টুকরো কাপড়ে দিন বদল

তৈরি পোশাক কারখানার ফেলে দেয়া টুকরো কাপড় দিয়ে ছোটদের পোশাক তৈরি করে দিন বদল করেছেন নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের উদয়দী গ্রামের তাসলিমা বেগম। ৩ বছর আগে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা থেকে সেলাই ও কাটিংয়ের প্রশিক্ষণ নিয়ে বাড়িতেই গড়ে তোলেন ছোট্ট একটি পোশাক তৈরির কারখানা। শুরু করেন ছোটদের পোশাক তৈরির কাজ। নজরকাড়া ডিজাইনের পোশাক তৈরি করে অল্পদিনের মধ্যেই এলাকার সাড়া ফেলে দেন। বাড়তে থাকে ক্রেতা। প্রথম বছরেই দেখতে পান লাভের মুখ। এরপর তাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি।
সরেজমিন জানা যায়, ১৫ বছর আগে স্থানীয় যুবক কাসেমের সঙ্গে বিয়ে হয় তাসলিমার। স্বামী স্থানীয় একটি (পাওয়ার লুম) কারখানায় সপ্তাহিক বেতনে কাজ করতেন। সপ্তাহ শেষে যা পেতেন, তা দিয়েই কোনো মতে চলত তাদের সাত সদস্যের পরিবার। স্বামীর একার আয়ে তিন বেলা তিন মুঠো ভাত জোগাড় করাই ছিল কষ্টসাধ্য। সন্তানদের লেখাপড়ার কথা চিন্তাই করতে পারছিলেন তাসলিমা। স্বামী, স্ত্রী মিলে দিনরাত পরিশ্রম করলেও অভাব যেন পিছু ছাড়ছিল না। এ সময় স্থানীয় এক নারীর পরামর্শক্রমে ব্র্যাক ইকোনমিক্স ইমপাওয়ারম্যান্ট ফর পুওর অ্যান্ড ভালনারেবল (ইইপি) জিজেডি’র প্রকল্পের অধীনে সেলাই ও কাটিং প্রশিক্ষণে ভর্তি হন। অল্পদিনের মধ্যেই তিনি রপ্ত করে ফেলেন পোশাক তৈরির নানা কলাকৌশল। প্রশিক্ষণ শেষে বাড়িতে বসেই ছোটদের পোশাক তৈরির কাজ শুরু করেন। নজরকাড়া ডিজাইনের পোশাক তৈরি করে অল্পদিনের মধ্যেই এলাকায় সাড়া ফেলে দেন তিনি। বাড়তে থাকে ক্রেতা। প্রথম বছরেই তিনি লাভের মুখ দেখতে পান। পরে তিনি ব্যবসার পরিধি বাড়াতে তৈরি পোশাক কারখানার ফেলে দেয়া টুকরো কাপড় দিয়ে বাড়িতেই গড়ে তোলেন ছোটদের পোশাক তৈরির কারখানা। প্রথমে পাঁচটি সেলাই মেশিন দিয়ে শুরু করলেও স্থানীয় একটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ২০ মেশিন কেনেন। তাসলিমা নিজেই কাপড় কাটিং করেন। এলাকার নারী শ্রমিকরা বিভিন্ন মজুরিতে সেলাই করেন। এতে স্থানীয় অনেক নারীর কর্মসংস্থানেরও সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এলাকায় তার প্রতিষ্ঠানটি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে। বিভিন্ন এলাকার পাইকারি পোশাক বিক্রেতারা অর্ডার দিতে প্রতিদিনই তার বাড়িতে ছুটে যাচ্ছেন। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্ষুদ্র (ফেরি) ব্যবসায়ীরা পাইকারি দরে পোশাক কিনে বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করেন।
তাসলিমা জানান, ২০১৩ সালে সেলাই ও কাটিংয়ের ওপর ১৫ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ নেন। অল্পদিনের মধ্যেই তিনি পোশাক তৈরির নানা কলাকৌশল রপ্ত করে ফেলেন। পরে বাড়িতে বসেই ছোটদের পোশাক তৈরির কাজ শুরু করেন। তাসলিমা বলেন, এক সময় সংসার চালাতে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। ইইপি থেকে সেলাই কাজ শিখে গার্মেন্টের ফেলে দেয়া টুকরা কাপড় দিয়ে বাড়িতে বসেই ছোটদের পোশাক তৈরি করে ভালো আছি। এখানে এলাকার ২০ জন নারীর কাজ করে সংসারের খরচ মেটাচ্ছেন। সব খরচ বাদে প্রতি মাসেই তাসলিমার ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা আয় হচ্ছে।
শ্রমিক জাহানারা বেগম বলেন, তার সাত সদস্যের পরিবারে স্বামী বাছেদ মিয়ার একার আয়ে কোনো মতে চলতে হতো। এখন তাসলিমার প্রতিষ্ঠানে কাজ করে সপ্তাহে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা মজুরি পাচ্ছেন। তা দিয়ে আগের তুলনায় সংসার ভালো চলছে। তাসলিমার স্বামী কাসেম বলেন, আগে পাওয়ারলুমে কাজ করতাম। এহোন নিজের কারখানার কাপড় বিভিন্ন বাজারে কাপড় পাইকারি ও খুচরা বেইচ্চা সংসার চলছে। সংসারের অভাব দূর হয়ছে।