জাবিতে পাখি দেখে মুগ্ধ নাইপল

কোনো আমন্ত্রণে নয়, অনুষ্ঠানে নয়, মতবিনিময় করতেও নয়- শুধু অতিথিপাখি দেখার টানে গতকাল রোববার অনির্ধারিত ব্যক্তিগত সফরে সারা দুপুর-বিকেল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিলেন ঢাকা লিট ফেস্ট উপলক্ষে বাংলাদেশে সফররত সাহিত্যিক নোবেলজয়ী স্যার বিদ্যাধর সুরজপ্রসাদ নাইপল। প্রায় ঘণ্টাখানেক তার একান্তে কেটেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্যপ্রজাতি সংরক্ষণ কেন্দ্রসংলগ্ন জলাশয়ে। মুগ্ধ চোখে তিনি দেখেছেন জলাশয়জুড়ে সরালি, ঘারগিনি, নিশিবক, ধলাবকসহ নানা প্রজাতির পাখির জলকেলি আর ডানা ঝাপটানো। দেখেছেন পাখিদের আকাশের দিকে উড়ে যাওয়া আর ফের মাটি ও জলের টানে ফিরে আসা। এই সৌন্দর্য উপভোগের সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী নাদিরা পল।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শীতকালীন এই নৈসর্গিক সৌন্দর্যের কথা অনেক আগেই নাইপল জানতে পারেন বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে। তাই ব্যক্তিগত সফরে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিথিপাখি দেখতে উৎসাহী হন তিনি। আবেগাপ্লুত নাইপল বলেন, ‘এ বিশ্ববিদ্যালয়ের নৈসর্গিক সৌন্দর্য আমাকে মুগ্ধ করেছে। আমি শুনেছিলাম এখানে অতিথিপাখি আসে। ঢাকার কাছে হওয়ায় না এসে থাকতে পারিনি।’ হুইলচেয়ারে বসে ঘুরে ঘুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রজাপতি পার্কও দেখেন তিনি। এ সময় তাকে বিভিন্ন প্রজাতির প্রজাপতি দেখান বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মনোয়ার হোসেন তুহিন। ক্যাম্পাস ছেড়ে যাওয়ার আগে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আতিথেয়তা ও আন্তরিকতার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘এই ক্যাম্পাস, এখানকার পাখি ও প্রাকৃতিক পরিবেশের কথা আমার স্মৃতিতে অম্লান হয়ে থাকবে।’

স্যার ভি এস নাইপল

তার এ সফরকালে কোনো গণমাধ্যমের মুখোমুখি হননি। আনুষ্ঠানিক কোনো বৈঠকেও মিলিত হননি। পাখি পরিদর্শনের আগে দুপুর আড়াইটায় স্যার ভি এস নাইপল স্ত্রী নাদিরা পলসহ উপাচার্যের বাসভবনে আসেন। উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম তাদের স্বাগত জানান। এ সময় উপাচার্য বলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আজ এক ঐতিহাসিক ও গৌরবের দিন।’ উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

নোবেলবিজয়ী এই লেখক ঘণ্টাখানেক উপাচার্য ভবনের সবুজ চত্বরে উপাচার্য, উপাচার্যের স্বামী কথাসাহিত্যিক আখতার হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আবুল খায়ের, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, রেজিস্ট্রার প্রমুখ শিক্ষক-কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় উপাচার্য এ দেশের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস, সাহিত্য ও সংস্কৃতি নিয়ে নাইপল পরিবারের সঙ্গে আলাপ করেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃতি ও পাখির স্কেচ-সংবলিত একটি শিল্পকর্ম উপহার হিসেবে তুলে দেন নাইপলের হাতে। ফল বাগানের ফল ও ঘরে তৈরি ক্ষীর দিয়ে আপ্যায়ন করা হয় নাইপল পরিবারকে।

গত ১৪ নভেম্বর ঢাকা লিট ফেস্ট উপলক্ষে নাইপল বাংলাদেশে আসেন। তিনি ঢাকার র‌্যাডিসন ব্লু হোটেলে অবস্থান করছেন। ২০০১ সালে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান। এর আগে ১৯৮৯ সালে তিনি নাইটহুড খেতাব ও ১৯৭১ সালে সাহিত্যের জন্য বুকার পুরস্কার পান।