ব্যাটিংয়ে দেশিদের জয়জয়কার

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) প্রথম দুই আসরে ছিলো একেবারেই বিদেশী তারকাদের দাপট দেখানোর আসর। সেই জায়গা থেকে আস্তে আস্তে বের হয়ে আসছে বাংলাদেশের এই ফ্রাঞ্চাইজিভিত্তিক ক্রিকেট টুর্নামেন্টটি।

 

বিদেশী তারকারা শুরু থেকেই বিপিএলে ভিড় করলেও এবারও এই আসরের ঢাকা পর্ব শেষ হলো দেশী ব্যাটসম্যানদের দাপটের ভেতর দিয়ে। তবে বোলিংয়ে শীর্ষস্থানটি ছাড়া বাকী সেরা অবস্থানগুলো এরই মধ্যে বিদেশীরা দখল করে নিয়েছে।

 

প্রথমেই ব্যাটিংয়ের হিসেবটা বলা যাক। এখন অবদি টুর্নামেন্টের সেরা রান সংগ্রাহকের নামটা বেশ চমক জাগানিয়া— শাহরিয়ার নাফীস। সাধারণত তাকে ঠিক টি-টোয়েন্টির খেলোয়াড় বলে লোকে মনে করে না। একবার আইকন খেলোয়াড় হয়েও এক পর্যায়ে একাদশের বাইরে থাকার অভিজ্ঞতাও হয়েছিলো। জীবনে অনেক উত্থান-পতনের সাক্ষী হওয়া নাফীস আবার ফিরে এসেছেন প্রবল প্রতাপে।

 

এখন পর্যন্ত ৪ ম্যাচে তিনটি ফিফটিসহ ৬১.৩৩ গড়ে ১৮৪ রান করে ব্যাটসম্যানদের সবার ওপরে আছেন। এরপরের চারটি স্থানে আছেন যথাক্রমে মুশফিকুর রহিম, মেহেদী মারুফ, সাব্বির রহমান রুম্মন ও তামিম ইকবাল। সব কয় জন বাংলাদেশী।

 

সর্বোচ্চ রানের ইনিংসের ক্ষেত্রেও গল্পটা একইরকম। বিপিএলে প্রথম সেঞ্চুরিটা ছিলো মোহাম্মদ আশরাফুলের। এরপর থেকে বড় বড় ইনিংস সব বিদেশীরাই খেলেছেন। এবারের আগে ৮টি সেঞ্চুরির মধ্যে তিনটিই ছিলো ক্রিস গেইলের। এবার এখন পর্যন্ত একমাত্র সেঞ্চুরিটা সাব্বির রহমান রুম্মনের। ১২২ রানের দানবীয় এক ইনিংস খেলে বিপিএলের ইতিহাসেরই সর্বোচ্চ ইনিংসের মালিক এখন তিনি।

 

এরপর মুশফিকুর রহিমের আছে অপরাজিত ৮১ রানের ইনিংস। পরে দুটো ইনিংস বিদেশীদের— শাহজাদের ৮০ ও ডেউইড মালানের ৭৮। এরপর আবার এক ঝাক দেশী তারকার বড় বড় ইনিংস। মেহেদী মারুফ ও তামিম ইকবালের ৭৫ রানের করে ইনিংস।

 

বোলিংয়েও বাংলাদেশীরা নেই, তা নয়। শীর্ষ পারফরম্যান্স তো স্বদেশী দুই বোলারেরই। এখন অবদি টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেট খুলনার সফিউল ইসলাম ও ঢাকার মোহাম্মদ শহীদের। দুজনই ৪ ম্যাচ খেলে ৮টি করে উইকেট নিয়েছেন। এর মধ্যে সফিউলের গড় মাত্র ৯.৫০। এরপর সেরা পাঁচে ৭টি করে উইকেট নিয়ে আছেন শহীদ আফ্রিদি, মোহাম্মদ নবী ও জুনাইদ খান।

