কৃষি হাসপাতালের বিনামূল্যে বীজ বিতরণ

অনাবাদি জমিতে ফসল উৎপাদনের জন্য এবার বিনামূল্যে রবিশস্যের বীজ বিতরণ করে কৃষিতে সাড়া ফেলে দিয়েছে তুজুলপুর এলাকার কৃষি হাসপাতাল। এলাকাবাসী জানায়, কৃষি ক্লাবটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে কৃষিতে পিছিয়ে পড়া ক্ষুদ্র ও দরিদ্র কৃষকদের সংগঠিত করে কৃষিতে একের পর এক দৃষ্টান্তমূলক ভূমিকা রেখে চলেছেন এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি। কৃষি ক্লাবের সভাপতি ইয়ারব হোসেন কৃষকদের জন্য একজন মহৎ প্রাণের মানুষ। কৃষকরা জানান, বীজ ব্যাংক থেকে সম্প্রতি ৪১ জন কৃষককে বিনামূল্যে সরিষা ও মুশুরীর বীজ বিনামূল্যে প্রদান করা হয়েছে। কৃষকরা বিনা টাকায় বীজ পেয়ে খুব খুশি। গতকাল সকালে কথা হয় গ্রামের অনেক কৃষক-কৃষানীর সঙ্গে। মিষ্টি রোদে বসে হেসে হেসে কথা বলেন তারা। হতাশার ভাঁজ নেই কারোর কপালে। তাদের চোখে মুখে অনেক প্রাপ্তির ঝিলিক। কৃষি খবর জানতে কথা হয় কৃষক আয়উব আলী, জুল ভিত, আবদুল বারিক, আবু বক্করসহ অনেকের সঙ্গে। তারা জানান, অভাব অনাটন তাদের নিত্য সঙ্গী। এবার বীজ পেয়ে তারা ফসল উৎপাদন করে পরিবারের অভাব অনাটন দূর করবেন। মাঠের ফসলে এবার ক্ষতিকর কীটনাশক ব্যবহার হবে না। ফসল ফলাতেও খরচ কম। বন্ধু পোকার সহয়তা পাওয়ার কৌশলও শেখাবে কৃষি হাসপাতালের সদস্যরা। তাই খুশিতে গদ গদ বাড়ির বউ-ঝিরাও। কৃষি হাসপাতালের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রহমান জানান, কৃষি হাসপাতাল থেকে বিনামূল্যে বীজ গ্রহণ করে কৃষকরা এবারও ফসল উৎপাদন করবে। কৃষকরা যে পরিমাণ বীজ গ্রহণ করবে আবাদ শেষে তারা একই পরিমাণ বীজ ব্যংকে ফেরত দেবে এই শর্তে এলাকার কৃষকদের বীজ দেয়া হচ্ছে। বীজ গ্রহণকারী কৃষকদের নাম রেজিস্টার খাতায় লেখা থাকে। মাঠ পরিদর্শনে উৎপাদিত ফসলের মান দেখা হয়। কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হয়। পরে মাঠ থেকে ভালো মানের বীজ সংগ্রহ করে তা বীজ ব্যাংকে রাখা হয়। একই নিয়ম অন্য ফসলের ক্ষেত্রেও। কৃষি ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ইয়ারব হোসেনও জানালেন একই কথা। তিনি বলেন, এলাকার অনাবাদি জমিগুলো আবাদযোগ্য করে প্রান্তিক কৃষকদের ভ্যাগ্যের উন্নয়নসহ দেশের খাদ্য উৎপাদনে ভূমিকা রাখার জন্য এলকার কৃষকদের সংগঠিত করা হয়েছে। কৃষকরা বিনামূল্যে রাসায়নিক মুক্ত ফসল উৎপাদন করে এলাকায় ঘটিয়ে চলেছেন নীরব কৃষি বিপ্লব। আমাদের কৃষি, আমাদের কৃষক, উন্নয়ন ও অগ্রগতির বড় হাতিয়ার। ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিকের সহায়তায় গড়ে ওঠা সাতক্ষীরা বীজ ব্যাংক ও প্রস্তাবিত কৃষি হাসপাতালের সভাপতি ইয়ারব হোসেন আরো াজানান, কৃষকের বীজ কৃষকের অধিকার। কিন্তু আজ কৃষকের হাতে কোন বীজ নেই। বীজ বহুজাতিক কোম্পানির হাতে। তাই এই ব্যাংকে সাতক্ষীরা অঞ্চলের সব ধরনের বীজ সংরক্ষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সংরক্ষণ করা হচ্ছে কৃষির ঐতিহ্যবাহী সব যন্ত্রপাতি। আমাদের লক্ষ্য বীজ সংরক্ষণে কৃষকদের উৎসাহিত করা। বীজ বণ্টন নিয়ে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রহমান জানান, এখান থেকে কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ দেয়া হয়।
শর্ত হলো ফসল কর্তনের পর সমপরিমাণ বীজ ফেরত দিয়ে যেতে হবে।