সারা দেশের টেলিফোন লাইন আধুনিকায়নের উদ্যোগ

ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও সিলেট ছাড়া দেশের সব বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও গ্রোথ সেন্টারে স্থাপিত টেলিফোন এক্সচেঞ্জগুলো ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে চালু রয়েছে। আয়ুষ্কাল ফুরিয়ে যাওয়া এসব এক্সচেঞ্জের প্রযুক্তিও সেকেলে এবং খুচরা যন্ত্রাংশ পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) আইপি কোর সিস্টেমও অনেক পুরনো ও নাজুক অবস্থায় রয়েছে। এ অবস্থায় চিন সরকারের নমনীয় ঋণে সারা দেশের বিভাগীয় শহর, জেলা শহর ও উপজেলায় ১৬ লাখ টেলিফোন লাইনের ক্ষমতাসম্পন্ন আইএমএস প্লাটফর্ম স্থাপন করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ‘মডার্নাইজেশন অব টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক ফর ডিজিটাল বাংলাদেশ (এনটিএন)’ শীর্ষক একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট খরচ হবে ২ হাজার ৫৭৬ কোটি ৮২ লাখ ১৩ হাজার টাকা। এর মধ্যে এক হাজার ৮১৭ কোটি ২৭ লাখ ৯৪ হাজার টাকা চিন সরকারের কাছ থেকে নমনীয় ঋণ হিসেবে পাওয়া যাবে। অবশিষ্ট ৭৫৯ কোটি ৫৪ লাখ ১৮ হাজার টাকা সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে দেওয়া হবে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ প্রকল্পটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে। কমিশন চূড়ান্ত করলে শিগগিরই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উত্থাপন করা হবে। একনেক চূড়ান্ত অনুমোদন দিলে প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে বিটিসিএল। প্রকল্পের মেয়াদকাল ধরা হয়েছে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ জানায়, দেশের গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত স্বনির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী মূল্যে আইসিটি সুবিধা পৌঁছে দেওয়া, দেশের সমগ্র জনসাধারণের জন্য টেলিডেনসিটি ও টেলি এক্সচেঞ্জ সুবিধার সম্প্রসারণ, আইসিটি সেবা উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ এবং দারিদ্র্য বিমোচন করাই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।

বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য অর্জন করতে হলে দেশে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তিগত অবকাঠামো নির্মাণ ও একই সঙ্গে টেলিফোন সেবা প্রদানকারী যন্ত্রপাতি আধুনিকায়ন করা জরুরি। টেলিকমিউনিকেশন্স নেটওয়ার্ক স্থাপনের মাধ্যমে দেশের আপামর জনসাধারণের কল্যাণের জন্য ই-গভর্নেন্স, ই-কমার্স, ই-এডুকেশন, ই-সায়েন্স, ই-হেলথ, ই-এগ্রিকালচার এবং অন্যান্য কার্যক্রমের সুবিধা পৌঁছানো সম্ভব হবে। ফলে এ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে জনসাধারণ অল্প খরচে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার এবং শেয়ার করতে পারবে।

এদিকে বর্তমানে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত ব্রডব্যান্ড সেবা সম্প্রসারিত হচ্ছে। তাই দেশব্যাপী বিস্তৃত একটি আধুনিক ও শক্তিশালী আইপি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা খুবই জরুরি। এ প্রেক্ষাপটে দেশব্যাপী আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সেবা দেওয়ার জন্য এটিসিএল ২০০৯ সালে ‘ইনস্টলেশন অব এনজিএন টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক ফর ডিজিটাল বাংলাদেশ (এনটিএন)’ শীর্ষক একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়ন করে। প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেক সভায় গত ২০১৪ সালের এপ্রিলে অনুমোদন পায়। কিন্তু ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত না হওয়ায় প্রকল্পের কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি।

পরবর্তী সময়ে ‘ইনস্টলেশন অব এনজিএন টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক ফর ডিজিটাল বাংলাদেশ (এনটিএন)’ শীর্ষক প্রকল্প বাতিল করে নতুন প্রকল্প গ্রহণে সরারসরি সিদ্ধান্তের ধারাহিকতায় বিটিসিএল দেশব্যাপী আধুনিক প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে বর্তমানে ‘মডার্নাইজেশন অব টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক ফর ডিজিটাল বাংলাদেশ (এনটিএন)’ শীর্ষক প্রকল্পটি প্রণয়ন করেছে। নেটওয়ার্ক সম্প্রাসারণের মাধ্যমে দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন, অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং সর্বোপরি দারিদ্র্য বিমোচন কৌশলের লক্ষ্য অর্জনে আলোচ্য প্রকল্পটি সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। এ ছাড়া সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা এবং ওয়ার্ল্ড সামিট অন ইনফরমেশন সোসাইটি (ডব্লিউএসআইএস) অ্যাকশন প্ল্যানের মাধ্যমে ডিজিটাল সেতুবন্ধের ক্ষেত্রে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

প্রকল্পের মূল কার্যক্রম-আইএমএস প্লাটফর্ম স্থাপন যার ধারণ ক্ষমতা ১৬ লাখ টেলিফোন লাইন, অপটিক্যাল ট্রান্সপোর্ট নেটওয়ার্ক স্থাপন, ওএফসি এবং কপার নেটওয়ার্কের জন্য ওএসপি ওয়ার্ক, বিটিসিএলের আইপি নেটওয়ার্ক স্থাপন, নেটওয়ার্ক অপারেশন এবং রক্ষণাবেক্ষণকেন্দ্র স্থাপন এবং প্রশিক্ষণ ও কারিগরি জ্ঞান দেওয়া।