গৌরবের ৫০ বছর উদযাপন

আজ থেকে ঠিক ৫০ বছর পূর্বে চট্টগ্রাম শহর থেকে ২২ কিমি. উত্তরে হাটহাজারী উপজেলার জোবরা গ্রামে মাত্র ২০৪ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা করেছিলো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। দেশের বৃহত্তম বিদ্যাপীঠের শিক্ষার্থীরা দেশ ও জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। গৌরবের ৫০ বছর উদযাপনে দুই দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার। প্রথমদিন (শুক্রবার) চবি উপচার্যের নেতৃতে বেলা ৩টা চট্টগ্রাম শহরস্থ চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে সিআরবি সিরিষতলা পর্যন্ত শোভাযাত্রা বের করে। দ্বিতীয় দিন (শনিবার) ক্যাম্পাস্থ কেন্দ্রীয় মাঠ প্রাঙ্গণে সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানের মূলপর্ব অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টায় নাসরিন আক্তার ও সুকান্ত ভট্টাচার্যের সঞ্চালনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী, স্বীকার বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ এবং সুবর্ণজয়ন্তী বক্তা প্রফেসর ইমিরেটস ড. আনিসুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন পানি সম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন, এমপি ওয়াসিকা আইশা খান, এমপি সাবিহা নিসাসহ অন্যান্যরা। বর্তমান ও প্রাক্তনরা বিভাগ ও ব্যাচ অনুযায়ী বর্ণাঢ্য র‌্যালি নিয়ে অনুষ্ঠানে অংশ নেয়।
১০টা ২৬ মিনিটে জাতীয় সংগীত পাঠ করার পরই প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সর মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যোগ দেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপচার্য ও স্পিকার প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রী তার শুভেচ্ছা বক্তব্যে জাতির জনক, জাতীয় চার নেতা ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। উনি বলেন, দেশকে দারিদ্র্যমুক্ত ও একটি সুশীল জাতি গঠনে উচ্চশিক্ষার বিকল্প নেই। আর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় হলো নৈসর্গিক সৌন্দর্যের এমন একটি প্রতিষ্ঠান। স্বাধীনতা অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান উল্লেখপূর্বক বলেন, সবচেয়ে লজ্জাজনক ব্যাপার হলো আজ আমরা সবাই স্বাধীন হলেও সবাই শিক্ষিত নই। স্বাধীনতার পর জাতির জনক শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব নিয়েছিলেন। কিন্তু ২৫ আগস্ট জাতির জনক হত্যার মাধ্যমে এই চেষ্টাকে রুঁখে দেয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়কে সুন্দর রাখতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অবদান রাখতে বলেন। এছাড়া ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সংগঠনকে শুধু পার্টি, খাওয়া-দাওয়ায় ব্যবস্থ না থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কল্যাণার্থে বিভিন্ন কর্মকা-ে অংশগ্রহণ আহ্বান জানান। বক্তব্য শেষে সুবর্ণজয়ন্তীর শুভ উদ্বোধন এবং স্মারক ডাকটিকিট উন্মুক্ত করেন।
পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ থেকে পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপরই স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কামরুল হুদা। প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চাকসুর ভিপি, চেম্বার অব কর্মাসের চেয়ারম্যান মাহবুবুল আলম তালুকদার এবং বিশেষ অতিথিরা তাদের শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। সুবর্ণজয়ন্তী বক্তা প্রফেসর আনিসুজ্জামান বলেন, প্রারম্ভিক কালে আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলাম। মুক্তযুদ্ধকালীন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ছাত্র ও কর্মচারীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের স্মৃতিচারণ করেন। বিশ্ববিদ্যালয় যে মিশন নিয়ে শুরু করেছিলো গৌরবের ৫০ বছরের ব্যবধানে তা অনেকটা পরিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন সবাইকে ফিরে দেখার সুযোগ করে দিয়েছে এবং স্মৃতিমাখা সেই ছাত্রজীবনে ফিরে যাওয়ার এটাই সুবর্ণ সুযোগ। কেননা সেই ছাত্রজীবনের সাথীরা আজ একসাথে। বর্তমান সরকারের শিক্ষা ক্ষেত্রে সফলতা উল্লেখপূর্বক চবির দীর্ঘায়ু কামনা করেন। জীবিত ও প্রয়াত মুক্তিযুদ্ধাদের গার্ড অব অনার দেন বিশ্ববিদ্যালয় বিএনসিসি। এবং জীবিতদের সম্মাননা ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপচার্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন বক্তব্য প্রদান শেষে অনুষ্ঠানের সভাপতি আজকের প্রথমপর্বের অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। সবার জন্য দুপুরের খাবার ও ইস্পাহানির সৌজন্যে গরম চায়ের ব্যবস্থা করা হয়। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ছিলো মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বর্তমান, প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পরই গান পরিবেশন কনের শিল্পী দিনাত জাহান মুন্নী, তপন চৌধুরী এবং ব্যান্ড সংগীত পরিবেশন করেন আর্টসেল, লালন ও ওয়ারফেজ ব্যান্ড দল।