গবাদিপশু পাখির বর্জ্যে বিদ্যুত উৎপাদনের বিপুল সম্ভাবনা

বাংলাদেশে প্রতিবছর ২০ লাখ টন গবাদিপশু পাখির বর্জ্য সংরক্ষণ করা সম্ভব এবং তা থেকে বছরে ৬২০ গিগা ওয়াট আওয়ার বিদ্যুত উৎপাদন সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে। বাংলাদেশে বর্জ্য থেকে বিদ্যুত উৎপাদনের প্রযুক্তি নিয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে রবিবার এ কথা জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সেমিনারে পাইলট প্রজেক্টের বদলে বাণিজ্যিকভাবে বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। হোটেল লা মেরিডিয়ানে আইএফসি ও ডানিডা’র যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিদ্যুত, জ্বালানি এবং খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানান, সরকার পরিবেশ সংরক্ষণ করেই বাংলাদেশে বিদ্যুত উৎপাদনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যয় কমাতে গবেষণা আরও বাড়ানো প্রয়োজন। নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিভিন্ন উৎস হতে উৎপাদিত বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণের জন্য সরকার কাজ করছে বলেও জানান। তিনি মনে করেন, পাইলট প্রকল্পের বদলে বাণিজ্যিকভাবে বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন। তৃণমূল পর্যায় থেকে বিকল্প জ্বালানি জনপ্রিয়তার কথা উল্লেখ করে এসব কর্মসূচীতে জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা গেলে বিষয়টি আরও ফলপ্রসূ হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। বায়োগ্যাসের ক্ষেত্রে দেশে ধীরে ধীরে অগ্রগতি হচ্ছে। দেশে এখন ৯১ হাজারের মতো বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপিত হয়েছে। বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী ব্যবস্থাপনায় স্থাপিত এসব বায়োগ্যাস প্লান্ট অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক নয়।

জানা যায়, চীনে প্রায় ৪ কোটি বায়োগ্যাস প্লান্ট রয়েছে। যার মাধ্যমে তারা বিপুল পরিমাণ গ্যাস থেকে বিদ্যুত উৎপাদন করছে। ভারতেও এ সংখ্যা প্রায় ৫০ লাখে দাঁড়িয়েছে। আর নেপালে রয়েছে ২ লাখ ৪০ হাজার। জার্মানীতে ৫০ হাজার কিউবিক মিটার বায়োগ্যাস উৎপাদন হয় এমন প্লান্টের সংখ্যায় রয়েছে ৫ হাজার। যেখান থেকে হাজার হাজার বাড়িতে গ্যাস সংযোগ দেয়া হয়েছে।

সারাবিশ্বেই নবায়নযোগ্য জ্বালানি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সেখানে বাংলাদেশে এই প্রযুক্তি এখনও ব্যবহার করা হচ্ছে না। উন্নত বিশ্ব নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দিলেও আমাদের এখানে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার তেমনভাবে শুরু হয়নি।

জার্মানী তাদের বায়োগ্যাস দিয়ে তিন শতাধিক সিএনজি স্টেশন পরিচালনা করছে। তাদের বায়োগ্যাসের প্রধান কাঁচামাল আসছে ভুট্টার গাছ থেকে। ভুট্টা তুলে নেয়ার পরই কেবল তারা গাছের আবর্জনা দিয়ে বায়োগ্যাস উৎপাদনে কাজে লাগাচ্ছে। অথচ বাংলাদেশেও প্রতিবছর ৩ লাখ হেক্টর জমিতে ভুট্টার চাষ হচ্ছে। কিন্তু ভুট্টা তুলে সংগ্রহের পর গাছগুলো আর অন্য কোন কাজে ব্যবহার হয় না। জার্মানীতে উৎপাদিত বায়োগ্যাসের ৩৩ ভাগ আসে ভুট্টার গাছ থেকে। ১১ ভাগ আসে শহরের আবর্জনা, পাঁচ ভাগ আসে আবাসিক এলাকার আবর্জনা থেকে। আর ৫১ ভাগ আসে প্রাকৃতিকভাবে সংগ্রহ করা আবর্জনা থেকে। অথচ বাংলাদেশের বিশেষ করে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনে আবর্জনার কারণে ইতোমধ্যে শহরটি দূষিত নগরী হিসেবে পরিচিত হয়ে গেছে। সেমিনারে, মূল বক্তব্য উপস্থাপনকালে আইএফসি’র কর্মকর্তা মোহাম্মদ তাইফ-উল ইসলাম গবাদিপশুর খামারে বায়োগ্যাস উৎপাদনের প্রযুক্তি ও সম্ভাবনা তুলে ধরেন। তিনি জানান, বাংলাদেশে প্রায় ৯১০০০ বায়োগ্যাস প্লান্ট রয়েছে কিন্তু বাণিজ্যিকভাবে এগুলো খুব একটা লাভজনক নয়। বাংলাদেশে প্রতিবছর ২০ লাখ টন লাইভস্টক বর্জ্য সংরক্ষণ করা সম্ভব এবং তা থেকে বছরে ৬২০ গেগা ওয়াট আওয়ার বিদ্যুত উৎপাদন সম্ভব।

এটি করা হলে গ্রীন হাউস গ্যাস নিঃসরণ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত মিকাইল হেমনিটি উইনথার, আইএফসি’র কান্ট্রি ম্যানেজার ওয়েনডি জো ওরনার এবং স্রেডার সদস্য সিদ্দিক জোবায়ের।

Views: 22