কচুরিপানা চাষও লাভজনক!

কোনো জিনিসই ফেলনা নয়। জলজ উদ্ভিদ কচুরিপানাও তেমনি ফেলনা নয়। বানারীপাড়ায় কচুরিপানা চাষ বেশ লাভজনক হয়ে উঠেছে।

উপজেলার অনুন্নত বিল এলাকা বিশারকান্দি। এখানে বারো মাসই জলাবদ্ধ থাকে। যোগাযোগের মাধ্যম নৌকা, জীবিকার মাধ্যম চাষাবাদ। এখানকার চাষাবাদ পদ্ধতি ব্যতিক্রমধর্মী। বেশির ভাগ লোকই তরিতরকারি বা সবজি চাষ করে। ধান চাষ খুব একটা হয় না। এখানকার লোকদের আধুনিক চাষাবাদের সঙ্গে তেমন যোগাযোগও নেই। নিজস্ব উদ্ভাবনীর মধ্য দিয়েই এবং চিরায়ত ধ্যান-ধারণাকে আঁকড়ে এদের জীবন সংসার এবং পেশাগত কাজকর্ম। স্থানীয়ভাবে ওই এলাকার চাষাবাদের জন্য যে উপাদানের প্রয়োজন তা হচ্ছে কচুরিপানা। বেশি ফলন এবং জমির অভাবে অর্থাত্ জলমগ্ন থাকায় জলের উপর ভাসমান ‘ঢুপ’ এর মাধ্যমে ফসল ফলায়। ঢুপ হচ্ছে ভাসমান বিভিন্ন আর্বজনা। বিশেষ করে কচুরিপানার পচন স্তূপ। যা জৈব সারে পরিণত হয়। ভাসমান এ ঢুপের স্তূপের উপরই মূলত এরা চাষাবাদ করে বিভিন্ন সবজির। ফলনও হয় খুব বেশি। জলাবদ্ধ বিল এলাকায় কচুরিপানার চাষ করে প্রতিটি পরিবার। বাধ্য হয়েই এর চাষ করতে হয়। বারো মাসই এ কচুরিপানার প্রয়োজন হয়। শুধু চাষের জন্য নয়। জ্বালানি হিসেবে শুকনো কচুরিপানার প্রয়োজন হয়।

শ্রাবণ, ভাদ্র মাসে কচুরিপানার বংশ বৃদ্ধি হয়। চাষের জন্য তেমন বিশেষ কিছু করতে হয় না। শুধুমাত্র পরিচর্যাই প্রধান। যে কোনো সুবিধাজনক স্থানে স্থায়ীভাবে জীবিত কচুরিপানা বাঁশ দিয়ে বেড়া দিতে হয়। বাঁশ ছাড়াও অন্যান্যভাবেও শুধুমাত্র কচুরিপানা নড়াচড়া না করে এমনভাবে আবদ্ধ করে রাখা হয়।

এলাকাবাসী জানায়, ওই এলাকায় ৮-১০ হাত পানির গভীরতা থাকে। সে অনুযায়ী বাঁশ খাড়াভাবে জলের মধ্যেই পুঁতে রাখতে হয়। ওই বাঁশের সঙ্গে কিছু কচুরিপানা বেঁধে রাখে। এরপর থেকে ধীরে-ধীরে ওই কচুরিপানা বাড়তে থাকে। রবিশস্যের মৌসুমে এ কচুরিপানা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে স্তূপ করা হয়। এক সপ্তাহ থেকে পনের দিনের মধ্যে এর পচন ধরে। তখন সামান্য মাটির আবরণ ও খানিকটা কাঠের গুড়ি দিয়ে দেওয়া হয় ওই কচুরিপানার স্তূপের(ঢুপ) উপর। এরপর বিভিন্ন সবজির চাষ করা হয়। ওই এলাকার লোকজন কচুরিপানার চাষ করে লাভবান এবং আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।