জাহাজ আগমন বেড়েছে মোংলা বন্দরে

নব্বই দশকের মৃতপ্রায় মোংলা বন্দরটি দীর্ঘ দেড় দশক পর লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। বন্দর ব্যবহারে অনীহা প্রকাশ করা ব্যবসায়ীরাই এখন এ বন্দরই ব্যবহার করছে। সরকারের সুনজরে বন্দর পরিচালনায় দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও সময়োপযোগী পদক্ষেপের কারণে পণ্য ওঠানামা বেড়েছে। নির্মাণ করা হচ্ছে পদ্মা সেতু, খুলনা-মোংলা রেললাইন। কিছুদিন আগেও বন্দরে ১৫ দিনেও একটি জাহাজ আসত না। এখন একই দিনে ছয়টি জাহাজ ভেড়ার নজির সৃষ্টি হয়েছে।

বন্দর চ্যানেল ড্রেজিং হওয়ায় এখন সাত থেকে সাড়ে সাত মিটার ড্রাফটের (গভীর) জাহাজ আসা-যাওয়া করছে। পণ্য আমদানি বেড়েছে ৩০ শতাংশ। সেইসঙ্গে জাহাজ আগমন বেড়েছে ২০ শতাংশ। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে পণ্য ওঠানামা হয়েছে ৪৫ লাখ মে. টন এবং একই অর্থবছরে বন্দরে রাজস্ব আয় হয়েছে ১৭০ কোটি টাকা। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে পণ্য ওঠানামা করেছে ৫৮ লাখ মে. টন এবং এ বছরে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১৯৫ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের তুলনায় পণ্য হ্যান্ডলিং হয়েছে ১৩ লাখ মে. টন বেশি এবং রাজস্ব বেশি হয়েছে ২৫ কোটি টাকা। প্রতিবছরই ধারাবাহিকভাবে পণ্য ওঠানামা এবং রাজস্ব আয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্ট বন্দর ব্যবহারকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে একটি লোকসানি বন্দর থেকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে ফিরে আসার কারণ। এ প্রসঙ্গে মেসার্স নুর অ্যান্ড সন্সের স্বত্বাধিকারী স্টিভিডরস ও শিপিং এজেন্ট এইচ এম দুলাল বলেন, ‘বন্দরে পণ্য ওঠানামার জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে। ফলে বন্দরের দক্ষতা বেড়েছে, খরচ কমেছে এবং সময় কম লাগছে।’

এইচ এম দুলাল আরো বলেন. ‘স্বল্প সময় পণ্য খালাসে কিছুটা সাশ্রয়ের কারণে ব্যবসায়ীরা দিন দিন মোংলা বন্দর ব্যবহারে আগ্রহী হয়ে উঠছে।’

বন্দর ব্যবহারকারী মাস্টার স্টিভিডরস ও পৌর মেয়র মো. জুলফিকার আলী বলেন, ‘বন্দর সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে এখন বন্দর জেটিতে পণ্য ওঠানামায় খুবই ভালো সেবা দিচ্ছে। তবে বয়াগুলোতে অবস্থানকৃত জাহাজের পণ্য খালাসে অনেক সময় লাইটারেজ ভেসেল (কার্গো বার্জ) সংকটে পণ্য খালাস ব্যাহত হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বন্দরে দ্রুত পণ্য খালাসের ধারাবাহিকতা থাকছে না।’

এ প্রসঙ্গে মোংলা বন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি মো. সামচুল আলম বলেন, ‘বন্দরে পণ্য খালাস, বোঝাই এবং সময়—সবই সহনীয় পর্যায়ে আছে। পণ্য খালাসে সময় কিছুটা কম লাগছে, তবে পোর্টে খরচ বাড়েনি।’

বন্দরে জাহাজ আসা-যাওয়া ও পণ্য ওঠানামা এবং বন্দরের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে খুলনা শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ক্যাপ্টেন মো. রফিকুল ইসলামের মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি এককথায় ‘ভালো’ বলে জানান।

মোংলা বন্দরকে আরো যুগোপযোগী এবং লাভজনক করে গড়ে তুলতে বন্দর চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী রিয়ার অ্যাডমিরাল রিয়াজ উদ্দীন আহম্মেদ বিএনএ বলেন, ‘মোংলা বন্দরের ভবিষ্যত্ খুবই উজ্জ্বল। মোংলা বন্দরকে ঘিরে বর্তমান সরকারের গ্রহণ করা উন্নয়ন প্রকল্পের সুবিধাগুলো কাজে লাগাতে ইতিমধ্যে মোংলা বন্দর সব প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ইতিমধ্যে বন্দরকে আধুনিক ও যুগোপযোগীকরণে বন্দর বহরে দুটি ড্রেজার, দুটি পাইলট ভেসেল, দুটি হাইস্পিডবোট যোগ হয়েছে।

রিয়াজ উদ্দীন আরো বলেন, ‘এ বন্দরকে ঘিরে সরকারের গ্রহণ করা মেগা মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে মোংলা বন্দরই হবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নের স্বর্ণদুয়ার।’