হকিতে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

হংকং উড়ে যাওয়ার আগে দেশবাসীকে শিরোপা উপহার দেওয়ার কথা বলেছিলেন হকি দলের অধিনায়ক রাসেল মাহমুদ জিমি। কথা রেখেছেন। এএইচএফ কাপ হকি চ্যাম্পিয়নশিপে দুরন্ত খেলে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। ২০০৮ ও ২০১২ সালের পর ২০১৬ সালেও শিরোপা জিতেছেন জিমিরা। শিরোপা জিততে বাংলাদেশ গতকাল ৩-০ গোলে হারিয়েছে শ্রীলঙ্কাকে। গোল তিনটি করেন হাসান জুবায়ের নিলয়, আশরাফুল ইসলাম ও কামরুজ্জামান রানা। অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে ২০১৭ সালের এশিয়া কাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলবে বাংলাদেশ। যা ঢাকায় হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। ২০০৮ সালে সিঙ্গাপুরে এবং ২০১২ সালে থাইল্যান্ডে শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। বরাবরের মতোই টুর্নামেন্টটিতে ফেবারিট ছিলেন জিমিরা। তবে এবারের শুরুটা ছিল একটু ঘাম ঝরানো। যদিও চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেওয়ার আগে ইউরোপে বেশ অনেকদিন অনুশীলন করেন জিমিরা। সেখানে বেশ কয়েকটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলে। প্রস্তুতি ম্যাচগুলোর প্রভাব পড়েছে ম্যাচগুলোতে। অবশ্য চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক হংকংয়ের বিপক্ষে ৪-২ গোলে জয়ের পর চাইনিজ তাইপেইকে একই ব্যবধানে হারান জিমিরা। তৃতীয় ম্যাচে নিজেদের মেলে ধরেন আশরাফুলরা। আশরাফুলের হ্যাটট্রিকে ১৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারায় ম্যাকাওকে। টানা তিন জয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে জায়গা নেয় সেমিফাইনালে। ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে পাত্তাই দেয়নি সিঙ্গাপুরকে। ৮-০ গোলে উড়িয়ে জায়গা করে নেয় ফাইনালে। গতকাল হংকংয়ের কিংস পার্ক স্টেডিয়ামে ২২ মিনিটে ফিল্ড গোলে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেন নিলয় (১-০)। ৬১ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার স্পেশালিষ্ট আশরাফুল দ্বিতীয় (২-০) এবং ৬৭ মিনিটে তৃতীয় ও শেষ গোলটি করে রানা (৩-০)। টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ ৫ ম্যাচে গোল করেছে ৩২টি এবং খেয়েছে মাত্র ৪টি। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৯টি আশরাফুল, ৪টি করে জিমি, চয়ন ও রোমান এবং ৩টি গোল করেন সারোয়ার। ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে দাঁড়াতে না দিলেও সাম্প্র্রতিক সময়ে দলটি বেশ ভোগাচ্ছে বাংলাদেশকে। ২০১৪ সালের এশিয়ান গেমসের বাছাইয়ের ম্যাচটি নির্ধারিত সময় ২-২ গোলে ড্র ছিল। এরপর পেনাল্টি শুট আউটে ৩-০ গোলে হেরে যায় বাংলাদেশ। অবশ্য একই বছর ওয়ার্ল্ড লিগে ৩-২ গোলে জিতেছিল বাংলাদেশ। চলতি বছর দক্ষিণ এশিয়ান গেমসের গ্রুপ পর্বে ২-০ এবং পরে ৪-১ গোলে হারিয়ে ব্রোঞ্জ জয় করে বাংলাদেশ।