 

ইনিংস সেরা বোলিংয়ে সবার ওপরে আছেন আবুল হাসান রাজু। রাজশাহী কিংসের এই পেসার খুলনার বিপক্ষে ম্যাচে ২৮ রানে নিয়েছিলেন ৫ উইকেট। এখন অবদি টুর্নামেন্টের একমাত্র ৫ উইকেট শিকারের কৃতিত্বও ওই রাজুর। এরপর ৪টি করে উইকেট শিকারের কীর্তি আছে আফ্রিদি, জুনাইদ, মোহাম্মদ নবী ও সফিউলের।

 

এখনও বিপিএল এক-তৃতীয়াংশ পথও পাড়ি দেয়নি। ফলে মীমাংসা টেনে ফেলা একেবারেই ঠিক না। তবে একটা ব্যাপার সত্যি যে, বিপিএলের দলীয় প্রতিযোগিতাকে একটু পাশ কাটিয়ে বাংলাদেশের লাভালাভের হিসেব কষলে আমাদের সন্তুষ্ট হওয়ার পথেই চলছে টুর্নামেন্টটি। যে কথা ঢাকা পর্বের শেষ দিনে এসে জাতীয় দলের টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম বলছিলেন। তারও বড় স্বস্তির ব্যাপার যে, দেশের খেলোয়াড়রা ভালো করছেন, ‘আপনি যদি খেয়াল করে দেখেন এ বিপিএলে একটা শাহজাদের ওই ইনিংস ছাড়া সব কিন্তু আমাদের স্থানীয় খেলোয়াড়রাই ভালো করেছে। সেরা রান সংগ্রহকারীর দিকেও দেখবেন প্রায় সবই স্থানীয়। আর বিপিএলে ভালো করতে হলে আপনার স্থানীয় খেলোয়াড়দেরই ভালো করতে হবে। সাতজন খেলোয়াড় থাকে ওইখানে সুযোগ থাকে বেশি ভালো খেলার। আমরা যদি প্রতি ম্যাচে তিন জন ভালো করতে পারি এবং এটাই আমাদের লক্ষ্য। বোলিং হোক ব্যাটিং হোক আমাদের স্থানীয় তিনজন ভালো খেললে অপরপক্ষে যত বড় তারকাই থাকুক না কেন সে ম্যাচ জিতবেই। সেটাই আমাদের পরিকল্পনা।’

 

বিপিএল-ঢাকা পর্ব

 

সর্বোচ্চ রান

 

ব্যাটসম্যান          দল          ম্যাচ   রান    গড় সেঞ্চুরি/ফিফটি

 

শাহরিয়ার নাফীস বরিশাল    ৪      ১৮৪   ৬১.৩৩         ০/৩

 

মুশফিকুর রহিম    বরিশাল    ৪      ১৭৪   ১৭৪.০০       ০/২

 

মেহেদী মারুফ      ঢাকা        ৪      ১৭০   ৫৬.৬৬         ০/২

 

সাব্বির রহমান     রাজশাহী   ৪      ১৫৭   ১/০

 

তামিম ইকবাল     চিটাগং      ৪      ১৪৩   ৩৫.৭৫         ০/২

 

সর্বোচ্চ উইকেট

 

বোলার               দল          ম্যাচ   উইকেট   গড়          সেরা

 

সফিউল ইসলাম   খুলনা       ৪      ৮           ৯.৫০      ৪/২৮

 

মোহাম্মদ শহীদ     ঢাকা        ৪      ৮           ১১.৩৭    ৩/২১

 

শহীদ আফ্রিদি      রংপুর       ৩      ৭           ৬.৫৭      ৪/১২

 

মোহাম্মদ নবী       চিটাগং      ৪      ৭           ১০.৪২    ৪/২৪

 

জুনাইদ খান         খুলনা       ৪      ৭           ১২.৫৭    ৪/২৩