সুন্দর দেশ রেখে যাওয়াই আমাদের লক্ষ্য

সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদমুক্ত শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টির আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সন্তান যাতে বিপথে না যায় সে জন্য অভিভাবকদের এবং শিক্ষার্থীরা যাতে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদে জড়াতে না পারে সে জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষকদের নজর রাখার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বিজয়ী জাতি হিসেবে বিশ্বসভায় মাথা উঁচু করে চলতে চাই। আমরা সেভাবেই মাথা উঁচু করে চলব। সেইভাবে আমরা বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চাই এবং আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশের উন্নতি হয়। বাংলাদেশ এগিয়ে চলে। বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। কারণ আমরা এ দেশকে ভালোবাসি। দেশের মানুষকে ভালোবাসি। দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করার ব্রত নিয়েই আমরা রাজনীতি করি। নিজের ভাগ্য গড়া না, মানুষের ভাগ্য গড়া। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর দেশ রেখে যাওয়াই আমাদের লক্ষ্য।’

গতকাল শনিবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানসহ চট্টগ্রাম বিভাগের ১১টি জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আরভি মীন সন্ধানী নামে একটি জরিপ জাহাজের কার্যক্রমও উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। বার্তা সংস্থা বাসস এ খবর দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কল্যাণের পথে থাকতে চাই। জনগণের সার্বিক কল্যাণ করাই আমাদের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করতে চাই। তাই সবার প্রতি আমার আহ্বান থাকবে—সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে যেন আমরা আমাদের দেশকে শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারি। ইসলাম শান্তির ধর্ম, ইসলাম সব সময় শান্তির কথাই বলেছে; অথচ কিছু লোকের কারণে খুনখারাবি করে এই ধর্মকে হেয়প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের ধর্মে যে শান্তির কথা বলা রয়েছে, আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.) যে শান্তির কথাগুলো বলেছেন—আমি মসজিদের ইমাম সাহেবদের বলব জুমার নামাজের খুতবায় যেন সেগুলো প্রচার করেন।’

কেউ যেন আর বিপথে না যায় সে জন্য অভিভাবকদের তাঁদের সন্তানদের প্রতি লক্ষ রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অভিভাবকদের তাঁদের সন্তানদের সঙ্গে এমন সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে যাতে সন্তানরা খোলাখুলি তাদের মনের কথাগুলো অভিভাবকদের বলতে পারে।

বিদ্যালয়, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রতিও তিনি তাঁদের ছাত্রছাত্রীদের দিকে নজর দেওয়ার এবং কেউ যেন জঙ্গিবাদ বা মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘সবাই এভাবে সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নিলেই সন্ত্রাস দমনে আমরা যে সফলতা অর্জন করেছি তাকে আরো এগিয়ে নিতে সক্ষম হব।’

আরভি মীন সন্ধানী জাহাজের উদ্বোধন : প্রধানমন্ত্রী গতকাল ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সামুদ্রিক জরিপ জাহাজ আরভি মীন সন্ধানীর কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এর মাধ্যমে দেশের সম্প্রসারিত সমুদ্রসীমায় আগামী মাস থেকে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জরিপকাজ শুরু হবে।

বঙ্গোপসাগরে জীববৈচিত্র্য, বিশেষত সামুদ্রিক মাছ সম্পর্কিত জরিপ পরিচালনায় আরভি মীন সন্ধানী জাহাজটি কাজে লাগানো হবে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এবং মালয়েশীয় সরকার এই জরিপ কাজে কারিগরি সহায়তা দেবে।

অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী ছায়েদুল হক এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব মাকসুদুল হাসান খান চট্টগ্রামের বোর্ড ক্লাব প্রান্ত থেকে ভিডিও কনফারেন্সে বক্তব্য দেন।

‘মন পড়ে আছে চবি ক্যাম্পাসে’ : চট্টগ্রাম থেকে আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জানান, সকাল সাড়ে ১০টায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সুবর্ণ জয়ন্তীর অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এখানে আসতে না পেরে আমার খুব আফসোস হচ্ছে। মন পড়ে আছে চবি ক্যাম্পাসে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে এগিয়ে আসার অনুরোধ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খাওয়াদাওয়ার মধ্যে আপনাদের দায়িত্ব সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সার্টিফিকেট নিয়ে শুধু চাকরি করলেই হবে না। দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করতে হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। আরো উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈ সিং, ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, সংসদ সদস্য ওয়াসিকা আয়েশা খানম, নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সিটি মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী, সাবেক উপাচার্য এ জে এম নুরুউদ্দিন ও চিটাগাং চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মাহবুব আলম তালুকদার। সুবর্ণ জয়ন্তীর বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান।

রিকশাচালকের কথা শোনেন প্রধানমন্ত্রী : গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে কথা বলেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন রিকশাচালক আব্দুস শুক্কুর। প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহেই এই রিকশাচালককে কথা বলার সুযোগ দেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক সামশুল আরেফিন।

প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হওয়ার আগে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. সামশুল আরেফিন স্বাগত বক্তব্য দেন। এ ছাড়া পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ চট্টগ্রামের সভাপতি ডা. এ কিউ এম সিরাজুল ইসলাম, সরকারি কমার্স কলেজের অধ্যক্ষ আইয়ূব ভূঁইয়া, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. সাহাবুদ্দিন ও মহানগর ইউনিটের কমান্ডার মোজাফফর আহমেদ বক্তব্য দেন।

লালদীঘির মাঠে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাবেক মন্ত্রী ও বর্তমান সংসদ সদস্য ডা. আফসারুল আমিন, সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নূরুল আলম চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরী, বিভাগীয় কমিশনার রুহুল আমিন, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলাম, নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) দেবদাস ভট্টাচার্য, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার নূর ই আলম মিনাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিরা।

কৃষক ও মৃিশল্পীর বক্তব্য শুনলেন প্রধানমন্ত্রী : কুমিল্লা থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, প্রধানমন্ত্রী কুমিল্লার তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মতবিনিময়কালে কৃষক ও মৃিশল্পীর বক্তব্য শুনেছেন। কুমিল্লা টাউন হল মাঠে এই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।

কক্সবাজারে লবণ বোর্ড দাবি : কক্সবাজার থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, ফিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারের লবণ ও শুঁটকি উৎপাদনকারী দুজনের সঙ্গে কথা বলেছেন। লবণ উৎপাদনকারী হাবিব উল্লাহ দেশের প্রধান লবণ উৎপাদন কেন্দ্র কক্সবাজারে একটি লবণ বোর্ড গঠনের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে শুঁটকি উৎপাদনকারী আতিক উল্লাহ বলেছেন, বিদেশে তাদের উৎপাদিত শুঁটকি রপ্তানির জন্য সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা দরকার। কক্সবাজার বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন স্টেডিয়াম থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কথা বলেন তাঁরা।