বাড়বে ফলন, কমবে খরচ

গোপালগঞ্জে পরীক্ষামূলকভাবে উৎপাদন করা হয়েছে হাইব্রিড ব্রি-৩ জাতের ধানের সুস্থ-সবল বীজ। এর ফলে কৃষক একদিকে যেমন আর্থিকভাবে লাভবান হবেন, অন্যদিকে বেশি দাম দিয়ে বিদেশি বীজ কিনে প্রতারিত হতে হবে না। শুধু তাই এ জাতের ধান আবাদ করলে ১৪৫ দিনেই ফসল ঘরে তুলতে পারবেন কৃষক। আর একরপ্রতি ফলন পাবেন প্রায় ৯০ মণ। উৎপাদন বাড়াতে কৃষক আসছে বোরো মৌসুমে দেশীয় উৎপাদিত এ বীজে ধান চাষ করবেন, এমন প্রত্যাশা বীজ উদ্ভাবনকারী বৈজ্ঞানিকদের।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে প্রতি বছরই বোরা মৌসুমে বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করে হাইব্রিড ধানের বীজ আমদানি করা হয়। কিন্তু জলবায়ু ও প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত সমস্যার কারণে চারা না গজালে লোকসানের মুখে পড়েন কৃষক। তাই কৃষকদের কথা বিবেচনা করে সদর উপজেলার ঘোনাপাড়া গ্রামে কৃষক হাবিবুর রহমানের জমিতে ব্রি উদ্ভাবিত ব্রি-৩ জাতের ধানের চাষ করা হয়। এতে ফলনও হয়েছে বেশ ভালো। এতে উদ্বুদ্ধ হয়ে কৃষক আসছে বোরো মৌসুমে ব্রি-৩ বীজ দিয়ে চাষাবাদ করার আগ্রহ দেখিয়েছেন। এ জাতের ধান আবাদ করলে ১৪৫ দিনেই ফসল ঘরে তুলতে পারবেন কৃষক। আর একরপ্রতি ফলন পাবেন প্রায় ৯০ মণ। নিজেদের প্রয়োজনীয় ধান রেখে বাড়তি ধান দিয়ে বীজ তৈরি করলে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে বিদেশি হাইব্রিড ধানের বীজ কিনতে হবে না।
কৃষকদের মাঝে সচেতনতা বাড়াতে স্থানীয় চরবয়রা ঘোনাপাড়া উচ্চবিদ্যালয়ে সম্প্রতি ব্রি আঞ্চলিক কার্যালয়, ভাঙ্গা, ফরিদপুর কার্যালয়ের আয়োজনে এবং গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সহযোগিতায় মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়ে উদ্বুদ্ধকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক কিংকর চন্দ্র দাস। এ সময় ব্রি আঞ্চলিক কার্যালয়, ভাঙ্গা অফিসের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ আমীর হোসেন, গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক সমীর কুমার গোস্বামী, অতিরিক্ত উপপরিচালক মোয়াজ্জেম হোসেন, ব্রি গাজীপুরের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোঃ হাফিজার রহমান উপস্থিত ছিলেন। এতে জেলার পাঁচ উপজেলার ৪০ জন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরে কৃষক হাবিবুর রহমানের জমি থেকে কাটা হয় হাইব্রিড ব্রি-৩ জাতের ধান।
হাবিবুর রহমান জানান, বোরো মৌমুমে বেশি দামে বিদেশি বীজ কিনে রোপণ করতে হতো। কিন্তু অনেক সময় চারা অঙ্কুরিত হয় না। এতে আমাদের লোকসান দিতে হতো। যে কারণে এ বছর ব্রি উৎপাদিত ব্রি-৩ ধান রোপণ করি। এতে ফলন ভালো হয়েছে। এ ধান থেকেই বীজ তৈরি করা হবে।
‘ব্রি’ গাজীপুরের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোঃ হাফিজার রহমান বলেন, আমন মৌসুমে কৃষক এ জাতের ধানের বীজ উৎপাদন করতে পারবেন। আর এ বীজ বোরো মৌসুমে আবাদ করতে পারবেন। এতে কৃষককে বেশি দামে হাইব্রিড ধানের বীজ কিনতে হবে না। তারা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন ও প্রতারণার হাত থেকে বেঁচে যাবেন।
ব্রি’র ভাঙ্গা অফিসের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ আমীর হোসেন বলেন, এ বীজ চাষ করে ১৪৫ দিনের মধ্যে কৃষক ফসল ঘরে তুলতে পারবেন। হেক্টরপ্রতি ফলন ৯ মেট্রিক টন অর্থাৎ একরে ৯০ মণ ধান পাবেন কৃষক। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর ফরিদপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কিংকর চন্দ্র দাস জানান, খুব সহজ আর অল্প খরচে এ বীজ উৎপাদন করতে পারবেন কৃষক। এক একর জমিতে কৃষকদের ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হবে। আর একরে এক থেকে দেড় লাখ টাকার বীজ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।
গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক সমীর কুমার গোস্বামী জানান, গোপালগঞ্জে প্রায় ৭৫ শতাংশ জমিতে হাইব্রিড ধানের চাষ হয়ে থাকে। ধানের উৎপাদন বাড়াতে মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কৃষকদের মাঝে দেশে উৎপাদিত বীজ ছড়িয়ে দেয়া হবে। এতে ফলনও ভালো হবে এবং কৃষকও আর্থসামাজিকভাবে লাভবান হবেন।