে অনেকে সাড়া দেননি। পরে তার সাফল্য দেখে অন্যরাও এগিয়ে আসেন। আনোয়ার হোসেন এখন পরলোকে। তবে গ্রামের ৮০ ভাগ মানুষ এখন সবজি চারা উৎপাদন করে স্বাবলম্বী। এই গ্রামে বর্তমানে ১২০ জন বড় কৃষক আছেন। তাদের প্রতিজন প্রতি মৌসুমে ১০ লাখ টাকার উপরে চারা বিক্রি করেন। আবু তাহের নামের এক কৃষক জানান, এখানে বাঁধাকপি, ফুলকপি, টমেটো. মরিচ, বেগুনের চারা উৎপাদন হয়। আগস্ট মাস থেকে চারা উৎপাদন শুরু করে বিক্রি হয় ডিসেম্বর পর্যন্ত। জামাল হোসেন নামের একজন কৃষক জানান, ২৪ শতক জমি আবাদ করতে তার ব্যয় হয়েছে চার লাখ টাকা। আয় হবে ৭-৮ লাখ টাকা। কৃষক নজরুল মুন্সী ও সামছু মিয়া বলেন, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলার চাষিরা এখান থেকে চারা কিনে নিয়ে যান। আমরা উন্নতমানের চারা উৎপাদন করায় তারা দূর-দূরান্ত থেকে চারা কিনতে আসেন। তবে বীজের দাম আরও কম হলে কৃষককে আরও কম দামে চারা দেওয়া সম্ভব। চারা কিনতে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের নিজাম উদ্দিন ও নোয়াখালী সোনাপুর থেকে আসা আবুল কাশেম বলেন, সমেশপুরে ভালো চারা পাওয়া যাওয়ায় আমরা প্রতি বছর চারা কিনতে আসি। এখান থেকে যাতায়াত ব্যবস্থাও ভালো। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর কুমিল্লার উপ-পরিচালক মো. আসাদুল্লাহ বলেন, দীর্ঘদিন থেকে সমেশপুরসহ কয়েকটি গ্রামের কৃষক সবজির চারা উৎপাদন করছেন। এখান থেকে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কৃষকরা চারা নিয়ে ভালো ফলন পাচ্ছেন।

Views: 40